যে সকল প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সরাসরি ব্যবসায় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে না; বরং ব্যবসায়ের উন্নয়নের জন্য আর্থিক ও অনার্থিক সাহায্য প্রদান করে, তাকে সেবা বলে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ করে যাবতীয় বিষয় সম্পত্তি ও দেনা পাওনা নিষ্পত্তি করাকে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন বলে।
বাংলাদেশে বলবৎযোগ্য ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে কোনো প্রতিষ্ঠানের সকল অংশীদারের মধ্যকার অংশীদারি সম্পর্কের বিলুপ্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন বলে।
তাদের অংশীদারি ব্যবসায়টি নিবন্ধিত না থাকায় মামলাটি আদালত খারিজ করে দেয়।
চুক্তি অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি। ব্যবসায়ের কাজে বা নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক রক্ষা বা দায়-অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কই মুখ্য বিবেচিত হয়। এরূপ চুক্তি মৌখিক, লিখিত বা লিখিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ধরনের হতে পারে।
অংশীদারি ব্যবসায়ে নিবন্ধিত না হলে বা নিবন্ধন বইতে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের নাম লেখা না থাকলে কোনো অংশীদার অপর কোনো অংশীদার বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চুক্তি হতে উদ্ভূত অধিকার আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে না।
উদ্দীপকে রানা তার পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে যে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেছিল তা নিবন্ধিত ছিল না। যার দরুন সমান মূলধন দিয়েও ২ বছর কোনো মুনাফা না পেয়ে রানা আদালতে মামলা করলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।
রানার বড় ভাই সাবু অংশীদারি ব্যবসায়ের একজন কর্মী অংশীদার।
যে অংশীদারি ব্যবসায়ে সাধারণ ও সীমাবদ্ধ দুই ধরনের অংশীদার থাকে এবং সাধারণ অংশীদারগণ ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট যাবতীয় পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকারী হলেও সীমিত অংশীদারগণের ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার থাকে না। এ ধরনের ব্যবসায়কে সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় বলে। উদ্দীপকে রানার বড় ভাই সাবু মূলধন বিনিয়োগ না করে নিজ দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শারীরিক শ্রম ব্যয় করে অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য হয়েছেন। সে ব্যবসায় থেকে মুনাফাও পায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রানার বড় ভাই সাবু অংশীদারি ব্যবসায়ের একজন কর্মী অংশীদার।
Related Question
View Allসাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা ২ জন।
অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের দায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে অসীম।
অসীম দায় বলতে ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের দায় সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়; যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে দায়বদ্ধ করে এবং ব্যক্তি দেউলিয়া হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা বিস্তৃত থাকে। এরূপ অসীম দায়ের কারণেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা উৎসাহিত হয় না। যে কারণে সকল দেশেই এরূপ ব্যবসায়ের সংখ্যা কম। তাই বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না, শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মী অংশীদার অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনে বাধ্য থাকে। অবশ্য ব্যবসায় পরিচালনার জন্য এদেরকে নির্দিষ্ট হারে বেতন বা লাভের অংশ দেওয়া হয়। সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনায় যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের অংশীদার হিসেবে নেওয়া হয় যাতে ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন প্রকৌশলী। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে করিম, রহিম ও মিজান তাকে বিনা মূলধনে অংশীদার হিসাবে নেয়। যেহেতু জনাব সফিক ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করেও শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখার কারণে উক্ত ব্যবসায়ের অংশীদারিত্ব লাভ করেছে। তাই বলা যায়, জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি মি. মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার একই রকম হবে এমন নয়। বিভিন্ন ধরনের অংশীদারের মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমন্ত অংশীদার। যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
মি. মিজান একজন ঘুমন্ত অংশীদার। উদ্দীপকে করিম, রহিম ও মিজান অংশীদারির ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করেছে। এ ব্যবসায়ে করিম, রহিম ও সফিক পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু মিজান পরিচালনায় অংশ নেয়নি। তবে বছর শেষে মিজান অন্যদের মতো মুনাফা দাবি করে। মি. মিজানের কার্যক্রম অনুযায়ী তিনি একজন ঘুমন্ত অংশীদার। এ অংশীদারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
সুতরাং বলা যায়, জনাব মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!