সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সামাজিক মানুষে পরিণত হয়।
অর্থনৈতিক সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দ্বারা সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়।
একটি সমাজে যদি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়, তবে সেই সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার মানও পরিবর্তিত হয়। সেইসাথে পরিবর্তিত হয় সামাজিক রীতি-নীতি ও আচার-অভ্যাস এবং উৎপাদন ব্যবস্থা। এসব বিষয় সামাজিকীকরণে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে মানুষ আর্থিক লেনদেন, অর্থব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় শিখে থাকে।
উদ্দীপকে সামাজিকীকরণের পরিবর্তনশীল বাহনসমূহের নেতিবাচক প্রভাব ফুটে উঠেছে।
বাবা-মা শিশুর সামাজিকীরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বাবা-মা যদি ব্যস্ততার কারণে ছেলেমেয়েদের সময় দিতে না পারেন তাহলে শিশুদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ব্যাহত হয়। ভালো- মন্দ, ঠিক-বেঠিক সম্পর্কে তারা সচেতন হয়ে ওঠে না। ফলে তাদের সামাজিকীকরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনুরূপভাবে খেলার সাথীরাও শিশুদের সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের মাধ্যমেই শিশুরা সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। কিন্তু যদি শিশুরা খেলার সাথীদের সাথে মেশার সুযোগ না পায় তাহলে তার সামাজিকীকরণ ব্যাহত হবে। আবার শিশু যদি টিভি, কম্পিউটার প্রভৃতি নিয়ে বেশি সময় কাটায় তাহলে তাদের মধ্যে সংকীর্ণ ও অসহিষ্ণু মানসিকতার জন্ম হয় যা পরবর্তীতে বৃহত্তর সমাজে খাপ- খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অসুবিধাজনক বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাশেদের বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে তাকে সময়। দিতে পারে না। খেলার মাঠের অভাবে সে বিকালে বাইরে খেলতে যেতে পারে না। এজন্যে সে বাড়িতে বসে টিভি দেখে, কম্পিউটারে গেম খেলে। এর ফলে তার মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন আচরণগত সমস্যা যা সামাজিকীকরণের পরিবর্তনশীল বাহনের নেতিবাচক প্রভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সামাজিকীকরণের পরিবর্তনশীল বাহনসমূহের ইতিবাচক- নেতিবাচক উভয় প্রভাবই বিদ্যমান। নিচে এ সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হলো-
পরিবার যেহেতু সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেহেতু এর পরিবর্তনশীলতা সামাজিকীকরণের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ যৌথ পরিবার ব্যবস্থায় শিশুরা সহজে অন্যের সাথে মানিয়ে চলার বিষয়টি আত্মস্থ করতে শেখে। পক্ষান্তরে, একক পরিবারে শিশুরা পিতা-মাতার ব্যস্ততার কারণে খানিকটা একা একা বেড়ে ওঠে। এছাড়া নানা সমস্যার কারণে তারা বাইরের মানুষের সাথে মেলামেশার সুযোগ কম পায়। এর ফলে তাদের মধ্যে সহনশীল মানসিকতার পরিবর্তে সংকীর্ণ মানসিকতার জন্ম হয়।
সামাজিকীকরণে সঙ্গীদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রভাবে শিশু সহযোগিতা, সহনশীলতা সহমর্মিতা, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। কিন্তু বর্তমানে খেলার মাঠের স্বল্পতা, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব ইত্যাদি কারণে শিশুরা অলস সময় কাটাতে কাটাতে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
পরিবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নৈতিকতা, মূল্যবোধ এসকল বিষয়ে চর্চা করে থাকে। এর ফলে শিশুদের ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ সঠিকভাবে বিকশিত হয়। কিন্তু বর্তমানে একক পরিবারের ব্যস্ততার মধ্যে ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে ধর্মীয় অনুভূতি ও জীবনধারা নিয়ে শিশুরা তেমনভাবে বেড়ে উঠছেনা।
সুতরাং উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সামাজিকীকরণে পরিবর্তনশীল বাহনসমূহের ইতিবাচক-নেতিবাচক উভয় প্রভাব বিদ্যমান।
Related Question
View Allফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমকে ক্রিয়াবাদের জনক বলা হয়।
শিক্ষা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'শাস' ধাতু থেকে। এর অর্থ হলো শাসন করা, শৃঙ্খলিত করা, নিয়ন্ত্রিত করা, শিক্ষা দেওয়া বা নির্দেশনা দেওয়া। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় আমরা যে শিক্ষা কথাটা ব্যবহার করি, তা বিশেষভাবে শিক্ষা কৌশলকেই বোঝায়।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবার থেকে গঠিত মৌলিক ব্যক্তিত্ব সহযোগে শিশুরা শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে আসে। সেখানে নতুন পরিবেশে নানা নিয়ম-কানুনের মধ্যে নতুন সহপাঠী ও অন্যান্যদের সাথে খাপ-খাইয়ে চলতে হয়। শিশুর মূল্যবোধ সৃষ্টিতে পরিবারের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ইত্যাদি শিশুর মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা নানা প্রকারের হলে শিশুর ব্যক্তিত্বও নানাভাবে গড়ে ওঠে। যেমন- আমাদের দেশেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। তাই ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ধরনও বিভিন্ন রকম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকে অন্যতম সামাজিক সমস্যা 'নিরক্ষরতা' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সমাজে নিরক্ষরতার মতো সমস্যা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের যে গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা হলো সামাজিক জরিপ পদ্ধতি।
সামাজিক গবেষণার জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তার মধ্যে সামাজিক জরিপ অন্যতম। জরিপ কথাটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু সরেজমিনে পরিমাপ বা নিরূপণ করা। কোনো সমাজের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কৌশলে তথ্যাবলি সংগ্রহ, তথ্যাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বাছাই, তথ্য যাচাই ইত্যাদি ক্ষেত্রে জরিপ একটি কার্যকরী পদ্ধতি। বস্তুত জরিপ পদ্ধতির সাহায্যে কোনো একটি বিষয়ের সামগ্রিক চিত্র লাভ করা সম্ভব। সামাজিক জরিপ সামাজিক অনুসন্ধানের একটি পদ্ধতি যা বর্ণনা, বিবরণ, উদ্ঘাটন ও ব্যাখ্যামূলক বিভিন্ন সামাজিক তথ্য সরবরাহ করে। এছাড়া উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মসূচির পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, নিরক্ষরতার মতো সামাজিক সমস্যার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সামাজিক জরিপ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ICT-এর পূর্ণরূপ- Information and Communication Technology |
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে একীভূত করা হয়।
বিশ্বায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীর সকল দেশকে একটি ছাতার নিচে। সমবেত করা। মূলত তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বায়নের পথচলা। (১) তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ (২) আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার এবং (৩) উৎপাদিত পণ্যের অবাধ প্রবাহ। সাধারণত সারাবিশ্বে এই তিনটি বিষয়ের অবাধ প্রচলন উপস্থিতি থাকলেই সেই প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!