গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন পদ্ধতির মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের ৫২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসিত করা যায়। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিশংসনের প্রস্তাব স্পিকারের নিকট প্রদান করতে হয়। নোটিশ প্রদানের চৌদ্দ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংসদে এ প্রস্তাব আলোচিত হতে হয়। তারপর সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে সংসদ কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে ঐ তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মিল রয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদমর্যাদার দিক হতে এক বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী। রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে। তিনি সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। তার নামে রাষ্ট্রের সকল নির্বাহী কাজ পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের জনাব 'ক' বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিরই নামান্তর মাত্র।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। তবে তার ক্ষমতা নাম সর্বস্ব। তিনি বছরের প্রথম অধিবেশনে সংসদে ভাষণ দেন। একই ভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী হলেও শুধু নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভাই সকল দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও স্থগিত করেন। প্রতিটি নতুন সংসদের শুরুতে এবং ইংরেজি নববর্ষের শুরুতে তিনি সংসদে ভাষণ দান করেন। রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তিনি বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করবেন। রাষ্ট্রপতি অবস্থায় তিনি কোনো কাজ করলে বা না করলে সেজন্য তাকে আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে প্রকার ফৌজদারি মামলা করা যাবে না এবং তাঁকে গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোনো আদালত পরোয়ানা জারি করতে পারবে না। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের জনাব 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক প্রধান ate রাষ্ট্রপতির পদ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে প্রধানমন্ত্রী দেশটির শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি, মন্ত্রিসভার মূলস্তম্ভ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি বিশ্লেষণ করলেও আমরা তাই দেখতে পাই।
প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীসভা গঠিত হয়, আবার তাকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রিসভার পতন হয়। প্রধনমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। প্রধানমন্ত্রী যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, মন্ত্রিসভার কর্মসূচি ও সংসদের আইন প্রণয়ন ও পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরেই রচিত।
তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী গোটা শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। তিনি সকল প্রকার কার্যের মধ্যমণি।
চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিত্ব ও দলীয় নেতা হিসেবে অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী।
পঞ্চমত, জরুরি অবস্থা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি সংসদ ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন।
ষষ্ঠত, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন এবং এক প্রকার ঐক্যসূত্র গড়ে তোলেন।
সপ্তমত, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় সংহতির প্রতীক। জাতীয় প্রতিরক্ষা তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সংহতির জন্য তিনি সম্ভাব্য সবকিছু করে থাকেন।
অষ্টমত, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ব্যতীত কোনো চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।।
নবমত, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের নেতা। তার নেতৃত্বে ও পরামর্শে সংসদের কার্যক্রম পরিচালত হয়। তার পরামর্শ মোতাবেক রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান, মুলতুবি ও স্থগিত করেন।
দশমত, প্রধানমন্ত্রী জাতির নেতা। তিনি সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে বিবৃতি ও বক্তৃতা দান করে জনগণকে অবহিত করেন। জাতীয় স্বার্থ ও সুষ্ঠু রাজনীতি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিদ্যমান রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
Related Question
View Allমন্ত্রণালয় হলো সচিবালয়ের একটি প্রশাসনিক শাখা।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে বিচারকদের স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বিচারের - মাপকাঠি হলো সে দেশের বিচার বিভাগ কার্য সম্পাদনে কতটুকু স্বাধীন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সমাজব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। জনগণের মৌলিক অধিকার, সংবিধান এবং আইন সংরক্ষণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জরুরি।
উদ্দীপকের আবুল কালামের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী। তিনি হলেন শাসন ব্যবস্থার মধ্যমণি। তাকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রিসভা গঠিত ও পরিচালিত হয়। তার পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধান করেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা হারালে কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি একাধারে দলের নেতা, সংসদের নেতা, মন্ত্রিসভার মধ্যমণি, রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা এবং জাতির নেতা ও পথপ্রদর্শক। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সংহতির প্রতীক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আবুল কালাম 'Y' রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তিনি এমন এক সূর্য যার চার দিকে রাজনৈতিক গ্রহগুলো আবর্তিত হয়। উদ্দীপকের 'Y' এর মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাঁর নেতৃত্বেই মন্ত্রিসভা পরিচালিত হয়। আর তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পদ অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
একটি দেশের জনগণ তাদের সরকারের ওপরই সর্বোতভাবে নির্ভরশীল। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান। এ ব্যবস্থায় জনগণ প্রধানমন্ত্রীকেই তাদের মূল আশ্রয় বলে মনে করে। তার ওপর দেশের উন্নতি, অবনতিত, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন প্রভৃতি অনেকাংশে নির্ভর করে।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাই প্রধানমন্ত্রী এ দেশের শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি পর্যন্ত সব বিষয়ের সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট। দেশের উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। সরকারের যেকোনো ব্যর্থতা তার ওপর বর্তায়। এ কারণে তৃণমূল থেকে জাতীয় সব পর্যায়েই তাকে নিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। তিনি জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক সংকট প্রভৃতি ক্ষেত্রে জনগণের পাশে দাঁড়ান, সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে ভরসা দেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশের মতো সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ ও কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের ফলে জনগণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের পদটি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হলেন জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন কিংবা শাসন বিভাগের কাজ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা বিচার বিভাগ কর্তৃক পর্যালোচনা করার ক্ষমতাই হলো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা।
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক। সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষাকারী হিসেবে বিচার বিভাগ এর শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য সচেষ্ট থাকে। বিচার বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন সংবিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ, তাহলে তা বাতিল করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের রয়েছে। তেমনি শাসন বিভাগের কোনো কাজ সংবিধানসম্মত না হলে বিচার বিভাগ তা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা বজায় রাখতে বিচার বিভাগ এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!