VGD-এর পূর্ণরূপ হলো- Vulnerable Group Development.
জনসংখ্যার পুনর্বণ্টনের ফলে জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। ফলে জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পায়।
জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন বলতে বোঝায় বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্ব এলাকায় জনসংখ্যাকে স্থানান্তর বা বণ্টন করা। বাংলাদেশের সর্বত্র জনসংখ্যার অবস্থান একই রকম নয়। কাজেই যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশি সেখান থেকে অল্প ঘনত্ব এলাকায় জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জনসংখ্যা পুনর্বণ্টন করতে হবে। এতে জনগণের কর্মসংস্থান হবে। ফলে জীবনযাত্রার মানও বেড়ে যাবে।
রাইমার সমস্যাটি জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাল্যবিবাহ কারণকে চিহ্নিত করে।
বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কমবয়সি নারী এবং ২১ বছরের কম বয়সি পুরুষের বিবাহ বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। বিবাহকে আমাদের দেশে একটি ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করা হয়। এ কর্তব্যবোধের তাড়নায় বাবা-মা তাড়াতাড়ি ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতে তৎপর হন। ফলে বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। কম বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে নবদম্পতির সন্তান-সন্ততির সংখ্যাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, সামাজিক পারিপার্শ্বিকতার কথা বিবেচনা করে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী রাইমাকে তার বাবা বিয়ে দিয়ে দেন। অর্থাৎ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার বেশ আগেই রাইমার বিয়ে হয়। যা বাল্যবিবাহের ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, রাইমার সমস্যাটি জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাল্যবিবাহ কারণকেই চিহ্নিত করে।
সালমা ও সালেহার ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের একই ঘটনা বিদ্যমান বলে আমি মনে করি না।
বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হলো কন্যা শিশুদের উপেক্ষা।
অনেক পরিবারেই পুত্র সন্তানের জন্য যথাসাধ্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও কন্যা সন্তানটির জন্য ততখানি করা হয় না। অল্প বয়সেই মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে তার জন্য পড়ালেখার ব্যয় কমানো যায়। উদ্দীপকে উল্লেখিত সালমার ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি লক্ষ করা যায়। সালমার লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকলেও তার বাবা-মা তাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেন। অর্থাৎ কন্যা হওয়ার কারণেই সালমাকে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের আরেকটি কারণ হলো পুরুষের আধিপত্য।
নারীর ওপর পুরুষের আধিপত্য যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পুরুষরা নারীকে অবলা মনে করে। একই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পুরুষরা নারীদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে অবহেলা করে। উদ্দীপকের শিক্ষিত ও চাকরিজীবী সালেহার ক্ষেত্রেও এরূপ ঘটনার প্রতিফলন দেখা যায়। পুত্র সন্তান না হওয়ার জন্য সালেহার শ্বশুর বাড়ির লোকজন সালেহাকেই দায়ী করছে। অথচ পুত্র বা কন্যা সন্তান হওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর কোনো হাত নেই বরং স্বামীই দায়ী থাকেন। বিজ্ঞান এটি প্রমাণ করেছে, যদিও সন্তান না হওয়ার কারণে নারী-পুরুষ কাউকেই দায়ী করে কোনো ধরনের নির্যাতন চালানো যাবে না।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, সালমা কন্যা শিশুদের উপেক্ষার কারণে এবং সালেহা পুরুষের আধিপত্যের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই তাদের ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের একই ঘটনা নয়, বরং দুটি ভিন্ন ঘটনা বিদ্যমান।
Related Question
View Allবর্তমানে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭।
খাদ্যনিরাপত্তা বলতে খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্য ক্রয় করার ক্ষমতা এবং খাদ্যের পুষ্টি এই তিনটি বিষয়কে বোঝানো হয়।
কোনো রাষ্ট্রে যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যের মজুদ থাকে এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় তখন সেই রাষ্ট্রে খাদ্যনিরাপত্তা আছে বলে মনে করা হয়। খাদ্যনিরাপত্তার ফলে নাগরিকদের মধ্যে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা থাকে না। খাদ্য সংকট মোকাবিলার জন্য সঠিক খাদ্যনীতি বা খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।
সুমির জীবনে প্রথম সমস্যাটি যৌতুক প্রথাকে চিহ্নিত করে।
নারী নির্যাতনের অন্যতম ধরন হচ্ছে যৌতুক। পাত্র বা পাত্রীপক্ষ কর্তৃক পাত্রীকে বা পাত্রকে প্রদেয় অর্থ-সম্পত্তি বা অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীকে যৌতুক বলা হয়। যৌতুক উভয়পক্ষকে প্রদানের রীতি থাকলেও আমাদের সমাজে যৌতুক প্রধানত পাত্রীপক্ষ, পাত্রপক্ষকে বা পাত্রকে প্রদান করে। যৌতুক একটি সামাজিক কু-প্রথা। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে বিয়ের পর পারিবারিক কলহ, স্ত্রী নির্যাতন ও হত্যা, বিবাহ-বিচ্ছেদ ইত্যাদি ঘটে। নারীদের আত্মহত্যার পেছনে যৌতুকপ্রথা অনেকাংশে দায়ী।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমির বিয়ের সময় তার স্বামীকে যে টাকা-পয়সা দেওয়ার কথা ছিল তা দিতে না পারার কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। যা যৌতুক প্রথার একটি কুফল।
সুমির মতো নারীদের যৌতুক প্রথার সমস্যা থেকে রক্ষা করতে উদ্দীপকে বর্ণিত কাজটি অর্থাৎ অর্থনৈতিক কাজ যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ নারী পরিবারের পুরুষ সদস্যের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সংসারের যেকোনো বিষয়ে তাদেরকে বাবা, ভাই ও স্বামীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরশীলতার কারণে সংসারের কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তারা মতামত দিতে পারে না বা তাদের মতামত গ্রহণ করা হয় না। অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা নারীর অবস্থানকে সমাজে ও পরিবারে মর্যাদাসম্পন্ন করে। একজন উপার্জনক্ষম নারী শুধু নিজের ওপর নির্ভরশীল নয়, সংসারের বিভিন্ন বিষয়েও তার সিদ্ধান্ত বা মতামত গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমি তার স্বামীর ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল ছিল বিধায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই তার সাথে খারাপ আচরণ করত। যখন সে সেলাই কাজ করে পরিবারের অর্থনীতিতে অবদান রাখা শুরু করে, তখন পরিবারের সবাই তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।
আমাদের দেশে যেসব নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বামীর ওপর নির্ভরশীল, তারাই নির্যাতনের শিকার বেশি হয়। তবে আত্মনির্ভরশীল নারীরা নির্যাতনের শিকার কম হয়। কেননা তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন থাকে। সুতরাং বলা যায়, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা নারী নির্যাতন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের নতুন জনসংখ্যানীতি গৃহীত হয় ২০০৪ সালে।
সন্ত্রাসের অন্যতম ধরন হলো রাজনৈতিক সন্ত্রাস।
রাজনীতির নামে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা গোষ্ঠীবিশেষ যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে তাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে। সন্ত্রাসীরা, শ্রেণি সংগ্রামের নামে আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!