রাসমোহন নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের দপ্তরি ও দারোয়ান। সে রাতে স্কুলঘরেই ঘুমায়। সে-ই মিলিটারি কর্তৃক আজিজ মাস্টারকে ডাকার কথা জানায়। রাসমোহনের বর্ণনামতে, সে স্কুলঘরে ঘুমাচ্ছিল। চারদিক তখনও অন্ধকার ছেয়ে ছিল। কে যেন তার পায়ে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে মুখে টর্চের আলো ফেলল। সে উঠে দেখে স্কুলে মিলিটারি গিজগিজ করছে। চার-পাঁচশ জনের বেশি মিলিটারি ছিল সেখানে। সবাই ছিল মস্ত জোয়ান যুবক। তাদের হাতে অস্ত্রপাতি ছিল। তারা বাংলায় কথা বলছিল। রাসমোহনকে নাম-পরিচয় জিজ্ঞেস করেছে। এরপর তারা আজিজ মাস্টারকে ডাকার জন্য তাকে পাঠিয়ে দেয়। মিলিটারি দেখে রাসমোহন প্রচন্ড ভীত ছিল, যা তার আচরণে বোঝা যাচ্ছিল।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসে মেজর এজাজের ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিশোধস্পৃহার প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক- মন্তব্যটি যথার্থ।
'১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার চিত্র এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের কাছে ধর্ম ছিল একটি মুখোশ মাত্র। তারা শুধু জাতিগত বিদ্বেষের কারণে বাঙালিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাত।
'১৯৭১' উপন্যাসের আখ্যানভাগে দেখা যায়, পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসার মেজর এজাজ তার সৈন্যবাহিনী নিযে নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করে। তার ধারণা নীলগঞ্জ গ্রামের পাশে কৈবর্তপাড়ায় মুক্তিবাহিনীর একটি দল লুকিয়ে আছে। তাদের সন্ধান পাওয়ার জন্য সে নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষদের ওপর অমানবিক অত্যচার চালায়। অবশ্য উপন্যাসের বর্ণনায় এটাও জানা যায়, মেজর এজাজের এরূপ আচরণের নেপথ্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভও ছিল। মেজর এজাজের ক্ষোভ তার বন্ধু মেজর বখতিয়ারের নিখোঁজ হওয়া। যদিও তিনি সন্দেহের সাগরে ভাসছিলেন। কিন্তু এই ক্ষোভ থেকেই তিনি শুরু করেন একপক্ষীয় যুদ্ধ। একপক্ষীয়ই বটে। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে কেউ থাকে না, সেখানে যুদ্ধ তো একপক্ষীয়ই। এজাজ যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সাধারণ নিরস্ত্র মানুষের ওপর। তিনি যুদ্ধকে আরোপ করেছেন তাদের ওপর। পুরো পরিস্থিতিকে বিরোধীপক্ষ ধরে নিয়ে তিনি ছক করেছেন যুদ্ধের। কিন্তু প্রতিপক্ষ যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নেই সেখানে যুদ্ধের যেকোনো পদক্ষেপই অন্যায্য হতে বাধ্য।
মেজর এজাজের কাছে এটাই যুদ্ধ। এটাকে তিনি বৈধতা দিতে চেয়েছেন সারভাইভালের প্রশ্ন হিসেবে, বীরত্ব হিসেবে। যুদ্ধের নামে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আগ্রাসী হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ বলে আমি মনে করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!