১৯৭৪ সালের শিশু আইনের মোট ধারা ৭৮টি।
মাঠকর্ম অনুশীলনের মাধ্যমে একজন শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী তার অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়।
মাঠকর্ম অনুশীলনকালে একজন শিক্ষার্থী একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করেন। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, কার্যক্রম, কর্মসূচি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন, প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হন। তাছাড়া রেকর্ডিং, রিপোর্টিং সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন ও বাস্তব প্রয়োগে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। অফিসিয়াল নিয়ম-নীতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। এর ফলে মাঠকর্মী ভবিষ্যৎ পেশা জীবনের জন্য দক্ষ হয়ে ওঠেন।
সমাজকর্মের বিশেষ শাখা আদালত সমাজকর্ম রাকিবকে আইনগত সহায়তা প্রদানে ভূমিকা রাখতে পারে।
আদালত সমাজকর্ম অপরাধীর পক্ষে কাজ করে। বিশেষ করে কিশোর অপরাধী যারা প্রথমবারের মতো আইন লঙ্ঘন করে তাদের জন্য সমাজকর্মের এ শাখা সহায়ক ভূমিকা রাখে। আবার আদালত সমাজকর্ম বয়স্ক অপরাধীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাও দিয়ে থাকে। শিশু ও মহিলাদের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করে আদালত সমাজকর্ম।
উদ্দীপকের রাকিব অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। পাড়ার বখাটে ছেলেদের সাথে মিশে সে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক পাচার করতে গিয়ে সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। অর্থাৎ রাকিব একজন কিশোর অপরাধী। এক্ষেত্রে আদালত সমাজকর্ম তাকে আইনগত সহায়তা প্রদান করতে পারবে। তাই বলা যায়, আদালত সমাজকর্মের আওতায় রাকিব আইনগত সহযোগিতা লাভকরতে পারে।
রাকিবের বিচারকৃত আদালতটি ছিল কিশোর আদালত।
১৯৭৪ সালের শিশু আইনের আওতায় শুধুমাত্র কিশোর-কিশোরীদের অপরাধের বিচারের জন্য কিশোর আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকের রাকিব একজন কিশোর এবং তার বিচার একটি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে করা হয়। তাই বলা যায়, আদালতটি ছিল কিশোর আদালত। কিশোর অপরাধীদের বিচার এবং তাদের সংশোধনের জন্য কিশোর আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের মাধ্যমে গঠিত এ আদালত কিশোর অপরাধীর অপরাধের কারণ বিশ্লেষণ করে তাদের পুনর্বাসন ও সংশোধনের চেষ্টা করে। কিশোর আদালত দেশের অন্যান্য আদালতের মতোনয়। এখানে কোনো শুনানি হয় না। বিচার প্রক্রিয়া হয় ঘরোয়া পরিবেশে। এ আদালতে বাদী-বিবাদী আইনজীবী কেউ থাকে না। এমনকি কোনো শাস্তিও প্রদান করা হয় না। অপরাধীর আত্মীয়-স্বজন, একজন প্রবেশন অফিসার বা সমাজকর্মী এবং আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আদালতে উপস্থিত থাকে। এ আদালতে অপরাধের কারণ, ধরন, উৎস এবং সংশোধনের উপায় খুঁজে বের করা হয়। সার্বিক আলোচনা থেকে বলা বলা যায়, রাকিবের মতো কিশোর অপরাধীদের আচরণ সংশোধনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা জরুরি। এক্ষেত্রে কিশোর আদালত সহায়ক ভূমিকা রাখে।
Related Question
View Allমাঠকর্মী যে সকল নিয়ম-নীতির মাধ্যমে তার কার্য সম্পাদন করে তাকে মাঠকর্ম নীতি বলা হয়।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হচ্ছে সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির পেশাগত অনুশীলন। এ শাখায় মনো-সামাজিক সামঞ্জস্যহীনতা, অক্ষমতা বা আংশিক অক্ষমতা অথবা আবেগীয় ও মানসিক সামঞ্জস্যহীনতার প্রতিকার ও প্রতিরোধে কাজ করে।
সাধারণত শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্যকলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্যার্থীকে সাইকোথেরাপি এবং পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেগুলোই মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না করলে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না। তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পায় না। এমনকি অসুস্থ হলেও তারা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। আর তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ এ সকল মৌলিক মানবিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তাই বলা যায়, তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষরা মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারের সহায়তার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত করে তোলে। গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, বেকার, দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উপার্জনক্ষম করে তোলা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করা এবং গ্রামের সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাও গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর বাইরে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতা দূরীকরণে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচলিত হয়। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেও এ কর্মসূচি কাজ করে থাকে। গ্রামের জনগণের মধ্যে পুষ্টিজ্ঞান, খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, শিশু যত্ন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান, শিশু, যুবক, মহিলা, প্রতিবন্ধী প্রভৃতির জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অক্ষমদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে। একইসাথে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কাজ করে থাকে।
প্রতিটি কাজের সফলতা-বিফলতা বিশ্লেষণ করাই হলো মূল্যায়ন।
পরিবার গঠনে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিবাহ হচ্ছে এমন একটি কার্যপ্রণালি যার মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে। মূলত বিবাহ হচ্ছে পরিবার গঠনের উপায়। কেননা একজন নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে পারিবারিক জীবনের সূচনা ঘটিয়ে দেয় বিবাহ। বিবাহ ছাড়া পরিবার গঠন অসম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!