রাকিব একটি পুরোনো চলচ্চিত্র দেখছিল। চলচ্চিত্রটিতে মূল চরিত্রে যিনি রয়েছেন তার সেনাপতি ও কিছুসংখ্যক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কূটবুদ্ধি ও অন্য দেশি বাণিজ্য গোষ্ঠীর সহায়তার কারণে যুদ্ধের ময়দানে তার পরাজয় ঘটে এবং তার ভাগ্যে বিপর্যয় নেমে আসে। যার ফলে বিদেশি বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ক্ষমতার মসনদে দীর্ঘদিন। ধরে আরোহণ করে থাকে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

বাংলার তিনটি অংশে দিল্লির মুসলিম সুলতানদের তিনটি প্রদেশ বা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ফরাসি ভাষায় ইকলিম হিসেবে পরিচিত ছিল।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
উত্তরঃ

দ্বৈতশাসন ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপম্বরূপ। এ ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায়, সামরিক ব্যবস্থা এবং প্রশাসন পরিচালনার ক্ষমতা চলে যায় ইংরেজদের হাতে। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করে, তা আদায়ের জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত করের বোঝায় যখন জনগণ ও কৃষকের নাভিশ্বাস ওঠে, তখনও করের বোঝা কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেয়নি কোম্পানি শাসক ক্লাইভ। যার ফলে ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তাই এ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থাকে অভিশাপস্বরূপ বলা যায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রাকিবের দেখা চলচ্চিত্রটির সাথে বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।

নাতি সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসলে ক্ষমতার অন্য উত্তরাধিকাররা মনোক্ষুণ্ণ হয়। সিরাজউদ্দৌলার বয়স কম ও অভিজ্ঞতায় নবীন হওয়ার ফলে রাজদরবারে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়ন। তাঁর সেনাপতি মীর জাফর, খালা ঘসেটি বেগম, মীর কাসিমসহ রাজদরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং উমিচাঁদ, জগৎশেঠ ও রাজবল্লভদের মতো তৎকালীন ধনী অভিজাতদের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। নবাবের নির্মম মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে বাংলার মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। 'দি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। উদ্দীপকে রাকিবের দেখা চলচ্চিত্রটিতে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ঘটনার সাথে মিল রয়েছে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে অন্য দেশের বাণিজ্যিক গোষ্ঠী বলতে 'ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া' কোম্পানিকে বোঝানো হয়েছে। যাদের শাসন বাংলায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। তার হত্যার মধ্য দিয়ে মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ বাংলার দেওয়ানি লাভ করে। ফলে বাংলায় ইংরেজ কোম্পানি শাসন শুরু হয়। বাংলার মানুষ পরাধীন হয়ে পড়ে। রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার মতো অভিশপ্ত পদ্ধতি চালু করে। এই অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থায় ক্লাইভবাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভকরল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। এটা ছিল শাসন ব্যবস্থায় ইংরেজ কোম্পানি শাসনের ক্ষমতা দখলের প্রভাব। আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছিল ভয়াবহ। দ্বৈতশাসনের ফলে অতিরিক্ত করের চাপ ও কর্মচারীদের অর্থের লালসা বাংলায় দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত এ দুর্ভিক্ষে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু ঘটে। তবে ইংরেজ কোম্পানি শাসনক্ষমতায় আসায় কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছিল। শিক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- রেল, ডাক ও তার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়, যা পরবর্তীতে নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটেছিল।

তাই বলা যায়, ইংরেজ কোম্পানি শাসনের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
116

বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের আগমন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে হলেও পরে তারা আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয়। এদের মধ্যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়। ১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে তারা ক্ষমতা দখল করে নেয়। বাংলায় ইংরেজদের শাসন চলে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত। এভাবে ১৭৫৭ সালের পরে বাংলায় যে শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সাধারণত আমরা তাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলি। আর ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ইংরেজ শাসনামলকে ঔপনিবেশিক যুগ বলি ।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
উপনিবেশ কী তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার বিস্তার ও অবসানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
বাংলায় ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের আগমন ও বাণিজ্য বিস্তার সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
বাংলায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব; বাংলায় ইংরেজ শাসনের কার্যক্রম ব্যাখ্যা ও মূল্যায়ন করতে পারব;
ইংরেজ কোম্পানি শাসনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
ইংরেজ কোম্পানি শাসনকালে বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করতে পারব; ইংরেজ কোম্পানি শাসনের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব;
ব্রিটিশ শাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
তৎকালীন বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করতে
ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারব,; বাংলার জাগরণের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

উপনিবেশিকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশকে অর্থনৈতিক শোষণ এবং লাভের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলাও প্রায় দুইশ বছর ইংরেজদের অধীনে উপনিবেশ ছিল।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
474
উত্তরঃ

বাংলায় মানব বসতি প্রাচীনকাল থেকেই শুরু হয়। এই অঞ্চল ধনসম্পদে ভরপুর থাকায় বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে এসে বসতি গড়ে তোলে। বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই ছিল বহিরাগতদের আকর্ষণের প্রধান কারণ।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
383
উত্তরঃ

শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শক্তিশালী শাসক না থাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই সময়কে মাৎস্যন্যায় যুগ বলা হয়। এটি সংস্কৃত ভাষায় 'বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে' এমন অরাজকতার সময় নির্দেশ করে। এ সময়ে বাংলা বহু রাজ্য বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
466
উত্তরঃ

বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা হয় ১৩৩৮ সালে। সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
287
উত্তরঃ

সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি বাংলার বৃহদাংশ অধিকার করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে বাংলার ঐক্য, 'স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
258
উত্তরঃ

সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাংলার শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর শাসনকালে বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধি লাভ করে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
9 months ago
303
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews