রাজা আলসিনৌসের রাজবাড়ি ছিল অপরূপ সৌন্দর্যের আধার।
'অতিথি' গল্পে অডিসিয়স রাজা আলসিনৌসের রাজবাড়িতে প্রবেশ করতে গিয়ে তার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। প্রথমেই চোখে পড়ে সারি সারি ফলের গাছ। কোনোটা ফল দেয় গ্রীষ্মকালে, কোনোটা শীতকালে। সারা বছর ধরেই ফল ও ফুলের সমারোহ। মাঠ, ঝরনা, সবজি বাগান সবই আছে সেখানে। রাজপ্রাসাদের দরজাগুলো সোনার তৈরি। দরজার কাঠামো রূপার। ভিতরে ঢুকেই চোখে পড়ে সোনা ও রূপা দিয়ে বানানো প্রতীকী কুকুর। দেওয়ালের পাশে সুন্দর কাপড়ে ঢাকা উঁচু উঁচু আসন।
ফলে দেখা যায়, রাজা আলসিনৌসের মহানুভবতার মতোই তাঁর প্রাসাদও ছিল ঐশ্বর্যমন্ডিত।
Related Question
View Allদূরদেশ কিংবা মাঝ সমুদ্রে বিপর্যয়ের মধ্যে আটকা পড়েও অডিসিয়সের দেশপ্রেম ছিল জাগ্রত। যেকোনো অবস্থাতেই তিনি দেশে ফিরে যেতে চান। দেশের মাটিতে মৃত্যুবরণ করাতেই তাঁর জীবনের সার্থকতা।
'অতিথি' গল্পে অডিসিয়ুস সামুদ্রিক বিপর্যয়ে পড়ে সঙ্গীদের হারান। ভাসতে ভাসতে গিয়ে দেবী কেলিপসোর দ্বীপে আছড়ে পড়েন। দেবী তাঁকে আশ্রয় দেন। অমরতা ও চিরযৌবনের লোভ দেখিয়ে তাঁকে আটকে রাখতে চান। কিন্তু অডিসিয়সের কাছে অমরতা কিংবা চিরযৌবনের চেয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল প্রবল। এক মুহূর্তের জন্যও তিনি দেশকে ভুলতে পারেননি। অবশেষে দেবীর আনুকূল্যে তিনি দ্বীপ থেকে মুক্তি পেলেও ফের ভাগ্যবিপর্যয়ে আশ্রয় পান রাজা আলসিনৌসের রাজ্যে। সেখানে রাজবাড়ির চমৎকার আতিথিয়েতায় মুগ্ধ হলেও তাঁর মন পড়ে থাকে নিজের দেশে। রাজা আলসিনৌস তাঁকে আন্তরিকতাপূর্ণ আহ্বানে সেখানে থেকে যাওয়ার সুযোগ দিলেও অডিসিয়স বেছে নেন দেশে ফেরার প্রস্তাব। যেকোনো প্রাচুর্যের চেয়ে নিজ দেশে, আপনজনের মাঝে ফেরাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অমরতা তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন নিজের দেশের মাটিতে মৃত্যুবরণ করবেন বলে। স্বদেশের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিতে উদ্বুদ্ধ করে। দেশে ফেরার থেকে বড়ো চাওয়া এবং প্রাপ্তি তাঁর কাছে আর কিছু নেই।
অডিসিয়ুসের মাঝে দেশপ্রেমের যে বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়, তা তাঁকে মহান করে তোলে। নির্বিঘ্ন জীবন, অমরত্বের প্রস্তাব, রাজকীয় ঐশ্বর্যের চেয়ে তাঁর কাছে স্বদেশই হয়ে উঠেছে প্রধান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!