কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাকৃতিক বা পদার্থিক জগতের বস্তু বা ঘটনাবলিকে সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিন্যস্ত বা সজ্জিত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে শ্রেণিকরণ বলে।
প্রকৃতিতে বিভিন্ন বস্তু বা ঘটনাবলিকে আমরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পাই। বিশেষ কোনো গুণের জন্য বিশেষ কোনো জায়গা এখানে নির্দিষ্ট করা থাকে না। তাছাড়া প্রকৃতিতে ঘটনাবলি এতটাই এলোমেলো অবস্থায় ঘটতে দেখা যায় যে, তখন তাদের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলা বিরাজমান বলে মনে হয় না। প্রকৃতির এসব দিক ভালো করে জানার জন্য আমরা শ্রেণিকরণের সাহায্য নিয়ে বিচ্ছিন্ন বস্তু বা ঘটনাবলির মধ্যে মিল ও অমিলের ভিত্তিতে বিভিন্নভাবে বিন্যস্ত করে থাকি। সুতরাং বলা যায়, বিন্যাসকরণের ভিত্তির নাম হলো শ্রেণিকরণ।
উদ্দীপকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের প্রতিফলন ঘটেছে। এসবের ব্যাখ্যা করা হলো-
যে শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বস্তু বা বিষয় বা ঘটনা সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে বর্তমান মৌলিক, গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে সন্নিবেশিত বা বিন্যস্ত বা সজ্জিত করা হয়, তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বলে। উদ্দীপকের রাসেল চিড়িয়াখানায় কাজ করে ফলে সে পশুর আচরণগত মিল ও অমিল দেখে বাঘ ও সিংহের খাঁচা একদিকে এবং হরিণ ও নীলগাইয়ের খাঁচা অন্যদিকে রাখে। সুতরাং রাসেলের কর্মকান্ডে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের প্রতিফলন ঘটেছে।
অন্যদিকে উদ্দীপকে কামাল একটি আয়ুর্বেদিক সেন্টারে কাজ করে। সে শ্রেণিকরণে গাছ-গাছড়ার মৌলিক সাদৃশ্য বাদ রেখে বিশেষ ব্যক্তির ব্যবহারিক প্রয়োজন দেখে নিম, চিরতা ও কালোমেঘ জাতীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ করে। সুতরাং কামালের কর্মকাণ্ডে কৃত্রিম শ্রেণিকরণের প্রতিফলন ঘটেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে রাসেলের কর্মকাণ্ড এবং কামালের কর্মকাণ্ড শ্রেণিকরণের দিক থেকে আলাদা। উভয়ের কর্মকাণ্ড শ্রেণিকরণের দিক থেকে যেভাবে আলাদা তা বিশ্লেষণ করা হলো-
রাসেল একটি চিড়িয়াখানায় কাজ করে। তার কাজ হলো বাঘ, সিংহের খাঁচা একদিকে রাখা এবং হরিণ, নীলগাইয়ের খাঁচা অন্যদিকে রাখা। এক্ষেত্রে রাসেল মৌলিক সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে প্রাণিগুলোকে ভাগ করে বিন্যস্ত করে। তেমনি প্রাণিবিজ্ঞানীরা প্রাণির আচরণ ও প্রকৃতিগত দিক লক্ষ করে প্রাণিদের বিভিন্ন পর্বে বিভক্ত বা শ্রেণিভুক্ত করেন। উদ্দীপকের রাসেলও প্রাণির আচরণ ও প্রকৃতিগত দিক লক্ষ করে বাঘ ও সিংহের খাঁচা একদিকে এবং হরিণ ও নীলগাইয়ের খাঁচা অন্যদিকে রাখে। ফলে তার কর্মকাণ্ডে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের দিকটি ফুটে উঠেছে।
করা। এক্ষেত্রে কামাল ভেষজ বিভিন্ন গাছ-গাছড়ার রোগ নিরাময় ক্ষমতার ভিত্তিতে শ্রেণিকরণ করে। সে শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে গাছ-গাছড়ার মৌলিক সাদৃশ্য বাদ রেখে বিশেষ ব্যক্তির ব্যবহারিক প্রয়োজনে ইচ্ছামতো সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে শ্রেণিকরণ করে। সুতরাং কামালের কর্মকাণ্ডে কৃত্রিম শ্রেণিকরণের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, রাসেলের কর্মকাণ্ডটি হলো প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ এবং কামালের কর্মকাণ্ডটি হলো কৃত্রিম শ্রেণিকরণ। তাই উদ্দীপকের রাসেল ও কামাল উভয়ের কর্মকাণ্ডই শ্রেণিকরণের দিক থেকে আলাদা।
Related Question
View Allবিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে জাগতিক বিষয়বস্তুকে তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে মানসিকভাবে একত্রিত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে শ্রেণিকরণ।
শ্রেণিকরণের স্বরূপ বিশ্লেষণ করলে এর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যথা : (১) শ্রেণিকরণ এক ধরনের মানসিক প্রক্রিয়া। (২) শ্রেণিকরণের ভিত্তি হলো সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য। (৩) শ্রেণিকরণ হলো শৃঙ্খলাবদ্ধকরণ বা সুবিন্যস্তকরণ। (৪) শ্রেণিকরণে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিহিত থাকে। (৫) শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যার সাথে জড়িত।
উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক রহমান সাহেব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাঁটতে এসে বিভিন্ন গাছপালা দেখেন। এর মধ্যে কিছু গাছে ফুল ফোটে, কিছু গাছে ফল ধরে, আবার কিছু গাছ ফুল-ফল ছাড়াই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রকৃতির এ বৈচিত্র্যপূর্ণ গাছপালা দেখেই তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে, উদ্যানে দুই শ্রেণির উদ্ভিদ রয়েছে। যার কিছু সপুষ্পক উদ্ভিদ এবং কিছু অপুষ্পক উদ্ভিদ। রহমান সাহেব তার ব্যবহারিক সুবিধা বা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এই শ্রেণিকরণটি করেছেন।
সাধারণত ব্যবহারিক সুবিধা বা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গুরুত্বহীন ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে জাগতিক বস্তু বা ঘটনাবলিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বলে। বস্তুত কৃত্রিম শ্রেণিকরণে কোনোরূপ প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুসরণ করা হয় না। এ জন্য একে অবৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ বলা হয়। মূলত ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এরূপ শ্রেণিকরণের প্রধান কাজ।
সর্বোপরি সব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, রহমান সাহেবের শ্রেণিকরণটি কৃত্রিম।
প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যকার পার্থক্যকে আমি যুক্তিসংগত বলে স্বীকার করি না। কারণ প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের পার্থক্যসমূহ গুণগত নয়, উদ্দেশ্যগত। এজন্য এদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো রেখা টানাও ঠিক নয়।
বস্তুত বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে এক অর্থে সব শ্রেণিকরণই প্রাকৃতিক, আবার অন্য অর্থে সব শ্রেণিকরণই কৃত্রিম। সব শ্রেণিকরণই প্রাকৃতিক হওয়ার কারণ হিসেবে বলা যায়, যেকোনো বিষয়ের শ্রেণিকরণ করতে গিয়ে প্রযোজ্য সাদৃশ্যের বিষয়গুলোকে আমরা আমাদের মনের উপর নির্ভরশীল বলে মনে করি। প্রকৃতপক্ষে সেগুলো প্রকৃতিতেই বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ এসব সাদৃশ্য মনবহির্ভূত এবং এগুলো বহির্জগতে স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে বিরাজ করে। আমাদের মন কেবল সাদৃশ্যের বিষয়গুলোকে নির্বাচন করে সেগুলোর ভিত্তিতে জাগতিক বস্তুসমষ্টি বা ঘটনাবলিকে শ্রেণিবদ্ধ করে মাত্র। অন্যদিকে সব শ্রেণিকরণকেই কৃত্রিম বলার কারণ হিসেবে বলা যায়, সব শ্রেণিকরণই মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট। অর্থাৎ মানুষই নিজেদের প্রযোজন অনুযায়ী প্রকৃতিতে বিদ্যমান বস্তু বা ঘটনাবলিকে নির্বাচন করে সেগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করে। কারণ প্রকৃতির এমন কোনো নিজস্ব শক্তি নেই, যার ফলে প্রকৃতির বস্তুসমষ্টি বা ঘটনাবলি নিজে নিজেই শ্রেণিবদ্ধ হতে পারে। এককথায়, প্রকৃতিতে বস্তু বা ঘটনাবলি যেভাবে থাকার সেভাবেই থাকে। এমনকি মানুষও তাদেরকে বিভিন্ন জায়গা থেকে তুলে এনে পাশাপাশি শ্রেণিবদ্ধ করে না; বরং এগুলোকে মানুষ শ্রেণিবদ্ধ করে মনে মনে। কাজেই শ্রেণিকরণটি ঘটে মানুষের মনে মনে, বাস্তবে নয়। আর এদিক থেকেই বলা যায়, সব শ্রেণিকরণই মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট, সুতরাং তা কৃত্রিম।
তাই প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের মধ্যে পার্থক্যকে আমি যথার্থ বলে মনে করি না।
শ্রেণিকরণের ভিত্তি হচ্ছে সংজ্ঞা, কিন্তু মতান্তরে লক্ষণ।
শ্রেণিকরণের মাধ্যমে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে জাগতিক বস্তু বা ঘটনাবলিকে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়। তবে অনেক সময় কয়েকটি শ্রেণির মধ্যে একই গুণ বিভিন্ন মাত্রায় বিদ্যমান থাকে। এ অবস্থায় সেই শ্রেণিগুলোকে আবার গুণের মাত্রা অনুসারে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। আর এভাবে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ক্রমিক শ্রেণিকরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!