যেসব কার্টুন বিভিন্ন আন্দোলনের সময় আঁকা হয় সেগুলোকেই রাজনৈতিক কার্টুন বলা হয়।
অত্যাচারী স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে যখন কোনো দেশে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে ওঠে তখন দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেয়। এক্ষেত্রে চিত্রশিল্পীরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা এসব আন্দোলনে কার্টুন এঁকে আন্দোলন সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরেন। এসব কার্টুনে শিল্পীরা শোষকের অত্যাচার, নিপীড়ন কিংবা দুঃশাসনের নানা দিক সবার সামনে তুলে ধরেন। এগুলোই হলো রাজনৈতিক কার্টুন।
Related Question
View All১৯৭১ সালে নিতুন কুন্ডুর আঁকা পোস্টারের বিষয় ছিল মুক্তিযুদ্ধে শত্রুদের বিরুদ্ধে বাংলার মুক্তিবাহিনীর সদা জাগ্রত থাকা।
একটি বাক্য যখন গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদকে ধারণ করে তখন তা হাজার মানুষের মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে।
শাসকশ্রেণি যখন স্বৈরাচারী হয়ে মানুষের অধিকার হরণ করে তখন মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। জনতার সঙ্গে মিছিল-সমাবেশে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে মুক্তিকামী জনতাকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। তাঁরা তাঁদের চিত্রকর্মে যেসব বাক্য ব্যবহার করেন সেগুলোতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। ফলে এগুলো মানুষকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এভাবেই একটি বাক্য হাজার মানুষ মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত শিল্পকর্মের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই চিত্রকর্ম, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র গণআন্দোলনের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রবন্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলোর কথা বলা হয়েছে, যা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনমতের প্রকাশ ঘটায়। একইভাবে উদ্দীপকে রনির মামা দেয়ালের চিত্র দেখে আন্দোলনের প্রকৃতি উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।
দুই ক্ষেত্রেই শিল্পীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ এসেছে। প্রবন্ধে দেখা যায়, অনেকে নির্যাতিত ও নিহত হয়েছেন, যেমন মুশতাক আহমেদ। উদ্দীপকেও দেখা যায়, চিত্রকর্মের অনেক স্রষ্টা নির্যাতনের শিকার হয়ে শহিদ বা পঙ্গু হয়েছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দেয়ালের চিত্রকর্ম, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র কেবল প্রতিবাদের ভাষাই নয়, বরং এগুলো ইতিহাস সংরক্ষণের শক্তিশালী মাধ্যম, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও অনুপ্রাণিত করবে।
উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত চিত্রশিল্পের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পকে গণআন্দোলনের ভাষা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকর্ম শুধুমাত্র সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তা জনসচেতনতা, প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন দেয়ালে অসংখ্য গ্রাফিতি, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকা হয়েছিল। এসব চিত্রশিল্প স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের একটি উপায় হয়ে উঠেছিল। শিল্পীরা তাদের রঙ, তুলি ও লেখার মাধ্যমে সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এ চিত্রকর্মগুলো শুধুই নান্দনিকতা বা শৈল্পিক রুচির বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং এগুলোর মধ্য দিয়ে জনগণের অভ্যন্তরীণ বেদনা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকেও এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। রনির মামা বিদেশে থাকার কারণে আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র উপলব্ধি করতে পারছিলেন না। তবে দেশে ফিরে তিনি যখন দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম দেখেন, তখন তিনি উপলব্ধি করেন আন্দোলনটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন গণপ্রতিরোধের রূপ ধারণ করেছে। তিনি এসব চিত্রের মাধ্যমে আন্দোলনের তীব্রতা ও জনগণের মনের অবস্থা অনুধাবন করতে সক্ষম হন।
উদ্দীপক এবং প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে, অনেক শিল্পী রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, এমনকি কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। লেখায় মুশতাক আহমেদের মত সাহসী লেখক ও শিল্পীর উদাহরণ এসেছে, যিনি বাকস্বাধীনতার পক্ষে রুখে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছেন। একইভাবে, উদ্দীপকে রনি তার মামাকে জানান যে, এসব চিত্রকর্মের স্রষ্টাদের অনেকে হয়রানি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অথবা শহিদ হয়েছেন।
সবশেষে বলা যায়, প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয়ই একটি অভিন্ন বস্তুর আলোকপাত করেছে—শিল্প এবং প্রতিবাদ একে অপরের পরিপূরক। দেয়ালের চিত্রকর্ম, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার কেবল মুহূর্তের আবেগ নয়; বরং এগুলো ইতিহাস সংরক্ষণের এক অমূল্য দলিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব শিল্পকর্মের মাধ্যমে একটি জাতির সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারবে এবং প্রেরণা নিতে পারবে। সুতরাং, প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের মধ্যে গভীর ভাবসম্পৃক্ততা বিদ্যমান, যা গণআন্দোলনের চিত্র ও আত্মার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামে ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান।
চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
পৃথিবীর অনেক দেশে নানা সময় স্বৈরাচারী সরকার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে জনগণকে শোষণ করে। তখন সময়ের প্রয়োজনে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এসব আন্দোলনে সবার পাশাপাশি চিত্রশিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা একদিকে যেমন মানুষের সঙ্গে মিছিল-মিটিং করেন, নানা কর্মসূচি পালন করেন অন্যদিকে তাঁরা আবার তাঁদের আঁকা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের মাধ্যমে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁদের আঁকা ছবিগুলো আন্দোলনকে অনেক শক্তিশালী করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!




