উদ্দীপনা গুণটি থাকলে গৃহ ব্যবস্থাপক আগ্রহ ও আনন্দের সাথে যেকোনো কাজ করবে।
গৃহকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একজন গৃহব্যবস্থাপককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। গৃহ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো হলো-
- গৃহে সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা।
- পরিবারের আয় ও ব্যয়ের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
- পরিবারের সুষ্ঠু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুষ্ঠু ভোগ আচরণ গড়ে তোলা।
- কাজের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
রাফির কর্মকাণ্ডে গৃহ ব্যবস্থাপকের উদ্দীপনা গুণটি ফুটে উঠেছে।
গৃহ ব্যবস্থাপকের একটি বিশেষ গুণ হলো উদ্দীপনা। উৎসাহ উদ্দীপনা ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা আসে না। যখন যে কাজের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন সে কাজের গুরুত্ব সম্বন্ধে বিশ্বাস রেখে নিষ্ঠার সাথে কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টাকেই উৎসাহ ও উদ্দীপনা বলা হয়। গৃহ ব্যবস্থাপকের এই গুণটি অন্য সদস্যের মধ্যে সঞ্চারিত হয়ে যায়। উদ্দীপনা থাকলে আগ্রহ ও আনন্দের সাথে সব কাজ সম্পন্ন করা যায়। আবার দেখা যায়, উৎসাহ উদ্দীপনার অভাবে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় না। ফলে লক্ষ্য অর্জনও সম্ভব হয় না।
রাফির বয়স ১৯ বছর। সে জীবনে প্রথম তার ভাই রানার উৎসাহে একজন রোগীকে রক্তদান করে। ভাই এর অনুপ্রেরণায় সে রেড ক্রিসেন্টে যোগ দেয়। রাফির এ সকল কর্মকাণ্ড গৃহব্যবস্থাপকের উদ্দীপনা গুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, রাফির কর্মকান্ড উদ্দীপনা গুণকেই নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই ভাইয়ের কর্মকাণ্ডে সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ ফুটে ওঠে।
পরিবারের মাধ্যমে সদস্যরা সামাজিক রীতিনীতি, মতাদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় এবং সামাজিকভাবে গড়ে ওঠে। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে তারা সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখতে পারে। যেমন- লিওক্লাব, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্ট ইত্যাদিতে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন দুর্যোগকালীন আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত হওয়া যায়।
একজন গৃহ ব্যবস্থাপক তার পরিবারের সদস্যদের শিষ্টাচার, আদর্শ, মূল্যবোধ শিক্ষাদানের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, স্নেহ, ভালোবাসা শিক্ষাদানের পাশাপাশি প্রতিবেশিদের প্রতি দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে আগ্রহী করে তোলেন। যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, মিলাদ, ঈদ, পূজা, বড়দিন, মৃত্যুবার্ষিকী, অসহায় ও দুস্থদের সাহায্য করা ইত্যাদি। এছাড়া গৃহ ব্যবস্থাপক জাতি, জাতীয় অনুষ্ঠান, নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে তার পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলেন। উদ্দীপকে রাফি ও রানা দুই ভাই রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত। তারা রক্তদানসহ সংস্থাটির নানা কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। এসকল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকছে। তাদের এসকল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে যাচ্ছে।
Related Question
View Allগৃহে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গৃহ ব্যবস্থাপক।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে সানজিদা খাতুনের যে গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো পরিবারের সদস্যদের জন্য কাজের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
পরিবারের সকল সদস্য যেন তাদের করণীয় কাজগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য সানজিদা খাতুন কাজের উপযুক্ত, উন্নত ও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ফলে সদস্যদের কাজ তুলনামূলক সহজ হয়ে যায় এবং তারা উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে সফলতার দিকে অগ্রসর হয়।
সানজিদা খাতুন তার সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য আলো-বাতাসপূর্ণ ও কোলাহলমুক্ত স্থান নির্বাচন করেছেন। এছাড়া তিনি তাদের শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সঠিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখেন। ফলে তার সন্তানেরা নির্বিঘ্নে আরামদায়ক পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে। পরিবারের সদস্যদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রত্যেক গৃহ ব্যবস্থাপকের কর্তব্য। সানজিদা খাতুনও তাই করেছেন।
সানজিদা খাতুন বাসায় মেহমান এলে তাদের যত্ন ও আপ্যায়ন করতে প্রায়শ বিরক্ত হন। তার এ আচরণটি দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপকের গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মানুষ সামাজিক জীব। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী নিয়েই আমাদের জীবন। তাই সকলের সাথে ভালো ব্যবহার ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে মেহমান এলে আপ্যায়নের মাধ্যমে তাদের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এ সময় যদি তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা হয় তাহলে সম্পর্কের মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয় যা সামাজিক জীবনযাপনের অন্তরায়।
সানজিদা খাতুনের মধ্যে গৃহ ব্যবস্থাপকের যে গুণটি নেই তা হলো অভিযোজ্যতা। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হলো অভিযোজ্যতা। যিনি যত ভালোভাবে অভিযোজন করতে পারবেন, তিনি তত সহজেই যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপককে পরিবর্তিত অবস্থার সাথে অভিযোজন করে সকল কাজ করতে হয়। তাই সানজিদা খাতুনের মধ্যে অভিযোজ্যতা গুণটি থাকা প্রয়োজন।
গৃহে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গৃহ ব্যবস্থাপক।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!