প্রকৃতির মূল উপাদান চারটি। যথা- মাটি, পানি, বায়ু ও আলো।
ধীরে ধীরে পৃথিবী বাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাচ্ছে বলে মানবজীবনকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বলা হয়েছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে দুই মেরুর বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে সমুদ্রের তীরবর্তী দেশগুলোর নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মানবজীবনকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে রাশেদ সাহেবের কার্যক্রম পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি করছে।
দেশে বেশি বেশি শিল্পকারখানা বৃদ্ধির জন্য শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীর পানিতে মিশ্রিত হয়ে পানি দূষিত হয়। আবার এসব কারখানার কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণ করছে। তাছাড়া গাড়ি, এসি, জেনারেটর ইত্যাদি ব্যবহারের ফলে বায়ু দূষিত হয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশেদ সাহেব নিজের জীবনকে সুখময় করতে বড় বড় কলকারখানা স্থাপন করছেন। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান হতে যে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে তা বাতাসকে দূষিত করছে। এছাড়া কারখানাগুলো হতে যে বর্জ্য পদার্থ নদীতে এসে পড়ছে, তা পানিকে যথেষ্ট দূষিত করছে। এতে মাছ ও পানিতে বসবাসরত অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থল সংকীর্ণ হয়ে আসছে। ফ্ল্যাট ব্যবসায় লাভজনক হওয়ায় বিভিন্ন জলাভূমি ভরাট করে সেখানে বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং পরিবেশ হচ্ছে কলুষিত। রাশেদ সাহেবের ব্যবহৃত গাড়ি, জেনারেটর ও শীতাতপ যন্ত্র পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে এবং খরা, ঝড়, বন্যা ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বৃদ্ধি করছে।
উদ্দীপকে পরিবেশ দূষণের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর এ পরিবেশ রক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি। পদক্ষেপগুলো হলো-
১. অযথা গাছ না কাটা।
২. যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ না করা।
৩. যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলা।
৪. রাস্তাঘাটে থুতু, সর্দি না ফেলা।
৫. লোকালয়ের কাছে শিল্পকারখানা না গড়তে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
৬. হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার ও অফিস এলাকায় শব্দ দূষণ না করা।
৭. পাহাড় না কাটা।
৮. নদী, খাল, হ্রদ বা সমুদ্রসহ ছোটবড় কোনো জলাধারে নোংরা না ফেলা।
উপরিউক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে কলকারখানার বর্জ্য ও অন্যান্য দূষণ থেকে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব।
Related Question
View Allআলো ও তাপের প্রধান উৎস হলো সূর্য।
মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। বুদ্ধি খাটিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করছে। পানির শক্তি কাজে লাগিয়ে বড় বড় কলকারখানা চালাচ্ছে, শহর গড়ছে, গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চালাচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বানিয়ে নিজেদের আরাম বাড়িয়েছে। এভাবে ক্রমেই মানুষ তার প্রয়োজনমতো প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বাড়িয়েছে।
চিত্রে পরিবেশগত সমস্যা তথা পরিবেশ দূষণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আমরা জীবনের জন্য পানি পান করি এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নিই। এ দুটি উপাদান দূষিত হওয়ার কারণে মানুষ বিভিন্ন রোগবালাইয়ে ভুগছে এবং অকালে মৃত্যুবরণ করছে। ক্রমবর্ধমান মানুষের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়াতে হয়। যার ফলে গড়ে উঠেছে অনেক কলকারখানা। এসব কলকারখানার বেশির ভাগ গড়ে ওঠে নদীর উপকূলে। ফলে এর দূষিত বর্জ্য পানিতে মিশে নদীর পানি দূষিত করে। অপরদিকে কলকারখানার কালো ধোঁয়া বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এভাবে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন একটি দেশের পানি ও বায়ু দূষিত করে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশে বায়ুদূষণ করছে। এতে কারখানার বর্জ্য পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে। দৃশ্যমান চিত্রে পানি ও বায়ু এ দুটি মৌলিক উপাদান দূষিত হচ্ছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পরিবেশ দূষণ থেকে উত্তরণের জন্য আমার মতো অনেক শিশুর বেশকিছু করণীয় আছে বলে মনে করি।
পরিবেশ আমাদের সবার। তাই এর যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা হতে সচেতন হয়ে ভূমিকা পালন করতে হবে। যেমন আমরা অযথা গাছ কাটব না। যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করব না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলব না। বাড়ির বর্জ্য যথাস্থানে ফেলব। কোনো জলাধারে নোংরা ফেলব না। গাছ লাগাব ও গাছের যত্ন নেব। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকব। মানুষের সৃষ্ট পরিবেশ দূষণের কারণগুলো জানব ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হব। নিজের খাবার, পোশাক ও. অন্যান্য জিনিস নির্বাচন ও ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্যের কথা বিবেচনা করব। যেসব গাড়ি কালো ধোঁয়া ছাড়ে, সেগুলো বন্ধ করতে শিক্ষক ও বড়দের সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেব।
অতএব বলা যায়, আমি বা আমার মতো শিশুর উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো নিজ অবস্থান হতে গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখব।
কমানুষ যখন থেকে চাষবাস করে স্থিতিবস্থায় এসেছে, তখন থেকেই প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা চালিয়েছে।
প্রকৃতির চারটি মূল উপাদান হলো- মাটি, পানি, বায়ু এবং আলো। মানুষ মাটিকে উৎপাদনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। মাটির উপর জম্মানো গাছপালা, পানি, বায়ু, তাপ ও আলোর সাহায্যে বেড়ে ওঠে। পানি, বাতাস ও তাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়। অতএব বলা যায়, প্রকৃতির মূল উপাদানসমূহ মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
