বিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের শ্রেণিবিন্যাস, মাছ চাষ ও ব্যবস্থাপনা, মাছের প্রজনন, প্রতিপালন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন, মাছের রোগতত্ত্ব তথা মাছ সংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনা করা হয়, তাকে মৎস্য বিজ্ঞান বলে।
লামাছ পচার লক্ষণগুলো হলো-
১. ফুলকার লালচে রং কালচে হয়ে যায়।
২. মাছের দেহ নরম হয়ে যায়।
৩. দেহ ও পেট ফুলে যায়।
৪. চোখ ভিতরে ডেবে যায় ও ঘোলাটে দেখায়।
উদ্দীপকে রাইসুল তার ৫০ শতক আয়তনের পুকুরে রাজপুঁটির চাষ করে।
রাইসুলকে তার পুকুরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে চুন ও সার প্রয়োগ এবং পোনা মজুদ করতে হবে। পুকুরের মাটি ও পানি শোধন এবং উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য শতক প্রতি ১-২ কেজি চুন প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তাই রাইল তার ৫০ শতক আয়তনের পুকুরে ৫০-১০০ কেজি চুন প্রয়োগ করবে। পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য পরিমিত মাত্রায় জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হয়। প্রতি শতকে জৈব সার হিসেবে ৪-৫ কেজি গোবর অথবা ২-৩ কেজি মুরগির বিষ্ঠা এবং অজৈব সার হিসেবে ১০০-১৫০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৮০-১০০ গ্রাম টিএসপি দিতে হয়। এ হিসেবে রাইসুল তার ৫০ শতকের পুকুরে ২০০-২৫০ কেজি গোবর অথবা ১০০-১৫০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা, ৫-৭.৫ কেজি ইউরিয়া এবং ৪-৫ কেজি টিএসপি প্রয়োগ করবে। সার প্রয়োগের ৭ দিনের মধ্যে পোনা মজুদ করতে হয়। প্রতি শতক পুকুরে ৫-৭ সেমি আকারের ৭০-৭৫ টি রাজপুঁটির পোনা মজুদ করা হয়। রাইসুল তার ৫০ শতক আয়তনের পুকুরে ৩৫০০-৩৭৫০টি পোনা মজুদ করবে।
রাইসুল তার পুকুরে রাজপুঁটি চাষের জন্য উপরে উল্লিখিত পরিমাণে চুন ও সার প্রয়োগ এবং পোনা মুজদ করবে।
রাজপুঁটি চাষের জন্য রাইসুলের পুকুর তৈরিতে এবং পুকুরের মাটি ও পানির গুণাগুণে ত্রুটি ছিল।
রাজপুঁটি চাষের জন্য পুকুরের মাটি দোআঁশ ও পলি দোআঁশ এবং মাটির পিএইচ ৬.০-৮.০ এর মধ্যে হলে তা মাছ চাষের জন্য উপযোগী। পুকুরে প্রতি ১০০ গ্রাম মাটিতে ৮-১০ মিলিগ্রাম নাইট্রোজেন থাকা
প্রয়োজন। রাজপুঁটি চাষের পুকুরের পানির বর্ণ হালকা সবুজ, গভীরতা কমপক্ষে ১.৫ মি. থেকে ২ মি. এবং আয়তন ২৫-১০০ শতক হওয়া ভালো।
পুকুর বন্যা বা জোয়ারের পানিতে যেন তলিয়ে না যায় সেজন্য পুকুরের পাড় উঁচু করে দিতে হয়। পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদা থাকলে তা অপসারণ করতে হয়। জলজ আগাছা মাছের পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে এবং পুকুরে সূর্যের আলো প্রবেশে বাধা দেয়। পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, ফলে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মে না। তাই পুকুরের জলজ আগাছা, পুকুর পাড়ের ঝোপঝাড় শিকড়সহ উপড়ে ফেলতে হয়। রাক্ষুসে এবং অবাঞ্চিত মাছ পুকুরের অন্যান্য মাছের সাথে খাবার নিয়ে প্রতিযোগিতা করে এবং অনেক সময় চাষের মাছকে খেয়ে ফেলে। তাই পুকুর থেকে রাক্ষুসে মাছ অপসারণ অথবা ২০-৩০ গ্রাম রোটেনন বা প্রতি শতকে ৪টি ফসটক্সিন ট্যাবলেট প্রয়োগ করতে হয়। সুতরাং বলা যায়, উপযুক্ত পুকুর নির্বাচন ও উল্লিখিত ব্যবস্থাপনাসমূহ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করার কারণে রাইসুলের পুকুরের মাছগুলোর সঠিক বৃদ্ধি হয়নি।
Related Question
View Allকোনো প্রাণীর যথাযথ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়ার জন্য। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাই সম্পূরক খাদ্য।
পুকুরে নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির হার সন্তোষজনকভাবে বাড়ে এবং মাছের ফলন বৃদ্ধি পায়।
পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে প্রাকৃতিকভাবে যে উদ্ভিদ ও প্রাণিকণা জন্মায় তাকে প্লাংকটন বলে। প্লাংকটন উৎপাদনের আধিক্যের ওপর মাছের উৎপাদন নির্ভর করে। ফাইটোপ্লাংকটনের আধিক্যের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। পানিতে এইসব উপাদান অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এছাড়াও মাছ আহরণ, পানি পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে পুকুরে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায়। তাই পুকুরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সার ব্যবহার করে
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান দেওয়া হয়।
চিত্র-ক হলো গলদা চিংড়ি। ধানের সাথে চিত্র-ক অর্থাৎ গলদা চিংড়ি চাষের কৌশল নিচে দেওয়া হলো-
ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে যে জমিতে বছরে ৩-৪ মাস সময় এবং ১০-২০ সেমি গভীরতায় পানি আটকে রাখা যাবে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। জমির আইল শক্ত, মজবুত এবং উঁচু করে তৈরি করতে হবে। পানির গভীরতা সমান রাখার জন্য জমির সকল স্থানে চাষ দিয়ে সমতল রাখতে হবে। জমিতে ভালোভাবে চাষ দেয়ার পর প্রচলিত নিয়মে রাসায়নিক সার ও গোবর সার মিশিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমির ঢাল অনুযায়ী ক্ষেতের ভিতরে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি নালা খনন করতে হবে। প্রতিটি নালা ৫০-৬০ সেমি গভীর এবং ৬০-১০০সেমি প্রশস্ত হতে হবে। নালার মাথায় কিংবা সংযোগস্থানে নালার চেয়ে গভীর ও প্রশস্ত করে গর্ত খনন করতে হবে যার গভীরতা হবে ১ মিটার। এরপর ধানের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হবে। ধানের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধানের চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর চিংড়ির পোনা ছাড়তে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসে ধান রোপণের ১০-১৫ দিন পর সাধারণ নিয়মে গলদা চিংড়ির পোনা প্রতি হেক্টরে ৫ সেমি আকারে ১০-১৫ হাজার হারে মজুদ করা হয়।
উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ধানের সাথে গলদা চিংড়ির চাষ করা হয়।
চিত্র-ক ও চিত্র-খ দ্বারা যথাক্রমে গলদা ও বাগদা চিংড়িকে বোঝানো হয়েছে।
গলদা ও বাগদা চিংড়ির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলো হলো-
বৈশিষ্ট্য | গলদা চিংড়ি | বাগদা চিংড়ি |
|---|---|---|
| মাথা ও ক্যারাপেস | বড় এবং দেহের ওজনের প্রায় অর্ধেক | ছোট এবং দেহের ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। |
| রোস্ট্রাম | লম্বা ও বাঁকানো | খাটো ও সোজা। |
| রোস্ট্রামে কাঁটার সংখ্যা | উপরিভাগে ১১-১৪টি এবং নিচের দিকে ৮- ১৪টি। | উপরিভাগে ৭-৮টি এবং নিচের দিকে ২-৩টি। |
| অ্যানটেনিউল | তিনটি ফ্লাজেলাযুক্ত। | দুটি ফ্লাজেলাযুক্ত। |
| শিরোবক্ষ | অন্যান্য অঙ্গ যেমন- উদর অংশ অপেক্ষা বড় ও উন্নত। | অংশটি অপর অংশের তুলনায় স্বাভাবিক। |
| প্লুরা | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা প্রথম ও তৃতীয় খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত রাখে। | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা কেবল প্রথম খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত করে রাখে। |
| বক্ষোপাঙ্গ | প্রথম দুটি উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। | প্রথম তিন উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। |
| আবাসস্থল | প্রধানত স্বাদু পানি। | লোনা পানি। |
| বর্ণ | হালকা সবুজ বাদামি। | হালকা বাদামি। |
প্লাংকটন হলো পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীব যা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
পুকুরে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য চুন প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
চুন মাটি ও পানির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। পানির পিএইচ মানের ভারসাম্য বজায় রাখে। পানিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়। পানির ঘোলাতু কমায় ও পানি পরিষ্কার রাখে। মাছের রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে। এ সমস্ত কারণে পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!