কল-কারখানার নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষণ করে।
জনগণের কল্যাণে যে কাজ করা হয়, তাকে জনকল্যাণ বলে। ব্যবসায় জনগণের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করে। এক্ষেত্রে জনগণ মানসম্মত পণ্য ন্যায্যমূল্যে পেলে উপকৃত হয়। ব্যবসায় অর্জিত মুনাফা থেকে সরকারকে নিয়মিত কর দেয়। এই অর্থ দিয়ে জনগণের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অন্যান্য সেবা দেওয়া হয়। ব্যবসায় প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। এতে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়। এভাবে ব্যবসায় জনকল্যাণ করে।
করিম সাহেবের নতুন দোকান খোলার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করি।
ব্যবসায় পরিচালনায় ভালো-মন্দ বিবেচনা করে সঠিকটি বেছে নেওয়া হলো ব্যবসায় নৈতিকতা। সততা বজায় রাখা, ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা না করা, ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন ও বিপণন না করা প্রভৃতি হলো ব্যবসায় নৈতিকতার উদাহরণ। নৈতিকতা মেনে ব্যবসায় করলে মুনাফার পাশাপাশি সুনামও বাড়ে।
উদ্দীপকের রাসেল সাহেব মুদি দোকানের মালিক। তিনি ক্রেতাদের ঠকান। তাই কয়েকজন ক্রেতা অন্য গ্রাম থেকে পণ্য কিনে আনে। করিম সাহেব বিষয়টি খেয়াল করে ঐ গ্রামে নতুন একটি মুদির দোকান দেন। তিনি ক্রেতাদের কাছে মানসম্মত পণ্য বিক্রি করবেন। এতে ক্রেতারা আর ঠকবে না। আর মানসম্মত পণ্য পাওয়ায় তারা অন্য গ্রামে না গিয়ে করিম সাহেবের কাছ থেকেই পণ্য কিনবে। ফলে তার ব্যবসায়ে বিক্রি ও মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই বলা যায়, করিম সাহেবের নতুন দোকান প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হয়েছে।
করিম সাহেবের নতুন দোকান রাসেল সাহেবের দোকানের পণ্য বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অনৈতিক কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এটি ক্রেতাদের কাছে ব্যবসায়ের আস্থা ও বিশ্বাস কমিয়ে দেয়। ফলে ব্যবসায়ের বিক্রি ও মুনাফার পরিমাণ কমে যায়।
উদ্দীপকের রাসেল সাহেব মুদি দোকানের ব্যবসায়ে ক্রেতাদের ঠকিয়ে থাকেন। অল্পদিনেই তিনি অনেক বেশি মুনাফা অর্জন করেছেন। আশপাশে অন্য কোনো দোকান না থাকায় ক্রেতারা বাধ্য হয়েই তার দোকান থেকে পণ্য কেনে। বর্তমানে কয়েকজন ক্রেতা অন্য গ্রাম থেকে পণ্য কেনা শুরু করেছে। এ বিষয়টি লক্ষ করে করিম সাহেব গ্রামে নতুন একটি মুদি দোকান দেন।
করিম সাহেব নতুন দোকান খোলায় ক্রেতারা রাসেল সাহেবের দোকান থেকে পণ্যসামগ্রী কম কিনবে। কারণ, রাসেল সাহেব অনৈতিক কাজের মাধ্যমে ক্রেতাদের ঠকিয়ে ব্যবসায় করেন। এতে ক্রেতারা করিম সাহেবের মুদি দোকান থেকে পণ্য কেনায় উৎসাহিত হবে। কারণ, ক্রেতারা সব সময় মানসম্মত পণ্য পাওয়ার আশা করে। রাসেল সাহেবের দোকানের ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রির পরিমাণও কমে যাবে। ফলে সে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তার শাস্তিও হতে পারে। এসব কারণে আমি মনে করি, করিম সাহেবের নতুন দোকান রাসেল সাহেবের দোকানের বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
Related Question
View Allইথস শব্দের অর্থ মানব আচরণের মানদণ্ড।
পণ্যের মজুতদারি না করা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীকে মুনাফা বাড়ানোর জন্য অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েই ব্যবসায়ের উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি হয়। তাই মজুতদারি না করে সমাজে সঠিকভাবে পণ্য বণ্টন করা উচিত।
উদ্দীপকে ব্যবসায় নৈতিকতার কারণে সাহিদ মানসিক প্রশান্তিতে আছে। ব্যবসায় নৈতিকতা ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীর আচরণকে সঠিকপথে পরিচালিত করে। একটি ব্যবসায়ের ধারণা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে এটি সফলভাবে পরিচালনার সাথে অনেক কাজ জড়িত থাকে। এসব কাজ সুন্দর, সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে সাহিদ ও নাদিম দুজনই ব্যবসায়ী। সাহিদ স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসায় করে সীমিত মুনাফা অর্জন করেন। তিনি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করেন না। আর নাদিম চাকচিক্যের আড়ালে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। কম মুনাফা অর্জন করলেও সাহিদ জানে তার ব্যবসায়ের সুনামহানি হবে না। ভালো মানের পণ্য সরবরাহের কারণে সাহিদ মানসিকভাবে অনেক সুখী। আর সৎ ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করায় তার কাজে নৈতিকতারই প্রতিফলন হচ্ছে।
নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও ভবিষ্যতে এ ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে না বলে আমি মনে করি।
নৈতিকতা ব্যবসায়ের অপরিহার্য উপাদান। যেকোনো ব্যবসায়ের সাফল্য লাভে নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নৈতিকতা মেনে না চললে ব্যবসায়ে টিকে থাকা যায় না।
উদ্দীপকে নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও তার ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব কম হবে। কারণ অনৈতিকভাবে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ক্রেতা বা ভোক্তারা বারবার কেনে না। ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের মাধ্যমে মানুষ কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হলে ঐ পণ্য মানুষ আর কিনবে না।
তাছাড়া বাইরের চাকচিক্য বজায় রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতা বা ভোক্তারা একসময় তা জানতে পারবে এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বলা যায়, নাদিম অনৈতিকতা ও ভেজাল মিশ্রণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য ভবিষ্যতে তার ব্যবসায় টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের বায়ু দূষণ করে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাকে নেওয়া ও মন্দটিকে এড়িয়ে চলা হলো ব্যবসায় নৈতিকতা।
ব্যবসায়ের নীতি বা আদর্শ মেনে (করণীয় ও বর্জনীয়) ব্যবসায় পরিচালনা করা অপরিহার্য। সঠিক মাপে পণ্য দেওয়া, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রেতাদের সাথে উত্তম আচরণ করা প্রভৃতি ব্যবসায় নৈতিকতার আওতায় পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
