সামাজিক নীতি হচ্ছে সে সকল সুশৃঙ্খল ও সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুনের সমষ্টি যা কার্যসম্পাদনের আদর্শ বা পথ নির্দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
মূল্যায়ন হলো সামাজিক নীতি প্রণয়নের সর্বশেষ ধাপ, যার মাধ্যমে সামাজিক নীতির অনুশীলন অধিক কার্যকরী হয়।
মূল্যায়ন সামগ্রিক নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে নীতির মধ্যে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই নীতির অনুশীলন, বিশ্লেষণ, সময়, প্রয়োজন, চাহিদা ও পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে মূল্যায়ন অনস্বীকার্য হয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, মূল্যায়নের মাধ্যমে নীতির অনুশীলন অধিক কার্যকরী হয়।
আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক ড. মাহাথির মোহাম্মদের 'ভিশন ২০২০' এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার 'ভিশন ২০২১' ধারণাটি পরিকল্পনাগত দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি দিক হচ্ছে ভিশন ২০২১। অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে ভিশন ২০২১। পরিকল্পনা হচ্ছে সমাজ এবং রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যার্জনের জন্য সুশৃঙ্খল কার্য সম্পাদনের প্রক্রিয়া উদ্ভাবন এবং লক্ষ্যাভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সঠিক তথ্যের আলোকে সুচিন্তিত কর্মপন্থা নির্ধারণই হচ্ছে পরিকল্পনা। উদ্দীপকে মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়াকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য 'ভিশন ২০২০' নামের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং তা বাস্তবায়নে নানা ধরনের সুচিন্তিত কর্মপন্থা - নির্ধারণ করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'ভিশন - ২০২১' নামক পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে চেয়েছেন। তাদের দুজনেই একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করেন, যা পরিকল্পনাকে সফল করে তোলার যৌক্তিক প্রয়াস। সুতরাং বলা যায়, 'ভিশন ২০২০' এবং 'ভিশন ২০২১' দুটি বিষয়ের মধ্যে পরিকল্পনাগত সাদৃশ্য বিদ্যমান
মাহাথির মোহাম্মদ তার ভিশন ২০২০ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করলেও বাংলাদেশে ভিশন ২০২১ পরিকল্পনা সাফল্য অর্জন করবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশে ভিশন ২০২১ পরিকল্পনা সাফল্য অর্জন করবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যা মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
বাংলাদেশের পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পদ, সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করা হয় না। নীতি ও কর্মসূচির অপর্যাপ্ততা, উচ্চভিলাষী উদ্দেশ্য এদেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে জনগণ এর সুফল লাভ থেকে বঞ্চিত হয়। তাছাড়া বাংলাদেশের পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের মতামতের কোনো প্রতিফলন থাকে না। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা না করেই পরিকল্পনাবিদগণ নিজেদের মনগড়া পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন, যা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দেয়। তাছাড়া সম্পদের অপর্যাপ্ততা, অদক্ষ মানবসম্পদ, বিশেষ জ্ঞানের অভাব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার যে পরিবেশ বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়নি। মাহাথির মোহাম্মদ একাধারে ২২ বছর ক্ষমতায় টিকে থেকে তার পরিকল্পনাকে সফল করে তুলেছেন। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত থাকায় ৫ বছর পর পর ক্ষমতার রদবদল ঘটে। তাই সরকারের মেয়াদে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকটাই অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, রেষারেষি, মতাদর্শগত অমিল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনগণের সম্পৃক্ততা, প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান প্রভৃতি শর্তের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে উল্লিখিত শর্তসমূহের কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় মাহাথির মোহাম্মদ তার ভিশন ২০২০ বাস্তবায়নে সফল হলেও বাংলাদেশে ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখা দেবে।
Related Question
View AllMDG-র পূর্ণরূপ Millennium Development Goals |
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।
যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।
শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।
শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা
নয়টি দেশের সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'Study Group' গঠন করা হয়।
সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!