কৃষি থেকে শিল্পের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রক্রিয়াই শিল্পায়ন।
একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ঐ দেশের শিল্পায়নকে 'ত্বরান্বিত করে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা কোনো দেশের উন্নয়ন বয়ে আনতে পারে না।
শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করা, দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একান্ত প্রয়োজন।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প। বর্তমানে পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প। অনুকূল জলবায়ু, কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় শ্রমিক প্রাপ্তি এ শিল্প গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ শিল্পের ভূমিকা সর্বাধিক। নিচে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প দ্রুত বিকশিত হওয়ার অনুকূল
নিয়ামকগুলো ব্যাখ্যা করা হলো- নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কারখানায় শ্রমিকদের অধিক সময় কাজ করার উপযোগী। এজন্য বাংলাদেশে দ্রুত তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। পোশাক শিল্পের একমাত্র কাঁচামাল বস্ত্র দেশি ও বিদেশি মিলগুলো থেকে সংগ্রহের সুবিধা থাকায় এ দেশে প্রচুর তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের পর্যাপ্ত শক্তিসম্পদের আধিক্য থাকায় পোশাক শিল্প গড়ে ওঠতে সহায়ক হয়েছে। শিল্প স্থাপনের জন্য মূলধন অন্যতম পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি পোশাক শিল্পের অর্থের যোগান দেয়। এ কারণে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ব্যাপক বিস্তার
হয়েছে। বাংলাদেশ জনবহুল দেশ হওয়ায় এখানে সুলভে শ্রমিক পাওয়া যায় এবং স্বল্প মজুরিতে কাজ করানো যায়।
উল্লিখিত কারখানাগুলো ছাড়াও আরও বেশকিছু অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের দ্রুত বিকাশে সাহায্য করেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যে শিল্পের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পে নারীর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৫,১৫০টির মতো পোশাক শিল্পকারখানা রয়েছে। পোশাক শিল্পে প্রায় ৩৬ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত আছে। এদের শতকরা ৮৫ জনই হলো মহিলা।
বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এ দেশের নারীরা পোশাক শিল্পে যে পরিমাণ ভূমিকা রাখছে তা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এ শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কম মূল্যের নারীশ্রমিক পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক কমে যায়। যার ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সহজেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সক্ষম।
নারীশ্রমিক দ্বারা উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৯.৫৩% আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। যা দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে। সুতরাং বলা যায়, পোশাক শিল্পে নারীর ভূমিকা দেশের - অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
Related Question
View Allবাংলাদেশের একটি সার কারখানা হলো যমুনা সার কারখানা
বিনিয়োগ ছাড়া শিল্পায়ন সম্ভব নয়।'
শিল্প স্থাপনের অন্যতম নিয়ামক হলো মূলধন। মূলধন বিনিয়োগ না হলে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ প্রভৃতি যোগান দেওয়া যাবে না। এছাড়া মূলধন শিল্প স্থাপনের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের হাতিয়ার। পর্যাপ্ত অর্থায়ন ছাড়া শিল্পকার্য চরমভাবে ব্যাহত হবে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
আমেরিকার ইরি হ্রদ অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি নিয়ামকের প্রভাব রয়েছে। নিচে এ শিল্প গঠনের নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র লোহা ও ইস্পাত শিল্পের উন্নতির প্রধান কারণ হলো এ শিল্পের কাঁচামাল আকরিক লৌহ খনিজের আধিক্য। দেশটি লোহা ও ইস্পাত শিল্পে বেশ উন্নত। এ ধরনের শিল্প গড়ে ওঠার জন্য উক্ত দেশে প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ামকের প্রাধান্য রয়েছে।
বর্তমানে লোহাপিন্ড উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামাল প্রাপ্তি, পানি ও বিদ্যুৎশক্তির সহজপ্রাপ্যতা, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, মূলধনের পর্যাপ্ততা, ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়।
এছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান, সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা, কয়লার পর্যাপ্ততা, উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে লোহা ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে 'ক' হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং 'খ' হলো জাপান। উভয় দেশই শিল্পে সমৃদ্ধ। নিচে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের শিল্পের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হলো-
যুক্তরাষ্ট্র একটি শিল্পসমৃদ্ধ উন্নত অঞ্চল। বিশেষ করে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, কার্পাস ও বয়ন শিল্প এদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প। এর মধ্যে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র চতুর্থ এবং কার্পাস ও বয়ন শিল্পে তৃতীয়। কয়লায় পর্যাপ্ত সম্ভায় ও হ্রদ অঞ্চলে পানি ও উত্তম যোগাযোগ ব্যবস্থায় কারণে এদেশে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বেশ উন্নত। যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম রাবার উৎপাদনেও শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। সমরাস্ত্র শিল্পেও এদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া মটরগাড়ি, উড়োজাহাজ, জাহাজ শিল্প, কাগজ শিল্পসহ ছোট বড় অসংখ্য শিল্প রয়েছে। জাপানও একটি শিল্পোন্নত দেশ। এদেশ লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। শুধু তাই নয় জাপান রাবার শিল্পে এবং বস্ত্র ও বয়ন শিল্পেও বেশ উন্নত। বিশ্ব বাজারে জাপানের কার্পাসজাত দ্রব্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। যেকোনো ধরনের ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, মেশিন, টুলস, কেমিক্যাল, টেক্সটাইল প্রভৃতি শিল্প জাপানের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে অবস্থিত। জাপানের অর্থনীতি অনেকটা শিল্প নির্ভর। মূলত লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বিখ্যাত হলেও এদেশে অসংখ্য ছোট বড় শিল্প গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বড় বড় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, মোটর গাড়ি শিল্প, রেলইঞ্জিন শিল্প, যন্ত্রপাতি, ট্রাক্টর, বাইসাইকেল, বৈদ্যুতিক পাখা, রেডিও, ট্রানজিস্টর, টেলিভিশন সেট, ক্যামেরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উভয় দেশই শিল্পসমৃদ্ধ হলেও' উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ। কারণ জাপানের শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি অনেকটা আমদানিনির্ভর।
বিশ্বে প্রধান কার্পাস ও বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ হলো চীন।
বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন উৎপাদনের পরিমাণ তার চেয়ে কম। সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, শক্তিসম্পদ, মূলধন, দক্ষ শ্রমিক, যন্ত্রপাতি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, শ্রমিক অসন্তোষ প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশ সারের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। তাই বাংলাদেশ সারশিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!