যে বিশেষ সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে মানুষ বাস করে তাই সামাজিক পরিবেশ।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন চাহিদার প্রেক্ষিতে গ্রামের যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পরিবারের অর্থনৈতিক কারণ। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া, ভোগবাদী মানসিকতা, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি কারণে গ্রামে যৌথ পরিবার ভেঙে যাবার প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া শিক্ষার স্বার্থে পরিবারের বাইরে এসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গ্রামে ফিরে না যাওয়া, অণু পরিবারের সুবিধা বৃদ্ধি ও যৌথ পরিবারের বিভিন্ন অসুবিধাও গ্রামীণ যৌথু পরিবার ভাঙনের জন্য দায়ী।
উদ্দীপকে রাদ ও অর্ণবের কথায় সামাজিকীকরণের 'সমাজজীবন' মাধ্যমের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সমাজজীবন সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। বিভিন্ন উৎসব- অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে মানুষ একে অপরের সাথে এক ধরনের সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়, যা সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। সমাজের নানা কর্মকান্ডে ও অনুষ্ঠানে মানুষ অংশগ্রহণ করে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রাদদের শহরে জেলা প্রশাসনের স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ আয়োজন করে যেখানে রাদও অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে অর্ণবদের গ্রামে খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। যেখানে অর্ণব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে প্রথম পুরস্কার পায়। এর মাধ্যমে উভয়েরই সমাজজীবনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সমাজে প্রচলিত প্রথা, অনুষ্ঠান শহর ও গ্রামভেদে পার্থক্য থাকায় রাদ ও অর্ণবের অনুষ্ঠানসূচিতে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
তাই বলা যায়, রাদ ও অর্ণবের সামাজিকীকরণে সমাজজীবনের মাধ্যমটি স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।
না, উদ্দীপকে উল্লিখিত রাদ ও অর্ণবের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া একই ধরনের নয়।
রাদ ও অর্ণব একই শ্রেণিতে পড়লেও তাদের উভয়ের বাসস্থান ভিন্ন পরিবেশে হওয়ায় তাদের সামাজিকীকরণ একইরূপে সংঘটিত হবে না। রাদ শহরে থাকে আর অর্ণব গ্রামে থাকে। গ্রাম ও শহরের সামাজিকীকরণে বিভিন্ন পার্থক্য রয়েছে। গ্রামীণ সমাজ কাঠামোর বৈশিষ্ট্য হলো- একক ও যৌথ পরিবার কাঠামো, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা, সহজ- সরল জীবনযাপন, জীবনযাত্রায় সামাজিক প্রথা ও লোকাচারের প্রভাব ইত্যাদি। তাছাড়া ধর্মীয় আচার-আচরণের প্রতি গভীর মনোযোগ, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, রক্ষণশীলতা ইত্যাদিও এ সমাজের বৈশিষ্ট্য।
অপরদিকে, শহর সমাজ কাঠামো ও সামাজিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্য হলো- একক পরিবার কাঠামো, শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি, জটিল সমাজ জীবন, শহুরে সংস্কৃতি, সামাজিক সম্পর্কের দূরত্ব ইত্যাদি। গ্রাম ও শহর জীবনের এরূপ ভিন্ন কাঠামো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রাদ ও অর্ণবের সামাজিকীকরণে যথেষ্ট ব্যবধান সৃষ্টি হবে। গ্রামীণ সমাজে অর্ণব বড় হয়ে তার আচরণে যেমন গ্রামীণ সমাজের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটবে, তেমনি রাদ শহরে কাঠামোর সামাজিকীকরণ সম্পন্ন করে হয়ে উঠবে শহুরে মানুষ। একইভাবে অর্ণবের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় তার প্রতিবেশী, সঙ্গীদল, বায়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, খেলার সাথী প্রভৃতির প্রভাব থাকবে রাদের তুলনায় অধিক। বিষয়টি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, রাদ ও অর্ণবের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া একই ধরনের নয়।
Related Question
View Allকর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার দু ধরনের।
পরিবার হলো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্রস্থল। একসময় পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো গৃহে উৎপাদিত হলেও সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে পরিবারের অর্থনৈতিক কাজগুলো মিল, কারখানা, দোকান, বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এখন পরিবারের সদস্যরা অর্থ উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে কাজ করে। আর তাই পরিবারকে আয়ের একক বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিদিতার আচরণে সামাজিকীকরণের জ্ঞাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবেশীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
নিজ পরিবার ব্যতীত যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে তারাই আমাদের জ্ঞাতিগোষ্ঠী। আর যারা বাড়ির আশপাশে বসবাস করেন তারা হলো আমাদের প্রতিবেশী। শৈশব থেকেই মানুষ প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হতে থাকে। পরিবার ও জাতিগোষ্ঠীর পরেই প্রতিবেশীর অবস্থান। শিশুর জীবনের সুষ্ঠু বিকাশে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাসা বা বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। আর এ দল থেকে তারা সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য ও নেতৃত্ব ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে। যার মধ্য দিয়ে তারা সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীরাই বেশি ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের রিপা বিদিতার প্রতিবেশী হলেও রিপা যখন তার আত্মীয়স্বজনসহ তাদের বাসায় আসে তখন বিদিতা সবাইকেই যত্নসহকারে আপ্যায়ন করে। অর্থাৎ রিপাদের আত্মীয়স্বজনকেও বিদিতা নিজের আত্মীয়স্বজনই মনে করে।
তাই বলা যায়, প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার যা উদ্দীপকের বিদিতার আচরণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
'শহুরে জীবনে প্রতিবেশীরাই ঘনিষ্ঠজন'- আমি এ বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নই।
আমরা বাস্তবে দেখি গ্রাম ও শহরভেদে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ভিন্ন হয়। গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে। অর্থাৎ গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। অপরদিকে শহরে প্রতিবেশীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ হয় না। এ সম্পর্কের ভিতর কেমন জানি একটা কৃত্রিমতা লুকিয়ে থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। তবে আনন্দ-উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শহর জীবনের প্রতিবেশীরা একে অন্যে অনেকটা আপন হয়ে যায়। অথচ সামাজিকীকরণে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শৈশব থেকেই আমরা প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হই। আমাদের পাশাপাশি বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। এ দল থেকে শিশু সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা, বড়দিন প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ করে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে এবং সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীই বেশি ভূমিকা পালন করে। বস্তুত প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার। কিন্তু শহুরে জীবনে এ অংশীদারিত্বে আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা গ্রামের চেয়ে অনেক কম।
তাই বলা যায়, শহরে জীবনে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ নয়।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমই হচ্ছে গণমাধ্যম ।
শিশুর জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপখাওয়ানোর প্রক্রিয়াই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন এক পর্যায় হতে আরেক পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। এ খাপ-খাওয়ানো প্রক্রিয়ার ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। নতুন নিয়মকানুন, রীতিনীতি এবং নতুন পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার প্রক্রিয়ার নাম সামাজিকীকরণ।
তাই বলা যায়, সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!