নেপোলিয়নকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের বিশেষ ক্ষমতা হলো 'VETO'। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র ও দশটি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। এ পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের একটি করে ভোেটদানের অধিকার আছে। তবে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো দিলে তা বাতিল বলে গণ হয়। ভেটো অর্থ ইহা আমি মানি না। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের এ বিশেষ ক্ষমতা ভেটো ক্ষমতা নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত রাফসানের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের যে ব্যক্তির কর্মের মিল রয়েছে তিনি হলেন এডলফ হিটলার।
বিংশ শতকের রাজনীতির ইতিহাসে এডলফ হিটলার এক সুপরিচিত নাম। তিনি ১৮৯৯ সালের এপ্রিল মাসে অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন শুল্ক বিভাগের সামন্য চাকুরে। তার মা ছিলেন নারী কৃষক। বাল্যকালেই পিতার মৃত্যুতে হিটলার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠেন। হিটলার চেয়েছিলেন একজন চিত্রশিল্পী হবেন। স্কুল জীবন সমাপ্ত করে তিনি রাজধানী ভিয়েনায় গমন করেন। কিন্তু ছবি আঁকার স্কুলে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ শেষে তিনি কিছুদিন প্রেসে কাজ করেন। ১৯১৯ সালে হিটলার জার্মান শ্রমিক দলে যোগ দিয়ে অল্প দিনের মধ্যেই বাগ্মিতায় একলের নজর কাড়তে সক্ষম হন। এ সময় জার্মানির অধিকাংশ দলের মতো জার্মান শ্রমিক দলেরও সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। তিনি নির্দিষ্ট কর্মসূচি তৈরি করে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেন। সামরিক প্রশিক্ষণ এক্ষেত্রে তার সহায়ক হয়। ফলে দুই বছরের মধ্যেই এ দলের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সংগঠনও সুদৃঢ় হয়। হিটলার দলের নাম পরিবর্তন করে রাখেন জাতীয় সমাজতন্ত্রবাদী জার্মান শ্রমিক দল। সংক্ষেপে নাৎসি পার্টি বা নাজি পার্টি। নাৎসি পার্টির হয়ে হিটলার ১৯৩৪ সালে জার্মানির সর্বময় কর্তৃত্ব দখল করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাফসান 'ক' রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। হিটলার জার্মানির পক্ষ নিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করে।
রাফসান একটি দল গঠন করেন, হিটলারও একটি দল গঠন করেন এবং রাফসানের মতো জার্মানির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সুতরাং উদ্দীপকের রাফসানের সাথে এডলফ হিটলারের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তির কার্যক্রম অর্থাৎ এডলফ হিটলারের কার্যক্রম বিশ্বে মারাত্মক সংকট তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ন্যায় ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করেছিল।
এডলফ হিটলার বিশ্ব ইতিহাসে এক বিস্ময়কর নাম। যে নামের সাথে জার্মানির সম্পর্ক আজও মিশে আছে। তিনি ছিলেন নাৎসিবাদের প্রবর্তক। উনবিংশ শতাব্দীতে গণতন্ত্রের জয়জয়াকার অবস্থা যে অপ্রতিহত গতিতে চলছিল হিটলার ও তার নাৎসি দল সে গণতন্ত্রকে ধ্বংসের কাজে লিপ্ত হয়। আর এ কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। হিটলার নাৎসিবাদের মাধ্যমে এমন এক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন যেখানে রাষ্ট্র সমাজ জীবনের সর্বেসের্বা ও চরম ক্ষমতার অধিকারী মনে করা হয়। মূলত হিটলার এক হিংস্র ধ্বংসাত্মক স্বৈরশাসনের সৃষ্টি করে। যেকারণে জার্মানিতে সাম্য, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অনেক বেশি লাঞ্চিত ও পদদলিত হয়। হিটলারের মতে, জার্মান জাতিই হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার একমাত্র মনোনীত জাতি এবং বিশ্বকে শাসন করার দায়িত্ব দিয়েই সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। হিটলারের কর্মকাণ্ডে তাই 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতি লক্ষ করা যায়। তিনি ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় এসে নিরঙ্কুশ একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করার কাজ শুরু করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাও লাভ করেন। হিটলার স্বৈরাচার ও সাফল্যের যোগে জার্মানবাসীকে ভাষণ দ্বারা সম্মোহীত করে ৯০ শতাংশ ভোট প্রাপ্তির মাধ্যমে জার্মানির প্রধান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। হিটলার জার্মানিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি থেকে মুক্ত করতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত করেন এবং এ যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে ধ্বংস স্তূপে পরিণত করেন আর জার্মানিকে আবারও ভীষণ লজ্জার ভিতরে রেখে যান।
পরিশেষে বলা যায়, এডলফ হিটলার তার ধ্বংসাত্মক কার্যকমের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তার উত্থান জার্মানির ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করে জার্মান এবং পৃথিবীতে এক সংকট সৃষ্টি করেছিল।
Related Question
View Allদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অক্ষশক্তি চুক্তি নামে পরিচিত। মূলত এটি ছিল কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি। তবে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি হলেও এটিকে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সামরিক জোটও বলা যেতে পারে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের দুর্বলতা ও তাদের পারস্পরিক দুর্বলতার সুযোগে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। পরবর্তী বছর ১৯৩৭ সালে ইতালি এ চুক্তিতে যোগ দেয়। এর ফলেই রোম-বার্লিন-টোকিও উদ্ভব হয়। এ চুক্তি ইউরোপে নতুন শক্তিসাম্য গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের জনক বেনিতো মুসোলিনী ১৮৮৩ সালে ইতালির রোমানিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কর্মকার। শিক্ষা শেষে স্কুলশিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক প্রশিক্ষণ এড়াতে তিনি সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দিয়ে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৯১২ সালে সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্র 'আভান্তি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯১৯ সালে 'এক সম্মেলনে ফ্যাসিস্ট দল গঠন করেন। ফ্যাসিবাদ ছিল ইতালির সামাজিক অবক্ষয়ের যুগের একটি রাজনৈতিক ব্যাভিচার। গণতন্ত্রের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে ফ্যাসিবাদীরা ঘৃণা করত।
উদ্দীপকে 'X' নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে বল প্রয়োগে ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে তার মত ছিল।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'X'-দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উক্ত ব্যক্তির অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতি ছিল সম্প্রসারণবাদ।
মুসোলিনীর' পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রসারণবাদ। ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি ঘোষণা করেন, "আমি যুদ্ধ ভালোবাসি, যুদ্ধ করা আমার সহজাত প্রবণতা।" এ উপলক্ষে তিনি ইতালির পদাতিক, নৌ, বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজান। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের মানসিকতা প্রস্তুত করেন। তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ভার্সাই সন্ধির প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করেন। তিনি বুঝেছিলেন যে, । ইতালির সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করে তুলতে হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি ইত্যাদি শক্তিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করতে হবে। এজন্য তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করেন এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালির প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার কৌশল অবলম্বন করেন। মুসোলিনী তার এসব কৌশল প্রয়োগ করে বেশকিছু উপনিবেশ পুনরুদ্ধারে সফল হন। ১৯২৩ সালে গ্রিসের কফুদ্বীপ গ্রিসকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা ফেরত নিতে হয়। এতে নিজ দেশে মুসোলিনীর ভাবমূর্তি বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৩৬ সালে, স্পেনে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটলে মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোকে সমর্থন করেন। মুসোলিনী নিজ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য জার্মানির হিটলারের সাথে মৈত্রী বন্ধনে আবন্ধ হন।
পরিশেষে বলা যায়, মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে ইতালির সম্প্রসারণ ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালিকে সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদন করা।
জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মার্কিন জনগণ মিত্রপক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। মার্কিন সরকার ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে 'Lend-Lease Act' আইন পাস করে মিত্রশক্তিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে জার্মান ডুবোজাহাজগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিতে শুরু করলে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর অক্ষশক্তির সদস্য জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'পার্ল হারবার' আক্রমণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!