আল্লাহ বলেন, "বস্তুত এটি সম্মানিত কুরআন। সংরক্ষিত ফলকে লিপিবন্ধ।" (সূরা আল-বুরুজ: ২১-২২)
কুরআন (ভার্ড) শব্দটি আরবি। যা কারউন (ত) মূল ধাতু থেকে উৎকলিত। যার অর্থ একত্র করা, সন্নিবেশ করা, জমা করা। আর এর সম্প্রসারিত অর্থ অধ্যয়ন করা, আবৃত্তি করা ও পাঠ করা। আল্লামা ফুরকানী বলেন, কুরআন শব্দটি কারাআতুন (চার্জ) মূল ধাতু হতে এসেছে। যার অর্থ পাঠ করা। এ গ্রন্থটি সর্বাধিক পঠিত বলে একে কুরআন বলা হয়।
আল-কুরআন বিশ্বমানবের ইহকাল ও পরকালের সামগ্রিক কল্যাণের ধারক ও বাহক। স্থান, কাল ও জাতিভেদে কুরআন মানবজাতির জন্য একটি শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান । ইসলামি শরিয়তের উৎস হিসেবে কুরআন সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান ভিত্তি। গোটা বিশ্বমানবতার পথনির্দেশক হলো কুরআন।
বর্তমান ঘটনাবলি ছাড়াও অতীতের সকল নবি-রাসুলের শিক্ষা-আদর্শ, কার্যকলাপ ও কৃতিত্বের নিখুঁত বিবরণ এবং অতীত জাতিসমূহের সার্বিক তথ্য কুরআনে সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি এক অনন্ত জ্ঞানভান্ডার। মানবজীবনে যত প্রকার সমস্যা আছে তার সমাধান, যত প্রকার জিজ্ঞাসা আছে তার উত্তর, মানবজীবনে যা কিছু প্রয়োজন তার বিধিব্যবস্থা কুরআনে কারিমে আছে। মানুষের জাগতিক, আত্মিক সব ব্যাপারে কুরআনে কারিমে আলোচনা করা হয়েছে। সর্বোপরি ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের পথনির্দেশনা কুরআনে রয়েছে।
কাজেই ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি পেতে হলে রাফি ও রাসেলের অবশ্যই কুরআনের অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
অতীত যুগের সকল আসমানি গ্রন্থই ছিল কোনো গোষ্ঠী, জাতি বা ভৌগোলিক সীমারেখাবেষ্টিত জনগোষ্ঠীর জন্য। আর তা ছিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হিদায়েতের উৎস। কিন্তু আল-কুরআন কোনো নির্দিষ্ট জাতি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়, দেশ বা কালকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়নি। এটি বরং সমগ্র বিশ্বমানবতার জন্য সর্বাত্মক হিদায়েতের সওগাত নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। মহান আল্লাহ এ মর্মে ঘোষণা করেন, "সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি এ কিতাব অবতরণ করেছেন, আর এতে তিনি কোনো প্রকার বক্রতা তথা অপূর্ণতা রাখেননি।" (সূরা কাহাফ: ১) এ পবিত্র কুরআনই ইসলামি জীবনব্যবস্থার মূলনীতি ও অনুশাসনের উৎস। পবিত্র কুরআনের ওপরই ইসলামি শরিয়তের সম্পূর্ণ ইমারতের অবকাঠামো প্রতিষ্ঠিত। কুরআনের মাধ্যমে ইসলামি জীবনব্যবস্থা পরিপূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। জীবনব্যবস্থার পরিপূর্ণতার কথা ঘোষণা করে আল্লাহ বলেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের, জন্য আমার নিয়ামতসমূহ সম্পূর্ণ করে দিলাম। আর তোমাদের জন্য একমাত্র জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করে দিলাম।” (সূরা মায়িদা: ৩)
পরিশেষে বলা যায় যে, আল-কুরআন চিরন্তন, শাশ্বত মহাগ্রন্থ এবং পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এর অনুসরণ করলেই মানবজাতি পাবে মুক্তির দিশা।
Related Question
View Allআরবি হরফ উচ্চারণের স্থানকে মাখরাজ বলে।
পবিত্র কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করা যায়। আবার দেখেও পাঠ করা যায়। দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে। নাযিরা তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা এরূপ তিলাওয়াতকারীকে আখিরাতে অত্যধিক সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন।
নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে فِيهَا )ফিহা) তিলাওয়াতের সময়ে ও বর্ণ এবং বর্ণ (তাজবিদ অনুযায়ী) সঠিক নিয়মে পড়েনি। এখানে নাবিহা মাদ্দ-এর নিয়ম অমান্য করেছে।
আমরা জানি, মাদ্দের হরফ মোট তিনটি- আলিফ, ওয়াও, ইয়া )۱...ي( এ তিনটি হরফ নিম্নলিখিত অবস্থায় মাদ্দের হরফ হিসেবে উচ্চারিত হয়-
১.। (আলিফ) এর পূর্বের হরফে যবর থাকলে। যেমন-
২. , (ওয়াও) এর ওপর জযম এবং তার ডান পাশের হরফে পেশ থাকলে। যেমন-
৩. ৬ (ইয়া) এর ওপর জযম এবং এর ডান পাশের অক্ষরে যের থাকলে। যেমন-
উপরিউক্ত তিনটি অবস্থায় ডু...। মাদ্দের হরফ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এর পূর্বের অক্ষর একটু দীর্ঘ করে পড়তে হয়। সুতরাং নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে তাজবিদের মাদ্দের বিষয়টি ত্যাগ করেছে।
উদ্দীপকে নারিহাকে তার বাবা নির্ভুল তিলাওয়াতের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।
আমরা জানি, কুরআন তিলাওয়াত সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত। কুরআন তিলাওয়াতে ফজিলত অপরিসীম। কুরআন তিলাওয়াতের এসব ফজিলত লাড করা যায় শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এজন্য তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত জরুরি। তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। তিনি বলেছেন-
وَرَيْلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا অর্থ : আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও
সুস্পষ্টভাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল: ৪)
তাজবিদ না জেনে কুরআন পাঠ করলে তা শুদ্ধ হয় না। আর কুরআন পাঠ শুদ্ধ না হলে নামায সঠিকভাবে আদায় হয় না। এরূপ তিলাওয়াতকারী কোনো সওয়াবও লাভ করবে না।
সুতরাং বলা যায়, মাওলানা আহমাদ সাহেব তার মেয়ে নাবিহাকে যে বিষয়টি তাগিদ দিয়েছেন, সেটি হচ্ছে তাজবিদ অনুসরণ। কাজেই নাবিহা তাজবিদ মেনে শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে কুরআন পাঠ করবে। আর এজন্য প্রথমেই তাজবিদ শিক্ষা করবে। এরপর কুরআন পাঠের সময় এ নিয়মগুলোর অনুশীলন করবে।.
বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়।
আমাদের সমাজে ধনী-গরিব, সাদা-কালো, সুস্থ-অসুস্থ, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবরকমের লোকদের নিয়েই আমাদের সমাজ। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সকলের মধ্যে = ঐক্য ও সহযোগিতা না থাকলে কোনো সমাজ উন্নতি লাভ করতে - পারে না। আর এর জন্য প্রয়োজন মানুষের প্রতি প্রীতি, দয়া-মায়া, ভালোবাসা। আর এটাই মানবপ্রেম, যা মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!