আইন ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাকে বোঝায়। অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য মূল্যহীন। নিঃস্ব ও দরিদ্র মানুষের নিকট সাম্য স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম অর্থনৈতিক সাম্য দরকার বিধায় অর্থনৈতিক সাম্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে বর্ণিত রাখির প্রতি সকলের আচরণে নৈতিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটেছে। মূল্যবোধ বলতে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো একটি নির্বাচনের মানদণ্ডকে বোঝায়।
অর্থাৎ যেসব চিন্তাভাবনা মানুষের সামগ্রিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই সাধারণত মূল্যবোধ বলে। আর নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ থেকে নৈতিক মূল্যবোধের উৎপত্তি। নৈতিক মূল্যবোধ বলতে ঐসব মনোভাব ও আচরণকে বোঝায়, যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও আবশ্যক বলে মনে করে তৃপ্তিলাভ করে। নৈতিক মূল্যবোধ দ্বারা মানুষ সত্যকে সত্য বলে, মিথ্যাকে মিথ্যা বলে, অন্যায়কে অন্যায় বলে, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সাহায্য-সহযোগিতা করে, ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্য ও সত্য-মিথ্যার ভেদাভেদ নির্ধারণ করে থাকে। নৈতিক মূল্যবোধ কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের কাছে নিজের কাজের ব্যাপারে প্রশান্তি এনে দেয় এবং নাগরিক জীবনকে সুন্দর করে ও উন্নত মানে নিয়ে যায়। উদ্দীপকে রাখির বিপদের সময় কলেজের ছাত্র শিক্ষক, অভিভাবকসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়ায়। তাই তাদের এ আচরণে নৈতিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকে রাখির প্রতি সবার এ ধরনের আচরণ সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ব্যক্তিজীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে মূল্যবোধের প্রভাব অপরিসীম। মূল্যবোধের প্রভাবে ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির এবং ব্যক্তির প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধ জাগ্রত হয়। মূল্যবোধ এমন এক মানসিক ধারণা যা ব্যতীত কোনো জাতির সভ্যতা, শিক্ষা, সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব নয়। উদ্দীপকে রাখির প্রতি সবার আচরণ নৈতিক মূল্যবোধকেই নির্দেশ করে। যা যেকোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। কেননা এ মূল্যবোধের মাধ্যমেই সমাজের মানুষের কাজের ভালোমন্দের বিচার করা হয় এবং সমাজের নাগরিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সচেতনতাবোধ, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যবোধ জাগ্রত হয়। সমাজের মানুষের মধ্যে যদি মূল্যবোধ না থাকত তাহলে এ সমাজ এতদিন টিকে থাকত না। কেননা সমাজে কোনো মানুষই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তাকে কোনো না কোনোভাবে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। সমাজের মানুষের মধ্যে যদি মূল্যবোধ না থাকত তাহলে কেউ কারও সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসত না এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে কোনো প্রকার উন্নয়ন ঘটত না, এমনকি ব্যক্তি জীবনের বিকাশও ঘটত না। মূল্যবোধের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্র ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে ধাবিত হয় এবং নাগরিকদের জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। এজন্য উদ্দীপকে রাখির প্রতি সবার এ ধরনের আচরণ সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!