আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মানুষের যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে সেগুলো উত্তমরূপে পালন করাকে পরোপকার বলে।
পরোপকার আল্লাহ তায়ালার একটি বিশেষ গুণ। সকল সৃষ্টির প্রতি তাঁর রয়েছে অসীম দয়া ও করুণা। তিনি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকলের প্রতিই দয়া করেন। তিনি সকল মানুষকে সমান যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে সৃষ্টি করেননি। এ কারণে মানুষ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। তাই মানুষ হিসেবে আমরা আমাদের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের উপকার করব তথা পরোপকার করব।
উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা জানতে পারি যে, রাকিব একজন স্কুলের ছাত্র হয়েও পরোপকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রাকিবের এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমরা যেভাবে পরোপকার করতে পারি তা নিম্নরূপ- ১. কোনো বৃদ্ধ লোকের বোঝা বহন করার মাধ্যমে তার উপকার করতে পারি। ২. অভাবী ও দরিদ্রদেরকে টাকাপয়সা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের উপকার করতে পারি। ৩. ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দেওয়ার মাধ্যমে তার উপকার করতে পারি। ৪. রুগ্ম ব্যক্তিকে সেবা করার মাধ্যমে তার উপকার করতে পারি। ৫. রিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে আশ্রয় প্রদান ও সুপরামর্শদানের মাধ্যমে তার উপকার করতে পারি।
সর্বোপরি যেকোনো ভালো কাজে এবং বিপদে-আপদে অন্যের সাহায্য করার মাধ্যমে আমরা পরোপকার করতে পারি।
রাকিব একজন পরোপকারী। রাকিবের কাজের ফলাফল নিচে আলোচনা করা হলো-
১. রাকিব অন্যের উপকার করে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভ করবে। কেননা আল্লাহ বলেন وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِين
অর্থ: "তোমরা সৎকর্ম ও পরোপকার কর। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীল ও পরোপকারীদেরকে ভালোবাসেন।" (সূরা আল-বাকারা: ১৯৫)
২. পরোপকার দ্বারা সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। ধনসম্পদ ব্যয় করে এবং ভালো কথা বলেও অপরের উপকার করা যায়। এতে সমাজে ঝগড়া-বিবাদ দূর হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. পরোপকার দ্বারা কঠোর হৃদয়বিশিষ্ট লোকের অন্তরকেও জয় করা যায়। পরম শত্রুকে আপন করা যায়।
৪. আল্লাহর কোনো সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে তিনি দয়াকারী ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করেন। মহানবি (স.) বলেন, "যারা পৃথিবীতে আছে, তাদের প্রতি তোমরা দয়া কর। তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" (আবু দাউদ ও তিরমিযি)।
পরিশেষে বলা যায়, পরোপকারের মাধ্যমে রাকিব আল্লাহর ভালোবাসা ও রহমত লাভ করবে, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করবে। সর্বোপরি পরোপকারের মাধ্যমে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।
Related Question
View Allকআচার-আচরণে, কথাবার্তায়, বেশ-ভূষায় ও চালচলনে মার্জিত পন্থা অবলম্বন করাই শালীনতা।
প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখ কষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণাকারী খাঁটি মুসলমান নয়। প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন। আর এ প্রসঙ্গেই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।
জামিল সাহেবের আচরণে আমরা ক্ষমা গুণের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাই।
মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ ক্ষমা। সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য মানুষের এ গুণটি থাকা খুবই প্রয়োজন। ক্ষমার ব্যাপারে মহান রাব্বুল আলামিনের নীতি ও আদর্শ আমাদের অনুসরণ করা আবশ্যক। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, কোনো কাজে বা কথায় তার ভুলত্রুটি হয়ে যেতে পারে। অতএব অন্যের ভুলভ্রান্তি, ত্রুটিবিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে আমাদের দেখা উচিত।
মানুষকে ক্ষমা করলে আল্লাহ খুশি হন এবং যে ক্ষমা করে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: "আর যদি তুমি তাদের মার্জনা কর, তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা কর এবং ক্ষমা কর তবে জেনে রেখ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" (সূরা তাগাবুন: ১৪)
শিল্পপতি জামিল সাহেবের কর্মচারী জনাব মাযহার আলি পোশাক তৈরিতে কাপড় কম দিয়ে ব্যবসায়ের ক্ষতি করেছেন। মাযহার আলির এরূপ কর্মকাণ্ড প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে।
প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখকষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণাকারী খাঁটি মুসলমান নয়। আমাদের নবি (স.) এ প্রসঙ্গে বলেন, "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়।” (মুসলিম)
প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন। সত্যিকার ইমানদার ব্যক্তি কখনই প্রতারণার আশ্রয় নেয় না। মানুষকে ধোঁকা দেয় না। অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
অন্যের প্রয়োজনে বা উপকারে আসার নামই হলো পরোপকার।
এমন কিছু আচরণ বা কাজ যা মানুষকে হীন, নিচু ও নিন্দনীয় করে তোলে সেগুলোকে আখলাকে যামিমা বা নিন্দনীয় আচরণ বলে। নিন্দনীয় আচরণগুলো হচ্ছে হিংসা, ক্রোধ, লোভ, প্রতারণা, - পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, ইভটিজিং, ছিনতাই প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!