ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ দাসত্ব ও আনুগত্য।
শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে যে ইবাদত করা হয়, তাকে শারীরিক ইবাদত বলা হয়। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বা নামায আদায় করা ও রমযান মাসে সাওম বা রোযা রাখা শারীরিক ইবাদতের অন্তর্গত।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিখিল বিশ্বে সৃষ্টির বৈচিত্র্যময় যে পসরা সাজিয়েছেন, তা সবই মানুষের কল্যাণের জন্য। তাই সংগত কারণেই আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্ট জীবের প্রতি মানুষের কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য এসে যায়। আর তা হচ্ছে ইবাদত। অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আমরা যেসব উত্তম কাজ করি তা সবই ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। রাসেল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত উপায়ে ইবাদত করবে-
১. সামগ্রিক জীবনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্ব স্বীকার করবে।
২. আল্লাহর দেওয়া হুকুম-আহকাম মেনে চলবে।
৩. নিজের সার্বিক সত্তা আল্লাহর নিকট সমর্পণ করবে।
৪. সর্বাবস্থায় আল্লাহ অনুগ্রহ কামনা করবে।
৫. সৎ কাজে আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে।
৬. বিপদ-আপদ, সুখ-দুঃখ, বালা-মুসিবত সর্বক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করবে এবং আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করবে।
৭. সাধ্যমতো সকল সৃষ্ট জীবের হক আদায় করবে।
নিচে ইবাদতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো-
১. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ইবাদত: ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। ইবাদতের মাধ্যমেই আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়ে আল্লাহর সাথে বান্দার সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও অনুগ্রহ লাভ করা যায়।
২. পরিপূর্ণ ইবাদত: ইবাদত পরিপূর্ণভাবে করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনে কারীমে বলেন, “হে ইমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের মধ্যে দাখিল হও।” একথা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা বুঝিয়েছেন যে, ইসলামের হুকুম-আহকাম কিছু ছেড়ে দিয়ে এবং কিছু পালন করে ইসলামের অনুসারী হওয়া ঠিক নয়; বরং সকল প্রকার ইবাদত তথা জিন্দেগির সকল কাজকে ইবাদতে পরিণত করে ইসলামের অনুসারী হওয়া উচিত।
৩. কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম: ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহরাজির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়।
৪. ইবাদতের সাধারণ আহ্বান: সকল নবি-রাসুলই আল্লাহর বন্দেগির প্রতি উদাত্ত আহ্বান করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে-"হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন।"
৫. ইবাদত দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তির মাধ্যম: ইবাদতের মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তিলাভ করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, মানবজীবনে ইবাদতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আল্লাহর দেওয়া বিধান ও রাসুলের প্রদর্শিত পথে জীবন পরিচালনা করলে ইহকালীন ও পরকালীন জীবন সুখের হবে।
Related Question
View Allইবাদত শব্দের অর্থ হলো- আল্লাহর আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান মেনে চলা।
আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, "আর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন” (সূরা আত-তাওবা : ১০৮)। সালাত ও তিলাওয়াতের জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন। এছাড়া পবিত্রতা ইমানের অঙ্গস্বরূপ। তাই আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন।
শরীফ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসহ সকল প্রকার ইবাদত করার চেষ্টা. করে। সে তার বন্ধু আরিফকেও সালাতের জন্য আহ্বান করে। এসব কাজের দ্বারা বোঝা যায়, শরীফ একজন মুমিন মুসলমান।
মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, “আর আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধু আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি” (সূরা আয যারিআত : ৫৬)। এজন্য কোনো মানুষ ইমান আনার সাথে সাথে সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করে।
এছাড়া সে ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিধান যথা: সাওম, যাকাত, হজ ইত্যাদি পালন করে। ব্যক্তিজীবনে সততা অবলম্বন করে, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত থাকে। সবার কল্যাণে কাজ করে। এগুলোই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকের শরীফের মাঝে এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বস্তুত সে নামায আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করার চেষ্টা করে বিধায় তাকে মুমিন হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরিফ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নামায পড়া হতে বিরত থাকে, সে আরও বলে- শুধু যে আমি একা ইবাদত করি না তাতো নয়। অনেকেই তো আছে যারা কোনো প্রকার ইবাদত করে না। তাদের যা হবে আমারও তাই হবে। আরিফের এরূপ আচরণ ও কর্মকাণ্ডের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করা কুফরি। রাসুল (স.) বলেছেন, "মুমিন ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো- সালাত পরিত্যাগ করা।” তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।" আর কুফরির পরিণাম জাহান্নাম। আরিফ শুধু নামাযই পরিত্যাগ করেনি, সে তার কথায় আল্লাহর প্রতি চরম ঔদ্ধত্যও প্রকাশ করেছে। এ ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশের জন্যও সে জাহান্নামে যাবে। কারণ ইবলিশ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার কারণে আল্লাহর অভিশাপে নিপতিত হয় এবং চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামি হয়। মানুষকে সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। কেউ যদি ইবাদত না করে ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি ইবাদত না করে এবং বলে অন্যদের যা হবে আমারও তা হবে, তাহলে আল্লাহর শাস্তি হতে সে রেহাই পাবে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা কুফরি কর, তাহলে জেনে রাখ আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।
সালাত আদায়ের অন্যতম কারণ হলো- এটি ইসলামের দ্বিতীয় রুকন। এজন্য আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুমিনকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'এবং তোমরা নামায কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর' (সূরা আল বাকারা : ৪৩)। তাছাড়া সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরতি রাখে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবুত : ৩৫)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!