হূৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্যদিয়ে প্রবাহকালে ধমনির প্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে।
মানুষের হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে সিস্টোল বলে। হৃৎপিন্ডের সংকোচনের ফলে ধমনিতে রক্তের যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ বলে। সিস্টোলিক রক্তচাপের সময় অ্যাট্রিয়াম দুইটি সংকুচিত হয় এবং ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা বন্ধ থাকে এবং সেমিলুনার কপাটিকা খোলা থাকে। সিস্টোলের সময়ই সাধারণত রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়। স্বাভাবিক এবং সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদস্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার
রাফিনের আব্বার লক্ষণগুলো দেখে বুঝা যায় যে, তার বহুমূত্র রোগ হয়েছে। বহুমূত্র এক প্রকার বিপাকজহনিত রোগ। মানবদেহের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এ রোগের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। বহুমূত্র রোগের লক্ষণসমূহ হলো-
i. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বিশেষ করে রাতে।
ii. খুব বেশি পিপাসা লাগা।
iii.
বেশি ক্ষিদে পাওয়া এবং অতিমাত্রায় শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা।
iv.
যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া।
V.
সামান্য পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া এবং দুর্বল অনুভব করা।
vi.
চামড়া শুকিয়ে যাওয়া।
vii.
চোখে ঝাপসা দেখা।
viii.
শরীরের কোথাও ক্ষতের সৃষ্টি হলে দেরিতে শুকানো ইত্যাদি।
বহুমূত্র রোগটিতে আক্রান্ত হলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, যেমন- হৃদপিণ্ড, বৃক্ক, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাঁধা সৃষ্টি হয়। এ রোগে আক্রান্তদের করোনারি হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি।
ডাক্তার সাহেব রাফিনের আব্বাকে সুস্থ থাকার জন্য কিছু নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলার উপদেশ দিয়েছিলেন।
যেহেতু রাফিনের আব্বার বহুমূত্র রোগ হয়েছে সেহেতু তাকে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শৃঙ্খলা মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। ডাক্তার সাহেব তাকে শৃঙ্খলা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
নিচে এগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: রাফিনের আব্বার ওজন বেশি হলে তাকে ওজন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। তার একটুও চিনি বা মিষ্টি খাওয়া চলবে না। এমন খাবার তার খাওয়া উচিত যা প্রোটিনসমৃদ্ধ (গাঢ় সবুজ রঙের শাক-সবজি, বরবটি, মাশরুম, বাদাম, ডিম, মাছ, চর্বি ছাড়া মাংস ইত্যাদি) আর যাতে শ্বেতসার কম থাকে।
ওষুধ সেবন: রাফিনের আব্বাকে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক রোগীদের এ দু'টি নিয়ম যথাযথভাবে পালন করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। কিন্তু ইনসুলিন নির্ভর রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশনের দরকার হয়।
জীবন শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা বহুমূত্র রোগীর জীবন কাঠি। তাকে বিশেষ নজর দিতে হবে নিম্নোক্ত বিষয়ে-
i. নিয়মিত ও পরিমাণমতো সুষম খাবার খেতে হবে।
ii. নিয়মিত ও পরিমাণমতো ব্যায়াম করতে হবে।
iii. নিয়মিত প্রসাব পরীক্ষা এবং ফলাফল লিখে রাখতে হবে।
iv. মিষ্টি খাওয়া সম্পূর্ণ ছাড়তে হবে।
বহুমূত্র রোগ সম্পূর্ণভাবে নিয়াময়যোগ্য রোগ নয় বলেই ডাক্তার সাহেব রাফিনের আব্বাকে শৃঙ্খলা পালন ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
Related Question
View Allহৃদপিন্ডের সংকোচন উপসরনের ফলে হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহকালে ধমনি প্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে।
সিস্টোলিক রক্তচাপ হল হৃদযন্ত্র সংকোচনের (সিস্টোল) সময় ধমনীগুলিতে সৃষ্ট সর্বোচ্চ চাপ। যখন হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্তকে ধমনীগুলির মধ্য দিয়ে পাম্প করে, তখন ধমনীর দেয়ালে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ বলা হয়। রক্তচাপ পরিমাপের সময় এটি উপরের সংখ্যা হিসাবে প্রকাশিত হয় (যেমন, 120/80 mmHg হলে 120 হলো সিস্টোলিক রক্তচাপ)। এটি হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।
রাফিনের আব্বার উপসর্গগুলির ভিত্তিতে বলা যায় যে তিনি সম্ভবত ডায়াবেটিস (বহুমূত্র রোগ) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
ব্যাখ্যা:
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী (ক্রনিক) রোগ যেখানে দেহে ইনসুলিন নামক হরমোনের কার্যকারিতা কমে যায় বা দেহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
- ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রক্তে উচ্চ গ্লুকোজের মাত্রা ক্ষত নিরাময়ে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগে।
- চামড়া শুকিয়ে যাওয়া: ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
- সহজেই ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়া: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় না, ফলে সহজেই ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হয়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন অপরিহার্য। ডাক্তার সাধারণত রোগীদের জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে থাকেন যাতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
■ রক্ত (Blood) কী ?
সাধারণত শরীরের কোন অংশে কেটে গেলে লাল রঙের যে তরল পদার্থ বের হয়ে আসে, তাই রক্ত।
▪︎রক্ত হচ্ছে প্লাজমা ও প্লাজমায় ভাসমান বিভিন্ন কোষীয় উপাদানে গঠিত জটিল তরল টিস্যু।
▪︎রক্ত (Blood) হল মানুষের দেহের এক প্রকার
তরল যোজক কলা (Liquid Connective Tissue)
যা কোষবহুল, বহু জৈব ও অজৈব পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত সামান্য লবণাক্ত, আঠালো, ক্ষারধর্মী লালবর্ণের ঘন তরল পদার্থ এবং হৃৎপিন্ড, ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকার মধ্য দিয়ে নিয়মিত প্রবাহিত হয়ে দেহে অক্সিজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ পরিবাহিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!