'পড়ে পাওয়া' গল্পটি 'নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব' গ্রন্থ থেকে সংকলিত।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে কিশোরদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও বিবেচক বলে বিধুকে সবাই বলত- ‘ও বড় হলে উকিল হবে।’
'পড়ে পাওয়া' গল্পে কিশোরদের সর্দার বিধু বৈশাখ মাসে পশ্চিম আকাশে মেঘের ডাক শুনে কালবৈশাখী ঝড়ের বিষয় বুঝতে পারে। সে সবাইকে নিয়ে আম কুড়াতে ছুটে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে তাদের দলের' বাদল এবং এ গল্পের লেখক ডবল টিনের একটি ক্যাশবাক্স কুড়িয়ে পায়। বাদল বাক্সটি ভাঙতে চায় কিন্তু লেখক রাজি হয় না। তারা বাক্সটি ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে মিটিংয়ে বসে। সেখানে তাদের সর্দার বিধু বাক্স কুড়িয়ে পাওয়ার খবরটি তিনটি কাগজে লিখে নদীর ধারে ভিন্ন ভিন্ন গাছে লাগিয়ে দিতে বলে। টাকার লোভে অনেকে বাক্স নিতে এলেও অবশেষে বাক্সের প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেয়ে লেখকের বাবাকে সাক্ষী রেখে অম্বরপুরের কাপালিকের কাছ থেকে বাক্স বুঝে পাওয়ার একটি কাগজে লিখে নেয়। এ থেকেই প্রমাণ হয় যে, বিধু অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং উকিলের বুদ্ধিসম্পন্ন। এ কারণেই সবাই তাকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলত বলে লেখক মন্তব্য করেছেন।
উদ্দীপকের রাশিকের কাজটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের নির্লোভ ও সততার দিকটিকে নির্দেশ করে।
সততা মানুষের মহৎ গুণ। সৎ মানুষেরা কখনো অন্যের জিনিসে লোভকরেন না। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করেন না। সৎচিন্তা ও বিবেকবোধ মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করে, যা জীবনে প্রশান্তি বয়ে আনে।
উদ্দীপকে একজন ক্রেতার নির্লোভ সততার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে রাশিক, ৪০ টাকার জিনিস কিনে দোকানিকে ৫০ টাকার নোট দেয়। দোকানি ভুল করে তাকে ৬০ টাকা ফেরত দিলে রাশিক সঙ্গে সঙ্গেই অতিরিক্ত টাকা দোকানিকে ফেরত দেয়। এতে ঐ দোকানি খুশি হয় এবং তার প্রশংসা করেন। উদ্দীপকের রাশিকের সততার দিকটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের সততার দিকটিকে নির্দেশ করেছে। গল্পে লেখক ও তার বন্ধু বাদল কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি না ভেঙে তাদের সর্দার বিধুর পরামর্শমতো প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তার হাতে তুলে দিয়েছে। অম্বরপুরের দরিদ্র কাপালিকও ঐ বাক্স পেয়ে গল্পের কিশোরদের প্রশংসা করেছে এবং খুশি হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই নির্লোভ মানসিকতা ও সততার পরিচয় পাওয়া যায়।
না. উদ্দীপকের দোকানির মতো করে কিশোরদের প্রশংসার জন্যই লেখক 'পড়ে পাওয়া' গল্পটি লেখেননি।
সততা মানুষের চরিত্রের অমূল্য সম্পদ। সৎ ব্যক্তিকে সবাই সম্মানের চোখে দেখেন। জীবনে সততা ও নির্লোভ মানসিকতা সুখ এনে দেয়। এই সততার চর্চা যদি কিশোর বয়স থেকে শুরু হয়, তাহলে সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি বিরাজ করে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে লেখক কিশোরদের ঐক্যচেতনা এবং তাদের উন্নত মানবিকবোধের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এখানে কিশোররা সবাই মিটিং করে কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ-সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে নির্লোভ মানসিকতা ও সততার পরিচয় দিয়েছে। লেখক এখানে তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতার দিকটি প্রধানরূপে নির্দেশ করেছেন। কিশোরদেরও যে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বিচার-বিবেচনাবোধ থাকতে পারে তা এ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে একজন দলনেতার বৈশিষ্ট্যও প্রতিফলিত হয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। উদ্দীপকে রাশিকের সততা গল্পের কিশোরদের সততার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। শুধু এই দিক বিচারে গল্প লিখলে লেখক কিশোরদের ঐক্যবদ্ধ চেতনা, তাদের মধ্যে বাস্তব জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা এবং কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস ফেরত দেওয়ার কৌশল এসব বিষয় সংযোজন করতেন না।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে কিশোরদের সততা ও মানবিকতা যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনই দরিদ্র অসহায় মানুষের প্রতি ভালোবাসার চিত্রও ফুটে উঠেছে। কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি কোনো গরিব লোকের হলে তার কী কষ্ট হচ্ছে সে বিষয়টিও গল্পকথক লেখক এবং তার বন্ধু বিবেচনা করেছে। এ গল্পে নদীতে ভীষণ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা এবং তাদের প্রতি বিত্তশালীদের সহানুভূতি ও মানবিকতার দিকটিও প্রতফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে এ ধরনের বিষয় নেই। সেখানে দোকানি যে প্রশংসা করেছেন এবং খুশি হয়েছেন, সেই তুলনায় দরিদ্র কাপালিকের বাক্স ফেরত পাওয়া অনেক বেশি আনন্দের এবং অনেক বেশি মানবিক কাজ। তাই বলা যায়- প্রশংসা নয়, কর্তব্যপরায়ণতা ও নৈতিক চেতনার দিকটিই গল্পে মুখ্য হয়ে উঠেছে।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!