অল্পশিক্ষিত ও প্রশিক্ষণবিহীন সদস্যরা জীবন ধারণের তাগিদে পরিবারের স্বল্প মূলধন ও সহজলভ্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ঘরে বসে বিভিন্ন দ্রব্য উৎপাদন করলে তাকে কুটির শিল্প বলে।
শিল্প প্রচুর পরিমাণ শ্রম, মূলধন, কাঁচামাল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণে দ্রব্য উৎপাদন করে তাকে বৃহৎ শিল্প বলে। এ ধরনের শিল্প অধিকমাত্রায় পুঁজিনিবিড় ও পুঁজিনির্ভর হয় এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও শ্রমবিভাগ প্রবর্তন করে। এ শিল্পে উৎপাদনের কাজকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে যে শ্রমিক যে কাজে দক্ষ তাকে সে কাজে লাগানো হয় বলে অধিক সংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ফলে বৃহৎ শিল্প অধিক সংখ্যক শ্রমিকের নিয়োগ দিয়ে বেকার সমস্যার সমাধান করতে পারে।
উদ্দীপকের আলোকে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চা শিল্পের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির উপর নিচে মন্তব্য করা হলো-
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ১৯৭৬-৭৭ সালে প্রথম রপ্তানির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় ৫০০০ কারখানায় তৈরি পোশাক দেশের বাইরে রপ্তানি করা হচ্ছে। উদ্দীপকের রহিম সাহেবের সংগৃহীত তথ্য থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে তৈরি পোশাকের অর্জন ছিল ৪০৭১ মিলিয়ন ও ৪২৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এর অর্জন ছিল ১৩,০৬৫ মিলিয়ন ও ১৪,৭৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ থেকে বলা যায়, এ শিল্পের উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবার চামড়া শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্প হওয়ায় এ শিল্প থেকে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।
উদ্দীপকে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে এ শিল্পের অর্জন ছিল ১০.৫০ ও ১০.৬০ মিলিয়ন বর্গমিটার এবং ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে এর অর্জন ছিল ১০.৫০ ও ১৯.০০ মিলিয়ন বর্গমিটার। এ থেকে বলা যায়, চামড়া শিল্পের উৎপাদন প্রবৃদ্ধির পরিমাণ বাড়ছে
অপরদিকে, চা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল হওয়ায় বাংলাদেশ চা রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। উদ্দীপকের সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫৯.৫০ ও ৬০.০০ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬১.০০ ও
৬০.৭৫ হাজার মেট্রিক টন।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের রহিম সাহেবের সংগৃহীত তথ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এবং চামড়া শিল্পের উৎপাদন পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চা শিল্পের উৎপাদন পূর্বের তুলনায় কম হয়েছে।
উদ্দীপকের আলোকে চামড়া শিল্পের উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত তা হলো
- চামড়া ব্যবসায়ীদেরকে স্বল্প সুদের হারে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
- কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণের উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে।
- চামড়াজাত দ্রব্যের জন্য দেশের বাইরে নির্ভরযোগ্য বাজার অনুসন্ধান করা।
- ফিনিস্ড চামড়ার গুণগত মান উন্নয়নকল্পে গবেষণার ব্যবস্থা করা।
- চামড়া শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- চামড়াজাত দ্রব্য উৎপাদনে পর্যাপ্ত ঋণদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- ছোট ছোট ট্যানারিগুলোর জন্য "ফিনিশিং ফ্যাসিলিটি সেন্টার" চালু করা।
- ছোট ছোট ট্যানারিগুলোর জন্য "ফিনিশিং ফ্যাসিলিটি সেন্টার" চালু করা।
- সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চামড়াজাত দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করা।
- দেশের বাইরে চামড়া পাচার রোধ করা।
- চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সুষ্ঠু 'চামড়া নীতি' প্রণয়ন করা।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, চামড়া শিল্পের উন্নয়নে উক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত।
Related Question
View Allঅল্প শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণবিহীন সদস্যরা জীবনধারণের তাগিদে পরিবারের স্বল্প মূলধন ও সহজলভ্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ঘরে বসে বিভিন্ন দ্রব্য উৎপাদন করে তা-ই কুটির শিল্প।
কোনো একটি দেশ যে সব দ্রব্য আমদানি করে থাকে, তা যদি আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন করা হয় তাকে আমদানি বিকল্পন শিল্প বলে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ইত্যাদি কারণে আমদানি বিকল্পন শিল্প স্থাপন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশ সাধারণত গাড়ি আমদানি করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরেই গাড়ি তৈরির কলাকৌশল ব্যবহার করে গাড়ি তৈরি করতে পারে তাহলে তা আমদানি বিকল্পন শিল্প বলে গণ্য হবে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত শিল্পটি হলো চা শিল্প। নিচে চা শিল্পের সমস্যাগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশের চা শিল্প প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কোনো বছর বৃষ্টি কম হলে চা উৎপাদন কম হয়, কারণ চা উৎপাদনের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। পাহাড়ি অঞ্চলে চা বাগান হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সাথে চা বাগানে যাওয়ার ভালো সড়ক নেই, এমনকি টেলিফোন লাইন, মোবাইল নেটওয়ার্ক বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও অনেক স্থানে অপ্রতুল। চা শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের খুব অভাব, যেখানে ঐতিহাসিক কিছু অবাঙালি পরিবার চা উৎপাদনে নিয়োজিত। তারা শুধু দেখে দেখে কাজ শিখেছে। চায়ের বিকল্প হিসেবে কফির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
পুরাতন পদ্ধতিতে চা চাষের ফলে বিশ্বমানের চা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। চা বাগানগুলোতে প্রায়ই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যার ফলে নিরাপত্তার অভাবে অনেক দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাগান এলাকায় বসবাস করতে চান না। ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন এদের চা অপেক্ষাকৃত উন্নত হওয়ায় রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ এদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে। চা বাগান তৈরি, পাতা প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে বড় মূলধন প্রয়োজন, যা সহজে ফেরত আসে না।
তাই এ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোক্তা, নতুন মূলধন দেখা যায় না। উল্লিখিত এসব সমস্যা বাংলাদেশের চা শিল্পে বিদ্যমান।
চা শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নিচে উক্ত সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-
চা উৎপাদনে আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি প্রয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ করে একরপ্রতি উৎপাদন বাড়াতে হবে। অনাবৃষ্টি ও খরার সময় চা বাগানে পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। অদক্ষ, অশিক্ষিত শ্রমিক-কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে বাগানের পরিচর্যা ও পাতা সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন বাড়বে। চা বাগান এলাকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। চা বাগানের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক স্থাপন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত করতে হবে। বিদেশে চা রপ্তানি বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাপক প্রচারণা, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রদর্শনী মেলায় অংশগ্রহণ রপ্তানি বাজার বৃদ্ধির সহায়ক। চা বাগানগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধাসহ সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই চায়ের গুণগত মান বাড়াতে হবে। চা শিল্পের উন্নয়নে নিবিড় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা একান্ত প্রয়োজন। গুণগত মান বজায় রাখার জন্য চায়ের উত্তম গুদামজাতকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্যাকেটিং প্রয়োজন। চা বাগান, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, চা রপ্তানির সাথে জড়িত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লিখিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চা শিল্পের সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভম্ব বলে আমি মনে করি।
প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা, তা-ই অতি ক্ষুদ্র শিল্প।'
বাংলাদেশে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্প এই দুই চরম বিপরীতধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প।
ক্ষুদ্র শিল্প বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানাভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লাখ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে।
ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাবান শিল্প, দিয়াশলাই শিল্প, কাঠশিল্প, হোসিয়ারি শিল্প, লবণ শিল্প ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!