রাষ্ট্রের মুখপাত্র হচ্ছে সরকার।
সরকার হচ্ছে একটি বাস্তব রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্ররের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, বিধিনিষেধ সরকারের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সরকার বলতে সাধারণত আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বোঝায়। উইলোবীর মতে, “সরকার হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান বা যন্ত্র যার মাধ্যমে রাষ্ট্র তার ইচ্ছাকে গঠন ও কার্যকর করে।"
আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক সরকারকে দু ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। নিচে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের মধ্যে বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পার্থক্য হচ্ছে-
১. যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। অন্যদিকে, যে শাসনব্যবস্থায় শাসনকার্য পরিচালনার ভার রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং তিনি সাধারণত আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে।
২. সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান একই ব্যক্তি।
৩. সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যগণকে আইনসভার সদস্য হতে হয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিগণ সাধারণত আইনসভার সদস্য নন।
৪. সংসদীয় সরকারে আইনসভা যেকোনো সময় অনাস্থা প্রস্তাব এনে মন্ত্রিসভাকে পদচ্যুত করতে পারে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে আইনসভা মন্ত্রীদের পদচ্যুত করতে পারে না।
৫. জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সংসদীয় সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।
উদ্দীপকে গণতন্ত্রকে সকল শাসনব্যবস্থার চেয়ে সর্বোত্তম বলা হয়েছে। বাস্তব অর্থেও তাই। গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার। কেননা গণতন্ত্রে জনগণের অধিকার রক্ষার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। গণতন্ত্রে জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে জনগণের শাসন। এজন্যই আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত জনগণের সরকার।" জনগণ নিজেরাই নিজেদের মধ্য থেকে সরকার নির্বাচন করে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়। সরকারকে জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় যেতে হয়। আবার জনগণের আস্থা বা সমর্থন হারালে সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। গণতন্ত্রে প্রত্যেক নাগরিকেরই রাজনৈতিক দল গঠনের ও নির্বাচনেঅংশগ্রহণের অধিকার আছে। এজন্যই অধ্যাপক সিলি বলেছেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলেরই অংশগ্রহণের সুযোগ আছে।" গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসন কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এতে জনগণের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। গণতন্ত্রে সরকার তাদের কাজের জন্য জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য। গণতন্ত্র আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখে। গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যবস্থা থাকায় বিপ্লব বা বিদ্রোহের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া গণতন্ত্রে বংশমর্যাদা বা ধনসম্পদের জন্য কাউকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয় না। এখানে ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, সাধারণ-অভিজাত সবাই সমান। সুতরাং বলা যায়, নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র সকল শাসনব্যবস্থার চেয়ে সর্বোত্তম।
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!