সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যম পরিবার।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে নৈতিক গুণাবলির শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে।
শিশু যখন প্রথম বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে, তখনই আনুষ্ঠানিকভাবে তার দীক্ষিতকরণ শুরু হয় এবং সে বৃহত্তর সমাজে প্রচলিত আদবকায়দা এবং আচার-আচরণের সাথে পরিচিত হতে আরম্ভ করে। তার সহপাঠীরা বিভিন্ন পরিবার ও পরিবেশ থেকে আসে। কাজেই বৃহত্তর পটভূমিকায় সে সমাজের মূল্যবোধ, ভাবাদর্শ, সমাজ অনুমোদিত আচার-আচরণ এবং সমাজে নিষিদ্ধ কাজকর্ম সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে। শিক্ষকদের নৈতিক বাণীও তার সামাজিকীকরণে সাহায্য করে। এরূপ ভূমিকা পালনের মাধ্যমেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে।
বাউদ্দীপকের রানার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে যে মাধ্যমটি অনুপস্থিত সেটা হলো পরিবার।
শিশুর সামাজিকীকরণে পরিবার প্রধান ভূমিকা পালন করে। পরিবারকে জ্ঞানার্জনের প্রাথমিক সূতিকাগার বলা হয়। শিশু তার পরিবার থেকে যে আদর্শ, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, আচার-আচরণ শিক্ষা লাভ করে থাকে সে হিসেবেই তার ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে উঠে। যে শিশু দূর্বল এবং ক্ষয়িষ্ণু পারিবারিক কাঠামোতে বেড়ে উঠে, সে দুর্বলচিত্তের অধিকারী হয় এবং অপরাধপ্রবণ হয়। পিতামাতার মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকলে পরিবারে শান্তি বিরাজ করে। আর এ ধরনের সম্পর্ক ও পরিবেশ শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পিতামাতা যদি তাদের সন্তানের সাথে ভালো আচরণ করেন তবে তারা আত্মপ্রত্যয়ী হয় আর খারাপ আচরণ করলে তারা নিঃসঙ্গ বোধ করে। পরিবারের ভাইবোনদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকলে পরস্পর পরস্পরকে শ্রদ্ধা করে ও ভালোবাসে এবং সমাজে আদর্শ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে। উদ্দীপকে আমরা দেখি, রানা ও সোমার বাবা-মা উভয়ই চাকরিজীবী হওয়ায় সন্তানদের সময় দিতে পারেন না। উপরন্তু তারা অধিকাংশ সময়ই ঝগড়ায় লিপ্ত থাকেন। অর্থাৎ তারা বাবা- মা হিসেবে সঠিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ। তাদের তথা পরিবারের। এরূপ ভূমিকার ফলেই রানা সঠিকভাবে বেড়ে উঠেনি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকে রানার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা অনুপস্থিত ছিল বলেই রানা অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ে।
রানাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে তার পরিবারের সদস্যদের সঠিক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
আমরা জানি, পরিবার হলো শিশুর সামাজিকীকরণের প্রাথমিক - বাহন। শিশু গৃহ-পরিবেশে তার পিতামাতার ধ্যানধারণা ও মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত হয়। শিশু পিতামাতার মাধ্যমে সামাজিক আদর্শে বিশ্বাসী হয়। পরিবারের ধারা কী রকম, সেখানে কী ধরনের প্রথা, রীতিনীতি প্রচলিত তার ওপর ভিত্তি করে শিশুর একটা নিজস্ব জীবনধারা গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে রানাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে তার পিতামাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে পিতামাতার মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক, সন্তানদের সময় দেওয়া এবং তারা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে ইত্যাদি সম্পর্কে পিতা-মাতার খবর রাখা ইত্যাদি একটি সুস্থ সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। যা রানাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সামাজিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে পরিবারের সদস্যরা যদি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং তা যথারীতি পালন করেন তাহলে উদ্দীপকের রানার মতো কিশোররা সুস্থ জীবনযাপন করতে সক্ষম হবে।
Related Question
View Allফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমকে ক্রিয়াবাদের জনক বলা হয়।
শিক্ষা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'শাস' ধাতু থেকে। এর অর্থ হলো শাসন করা, শৃঙ্খলিত করা, নিয়ন্ত্রিত করা, শিক্ষা দেওয়া বা নির্দেশনা দেওয়া। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় আমরা যে শিক্ষা কথাটা ব্যবহার করি, তা বিশেষভাবে শিক্ষা কৌশলকেই বোঝায়।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবার থেকে গঠিত মৌলিক ব্যক্তিত্ব সহযোগে শিশুরা শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে আসে। সেখানে নতুন পরিবেশে নানা নিয়ম-কানুনের মধ্যে নতুন সহপাঠী ও অন্যান্যদের সাথে খাপ-খাইয়ে চলতে হয়। শিশুর মূল্যবোধ সৃষ্টিতে পরিবারের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ইত্যাদি শিশুর মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা নানা প্রকারের হলে শিশুর ব্যক্তিত্বও নানাভাবে গড়ে ওঠে। যেমন- আমাদের দেশেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। তাই ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ধরনও বিভিন্ন রকম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকে অন্যতম সামাজিক সমস্যা 'নিরক্ষরতা' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সমাজে নিরক্ষরতার মতো সমস্যা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের যে গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা হলো সামাজিক জরিপ পদ্ধতি।
সামাজিক গবেষণার জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তার মধ্যে সামাজিক জরিপ অন্যতম। জরিপ কথাটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু সরেজমিনে পরিমাপ বা নিরূপণ করা। কোনো সমাজের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কৌশলে তথ্যাবলি সংগ্রহ, তথ্যাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বাছাই, তথ্য যাচাই ইত্যাদি ক্ষেত্রে জরিপ একটি কার্যকরী পদ্ধতি। বস্তুত জরিপ পদ্ধতির সাহায্যে কোনো একটি বিষয়ের সামগ্রিক চিত্র লাভ করা সম্ভব। সামাজিক জরিপ সামাজিক অনুসন্ধানের একটি পদ্ধতি যা বর্ণনা, বিবরণ, উদ্ঘাটন ও ব্যাখ্যামূলক বিভিন্ন সামাজিক তথ্য সরবরাহ করে। এছাড়া উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মসূচির পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, নিরক্ষরতার মতো সামাজিক সমস্যার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সামাজিক জরিপ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ICT-এর পূর্ণরূপ- Information and Communication Technology |
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে একীভূত করা হয়।
বিশ্বায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীর সকল দেশকে একটি ছাতার নিচে। সমবেত করা। মূলত তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বায়নের পথচলা। (১) তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ (২) আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার এবং (৩) উৎপাদিত পণ্যের অবাধ প্রবাহ। সাধারণত সারাবিশ্বে এই তিনটি বিষয়ের অবাধ প্রচলন উপস্থিতি থাকলেই সেই প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!