উদ্দীপকের A ও B সাংকেতিক চিহ্ন দুটি হলো যথাক্রমে জারক পদার্থ এবং বিষাক্ত পদার্থ। রসায়নের শিক্ষার্থীদের এই দুটি চিহ্ন সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত থাকা একান্ত আবশ্যক কেনো তা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
i. জারক পদার্থ: জারক পদার্থ সমূহ হলো O2 , H2O2, HNO3, KMnO4, KNO3, K2Cr2O7 ইত্যাদি। এসব পদার্থ যেহেতু অন্য পদার্থকে জারিত করতে পারে। তাই যেসব পদার্থ জারক সংবেদনশীল তাদেরকে এদের থেকে যথাসম্ভব নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে এবং সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।
ii. বিষাক্ত পদার্থ: বিষাক্ত পদার্থ সমূহ হলো HCN, Cr2O3, CH3O3 , TNT, AsH3, PbO2 ইত্যাদি। এসব পদার্থ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। তাই এদের নিয়ে কাজ করার সময় হাতে গ্লাভস এবং মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
HNO3 ক্ষয়কারী এবং জারক হওয়ায় মুখ, গলা, চোখ শ্বাসনালীর ক্ষতি করে, ত্বকে পড়লে ত্বক পুড়ে যায়। HNO3 এসিড বৃষ্টির মাধ্যমে মাটির ও পানি pH এর মান হ্রাস করে।
CH3OH শরীরে প্রবেশ করলে স্নায়ু চোখ, কিডনি, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সহ মৃত্যু হতে পারে। অধিক পরিমাণ মিথানল পরিবেশের ক্ষতি করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাস্তুসংস্থান ব্যাহত করে।
H2O2 ক্ষয়কারী, বাম্পে চোখ জ্বালাপোড়া করে, ত্বকের সংস্পর্শে ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে।
K2Cr2O7 ক্ষয়কারক, জারক ও বিষাক্ত উপাদান। পেটে গেলে ডায়রিয়া এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এটি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন হ্রাস করে। যার ফলে জলজ প্রাণীর জীবন ধারণ কষ্টকর হয়।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, রসায়নের শিক্ষার্থীদের জারক পদার্থ এবং বিষাক্ত পদার্থ সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত থাকা একান্ত আবশ্যক।
Related Question
View Allপরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো কিছু জানার চেষ্টাই হলো গবেষণা।
কাঁচা অবস্থায় আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে। যেমন- অ্যাসকরবিক এসিড, সাইট্রিক, ম্যালিক, অক্সালিক এসিড। তাই কাঁচা আম খেতে টক লাগে। কিন্তু আম যখন পাকে তখন আমে বিদ্যমান এই এসিডগুলো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে (মিষ্টি) পরিণত হয়। ফলে পাকা আম হয় মিষ্টি।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ঔষধ সেবন করছে।
প্রতিটি ঔষধই কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়। যখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ তথা ওষুধ সেবন করি। যেমন: জ্বর হলে আমরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাই। প্যারাসিটামল একটি রাসায়নিক যৌগ, এর রাসায়নিক নাম acetaminophen বা, 4-হাইড্রোক্সি অ্যাসিট্যানিলাইড। এটি আমাদের পাকস্থলিতে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আবার, প্রচণ্ড মাথাব্যথা করলে আমরা আইবুপ্রফেন খাই।
এ রাসায়নিক যৌগটি খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে মাথা ব্যথা উপশম হয়।
তাছাড়া আমরা কৃমিনাশক হিসেবে যে ওষুধ খাই, তাও রাসায়নিক যৌগ। এছাড়াও টাইফয়েড, কলেরা, যক্ষ্মা, কাশি, হাঁপানি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ যত প্রকার অসুখ আছে, তার প্রত্যেকটির প্রতিষেধক হিসেবে আমরা যে ওষুধ সেবন করি, তা কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের ১ম চিত্রটি অর্থাৎ ওষুধ সেবন, রসায়নের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে ওষুধ সেবন ও B নং চিত্রে সবজিক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর ছবি দেখানো হয়েছে। এই দুইটি ছবি পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানো পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবজিক্ষেতে পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে গ্যামাক্সিন (C6H6Cl6), ডিডিটি (D.D.T.), অ্যালড্রিন, ক্লোরডেন, ম্যালাথায়ন, প্যারাথায়ন অন্যতম। এগুলো যখন সবজি ক্ষেতে বিদ্যমান পোকা মাকড়, কীটপতঙ্গ। মারার জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড় এবং পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কারণ ঐ সমস্ত কীটনাশক যখন জমিতে ছিটানো হয়, তখন সেগুলো বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে। এই দূষিত বাতাস মানুষ প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। আবার ঐ সমস্ত কীটনাশক মিশ্রিত সবজি খেলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা যেমন- মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, চোখ-জ্বালাপোড়া করা, পেটের পীড়া, বদহজম ইত্যাদি দেখা দেয়।
ঐ সমস্ত কীটনাশক মাটিতে মিশে মাটিকেও দূষিত করে। ফলে জমির। উর্বরতা নষ্ট হয়, জমিতে ভাল ফসল হয় না। আবার বৃষ্টি হলে ঐ সমস্ত কীটনাশক পুকুরে, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানির সাথে মিশে, পানিকে দূষিত করে। ফলে নদী, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ মরে যায় এবং পুকুর, নদীতে বিদ্যমান বিভিন্ন উদ্ভিদ ও শেওলাও মরে যায়।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে তখন এসিডিটির সৃষ্টি হয়। এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য তখন এন্টাসিড খাওয়া হয়। কারণ এন্টাসিডে থাকে ক্ষারীয় অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যা পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!