উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে লবণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কতগুলো নিয়মকানুন মেনে চলা আবশ্যক। যেমন- সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠন, ধূমপান বর্জন, ঘুমের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা, সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ পালন ইত্যাদি। এগুলো মেনে চললে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে তাই এগুলোকেই স্বাস্থ্যবিধি বলে।
বর্তমান প্রজন্ম স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রহিম সাহেবের নাতিরা শহরের যান্ত্রিক জীবনে যন্ত্রমানবে পরিণত হচ্ছে। এ ধরনের জীবনযাপন ব্যবস্থা ব্যক্তিকে অনিয়মতান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত করে ফেলে। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ফাস্টফুড গ্রহণ, পানির পরিবর্তে সফ্ট ড্রিংকস্ পান, ধূমপান করা, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে না যাওয়া বা না ওঠা, ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করার প্রবণতা বেশি। এ ধরনের জীবন প্রণালি ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি রোগে সহজেই আক্রান্ত করতে পারে। যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ইত্যাদি জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফলে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং বার্ধক্য দ্রুত আসে। এছাড়া এসকল রোগ ব্যক্তির দীর্ঘায়ু কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায় আক্রান্ত করে।
সুস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের বিকল্প নেই। কিন্তু আজকের যন্ত্রভিত্তিক জীবনে যন্ত্রমানবরা এ বিষয়ে সচেতন না থাকায় সহজেই তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
রহিম সাহেব তার নাতিদের জীবনযাপন প্রণালি দেখে আশঙ্কা করেছিলেন তার নাতিদের দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের উৎস হলো অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন প্রণালি। বর্তমান প্রজন্ম ধীরে ধীরে এরূপ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় তাদের স্বাস্থ্যহানি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।
বর্তমান প্রজন্মকে এরূপ ভয়াবহ অবস্থা হতে পরিত্রাণের জন্য কতগুলো উপায় অবলম্বন করা প্রয়োজন। যেমন- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠন করা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা এর ফলে শরীরের ওজন ঠিক থাকে এবং নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস গড়ে ওঠে। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমানোর জন্য ধূমপান বর্জন, নিয়মিত একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করা জরুরি। প্রতিটি ব্যক্তি যদি যথাযথ সময় পরিকল্পনা করে চলে তবে তার জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা সহজ হয়। এছাড়া মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Related Question
View Allসুস্বাস্থ্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন।
সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা প্রয়োজন।
নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের ফলে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। জীবনের দীর্ঘতা বা আয়ু বেড়ে যায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই সুস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।
মিসেস শীলা অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করেন এবং তার খাদ্যাভ্যাসও ত্রুটিপূর্ণ। ফলে তার ওজন বেড়ে যাচ্ছে এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় তার খাদ্যাভ্যাস যেরূপ হওয়া দরকার তা হলো-
১. চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের ছয়টি উপাদান সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
২. যথাযথ সময় পরিকল্পনা করতে হবে। খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হবে। খাওয়ার কমপক্ষে দু ঘণ্টা পর ঘুমাতে যেতে হবে।
৩. পরিমিত পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে হবে।
৪. ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস যেমন অতিরিক্ত ক্যালরি এবং ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে।
৫. দৈনিক কিছু শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
৬. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্য গ্রহণে সচেতন থাকতে হবে।
৭. খাদ্য সম্পর্কিত কুসংস্কার পরিহার করতে হবে।
উপরিউক্ত নিয়মে খাদ্য গ্রহণ করলে মিসেস শীলা খুব সহজেই তার স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।
মিসেস শীলার জীবনপ্রণালি সংশোধন না করলে তার শারীরিক জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
মিসেস শীলার বয়স ৪৫ বছর। এই বয়সে সাধারণত মানুষের প্রোটিন ও ফ্যাটের চাহিদা হ্রাস পায় এবং ভিটামিন ও খনিজ লবণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময় প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্য তার খাদ্য তালিকা থেকে কমাতে হবে এবং ভিটামিন ও খনিজ লবণের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মিসেস শীলা পরোটা, মাংস, মিষ্টি, ডিম ইত্যাদি বেশি, পরিমাণে গ্রহণ করেন। এসকল খাদ্য গ্রহণের ফলে তার দেহে অতিরিক্ত ফ্যাট সঞ্চিত হয়ে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া তার সময় ব্যবস্থাপনায়ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। তিনি সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমান। দুপুরে খাওয়ার পর ২ ঘণ্টা ঘুমান, আবার রাতে খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়েন। এই ধরনের জীবনযাপনের ফলে তার গৃহীত খাদ্য পরিপাকে সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং মিসেস শীলার শারীরিক জটিলতা থেকে উত্তরণের জন্য তার জীবন প্রণালির সংশোধন আবশ্যক।
বিপাকজনিত একটি রোগ হলো ডায়াবেটিস।
স্বাস্থ্যরক্ষায় আঁশ জাতীয় খাবার গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি পরিমাণে আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণে রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে। এছাড়া আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে পিত্তথলির রোগ, মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ্ব, এ্যাপেন্ডিকস, হৃদরোগ, স্থূলতা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য রোগের প্রকোপ কমে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!