যে নির্দিষ্ট পরিমাণের সাথে তুলনা করে কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ করা হয় তাই পরিমাপের একক।
পরিমাপের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পদ্ধতির একক প্রচলিত আছে। কোনো দেশে এফ. পি. এস পদ্ধতি, কোনো দেশে সি. জি. এস পদ্ধতি আবার কোনো দেশে এম. কে. এস পদ্ধতি। পরিমাপের ক্ষেত্রে এ বৈষম্য দূর করে অভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বের সকল দেশের বিজ্ঞানীরা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক সভায় মিলিত হয়ে সকল দেশের জন্য একটিমাত্র এককের পদ্ধতি চালু করার বিষয়ে একমত হন। এ পদ্ধতির নাম এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অর্থাৎ, ইন্টারন্যাশনাল সিস্টেম অব ইউনিট। আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা এস. আই পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্যের একক মিটার, ভরের একক কিলোগ্রাম এবং সময়ের একক সেকেন্ড।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় বস্তুটি হলো পাথর যা একটি অসম আকৃতির বস্তু। তাই এর আয়তন স্কেলের সাহায্যে নির্ণয় করা যায় না। কিন্তু মাপ চোঙের সাহায্যে এর আয়তন সঠিকভাবে নির্ণয় করা যাবে।বর্ণনা:
১. প্রথমে সুতা দিয়ে শক্ত করে পাথরটিকে বেঁধে নিই।
২. তারপর একটি মাপচোঙে পানি ঢালি এবং পানির পাঠ খাতায় লিখি।
৩. এরপর পাথরটি মাপচোঙের পানিতে ডুবাই। এর ফলে পানি উপরে উঠে আসে। আবার পানির পাঠ খাতায় লিখি।
৪. দুটি পাঠের পার্থক্য হিসাব করে পাথরটির আয়তন নির্ণয় করি।
শ্রেণিকক্ষে আলোচিত বিষয়টি হলো পরিমাপ যা সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে খুবই প্রয়োজনীয়।
বিশ্লেষণ: আমরা দৈনন্দিন জীবনে জানা-অজানা নানাবিধ বস্তুকে অনেক সময় আন্দাজ করে পরিমাপ করে থাকি। যেমন- টেবিলের দৈর্ঘ্য, স্কুলে রওনা দেওয়ার সময় ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তব জীবনে এমন কিছু জিনিস আছে যা আন্দাজ করে পরিমাপ করা যায় না। যেমন-স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কে কোন গ্রুপে খেলবে বা টেলিভিশনে কখন সংবাদের শিরোনাম শুনতে হবে ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উচ্চতা বা সময়ের পরিমাপ একান্ত দরকার। আন্দাজ করে পরিমাপের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না-ও আসতে পারে। সুতরাং সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে পরিমাপ খুবই প্রয়োজনীয়। এভাবে দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রত্যেকটি কাজেই সঠিক পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। যেমন- বাজার থেকে চাল কিংবা ডাল কিনতে; জামা-কাপড় তৈরি করতে কিংবা সময়মতো ক্লাস শুরু ও শেষ করতে আমাদের যথাযথ পরিমাপ দরকার। সঠিক পরিমাপ ব্যতীত একটি শ্রেণিকক্ষে কয় জোড়া টেবিল-বেয় রাখা যাবে; বাড়ির নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে কয়টি ঘর তৈরি করা যাবে, এমনকি কোন কক্ষের আকৃতি কী রকম হবে তা বলা মুশকিল হবে। এছাড়া তরকারি রান্নার সময় পরিমাণমতো বিভিন্ন প্রকার মসলা ব্যবহার করা খুবই জরুরি। জীবন বাঁচানোর যে ঔষধ তাও তৈরি করতে হয় পরিমাণমতো এবং খেতেও হয় পরিমাণমতো। এক কথায়, দৈনন্দিন জীবনে প্রায় প্রতিটি কাজেই সঠিক পরিমাপের প্রয়োজন।
Related Question
View Allআমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ জীবনধারণের জন্য প্রতিনিয়তই আমাদেরকে বিভিন্ন জিনিসের আদান-প্রদান করতে হয়। যেমন- কেনাকাটা, কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করা, এমনকি বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও পরিমাপের প্রয়োজন। কারণ পরিমাপ ব্যতীত এ কাজগুলো কোনোভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পরিমাপের প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপক থেকে পাই,
ফারহানের পড়ার ঘরের ক্ষেত্রফল = ৪০ বর্গমিটার
এবং দৈর্ঘ্য = ১০ মিটার
আমরা জানি,
ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য প্রস্থ
প্রস্থ= ক্ষেত্রফল/দৈর্ঘ্য
= ৪০ বর্গমিটার/১০ মিটার== ৪ মিটার
অতএব, ফারহানের পড়ার ঘরের প্রস্থ ৪ মিটার।
উদ্দীপক থেকে পাই,
ফারহানের পড়ার ঘরের ক্ষেত্রফল = ৪০ বর্গমিটার
পড়ার টেবিলের দৈর্ঘ্য = ১ মিটার
পড়ার টেবিলের প্রশ্ন = ৫০ সে. মি.
মি. [ ১০০ সে. মি. = ১ মি.]
= ০.৫ মি
পড়ার টেবিলের ক্ষেত্রফল = (দৈর্ঘ্য প্রস্থ) বর্গএকক
= (১ ০ ০.৫) বর্গমিটার
= ০.৫ বর্গমিটার
অতএব, একটি টেবিলের ক্ষেত্রফল = ০.৫ বর্গমিটার
ঘরের ফাঁকা জায়গার ক্ষেত্রফল = (৪০ ১) বর্গমিটার
= ৩৯ বর্গমিটার
অতএব, টেবিল দুটি রাখার পর ঘরে ৩৯ বর্গমিটার ফাঁকা জায়গা থাকবে
ক্যান্ডেলা হলো দীপন ক্ষমতা অর্থাৎ আলোক ঔজ্জ্বল্য পরিমাপের একক।
যেসব একক একাধিক মৌলিক এককের সমন্বয়ে গঠিত - তাদেরকে যৌগিক একক বলে। যেমন, আয়তনের একক ঘনমিটার, যা তিনটি মৌলিক দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার একক মিটার এর গুণফল। -তাই আয়তনের একক একটি যৌগিক একক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
