সুসংঘবদ্ধ জ্ঞান প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচালিত কিছু সংখ্যক নীতির সমষ্টিই হচ্ছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণ লব্ধ তথ্যসমূহের বিচার বিশ্লেষণপূর্বক জ্ঞান অন্বেষণের প্রচেষ্টা চালায়।
সমাজবিজ্ঞান অন্যান্য প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতোই গবেষণা ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে এবং বিজ্ঞানের ধর্ম মোতাবেক সমাজবিজ্ঞানও নৈতিকতার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকে। অতএব এ বিজ্ঞানের মধ্যে বিজ্ঞানের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি থাকায় এটি বিজ্ঞানের মর্যাদা লাভ করে।
উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞানের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
কোনো সমাজ বা সংস্কৃতির নানা আচরণ, রীতিনীতি ও কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ঐ সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কৌশলকে বলা হয় অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্তসমূহ নিখুঁত ও অবিকল হয়। এর ফলে নির্ধারিত বিষয়ের অনেক গভীরে প্রবেশ করা যায়। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে গবেষক তার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সহজে সংগ্রহ করতে পারে। এ পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো গবেষণার জন্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গবেষণারত এলাকার মানুষের মাঝে দীর্ঘদিন অবস্থান করা। যেমনটি উদ্দীপকের রাব্বির ক্ষেত্রেও দেখা যায়।
উদ্দীপকের রাব্বি কয়েক বছর ধরে একটি গোষ্ঠীর সাথে বসবাস করে তাদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আসছে। বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তার ব্যবহৃত গবেষণা পদ্ধতিটি অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যেহেতু সে প্রত্যক্ষভাবে সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সেহেতু তার অনুসরণকৃত পদ্ধতিটি নিঃসন্দেহে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি।
হ্যাঁ, রাব্বির গবেষণা কার্যক্রমটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধাপের সাথে সংগতিপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কোনো নির্ধারিত বিষয় নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করা হয়। এ পদ্ধতির প্রথম ধাপ হচ্ছে সমস্যা নির্বাচন করা। সমস্যা নির্বাচন ব্যতীত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কোনো স্তরে অগ্রসর হওয়া যায় না। এর পরবর্তী ধাপগুলো হচ্ছে সমস্যার তাত্ত্বিক কাঠামো গঠন, অনুমিত সিদ্ধান্ত প্রণয়ন, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য সাজানো, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যদ্বাণী। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উক্ত ধাপসমূহ ক্রমান্বয়ে অনুসরণ না করলে সঠিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।
উদ্দীপকের রাব্বিও অনুরূপভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির ধাপ অনুসরণ করেছে। কারণ সর্বপ্রথম সে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী নির্বাচন করে তার গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে এবং ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে থাকে। এক পর্যায়ে সে তার সংগৃহীত তথ্যগুলোকে বিশ্লেষণ করে যেটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির একটি প্রধান ধাপকে নির্দেশ করে। তাই আমি মনে করি, রাব্বির গবেষণা কার্যক্রমটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
Related Question
View Allহার্বাট স্পেন্সার তার The Principles of Sociology' গ্রন্থে চার ধরনের সমাজের কথা উল্লেখ করেছেন।
গণমাধ্যম আধুনিককালে ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
গণমাধ্যম বলতে বোঝানো হয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইত্যাদিকে। এসব মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান শিশুদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এর ফলে শিশু-কিশোররা নিজেদেরকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হয়।
উদ্দীপকের আশুর পঠিত বিষয়ের সাথে অর্থাৎ- সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান ঠিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো নয়, তবে এটি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করে। বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রজ্ঞা, ধীশক্তি, নির্দেশনা বা ধারণার জন্ম দেওয়া নয়, বরং জ্ঞানের উদ্ভাবন। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে প্রথমে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করা হয়। তারপর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন এবং তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় এবং এর ভিত্তিতে একটি সাধারণ সূত্রে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যসমূহের বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক জ্ঞান অন্বেষণের প্রচেষ্টা চালায়। এদিক থেকে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের আশু বলে, সমাজের গতি-প্রকৃতি জানতে হলে একটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয় এবং এ বিষয়টি পদ্ধতিগত দিক থেকে বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়েছে। আশুর এ বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে। আর সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক মিল বা সাদৃশ্য যা উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আশুর পঠিত বিষয় সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের মিল বা সম্পর্ক রয়েছে।
উদ্দীপকের আশুর বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের সমাজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আর সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। সমাজের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার কারা কতটা এবং কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাইবা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, সম্পর্ক, কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের সমস্যা দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান পথ নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জন অসন্তোষ, সম্পদহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য সমাধান সূত্র নির্ণয়ে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজ যেহেতু প্রধানত স্তৱায়িত, তাই সমাজ উন্নয়নে কোন শ্রেণির বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর কী ভূমিকা থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকে জানতে ও বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সমাজকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে।
বিজ্ঞান শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশেষ জ্ঞান।
যুক্তি বিকাশের ধারাবাহিকতায় মানুষের অগ্রসর চিন্তার ফসল হচ্ছে একেশ্বরবাদ।
যুক্তির ধারাবাহিকতায় বহু ঈশ্বরের ক্ষমতা একজন ঈশ্বরের ওপর আরোপ করা হয়। এখানে মনে করা হয়, সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনার সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে সর্বশক্তিমান একক সত্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!