ফিতাকৃমি প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের প্রাণী।
যানটোকর্ড হলো একটি নরম, নমনীয়, দন্ডাকার, অখন্ডায়িত অঙ্গ। মানবদেহে নটোকর্ড শুধুমাত্র ভ্রূণীয় অবস্থায় পৃষ্ঠীয় রেখা বরাবর অবস্থান করে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এটি মেরুদণ্ডে পরিণত হয়।
রাহাত যে প্রাণীটি পর্যবেক্ষণ করেছিল, তা হলো মশা। সে ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে মশাটির উপাঙ্গ, চক্ষু ও দেহাবরণ পর্যবেক্ষণ
করে নিম্নোক্ত বিষয় দেখতে পেল-
১. এর দেহ কতকগুলো খণ্ডে বিভক্ত।
২. দেহের সাথে সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ রয়েছে।
৩. মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা রয়েছে।
৪. দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
৫. উড়ার সুবিধার জন্য এর দেহে দুই জোড়া ডানা রয়েছে।
৬. রক্ত শোষণের জন্য মাথায় একজোড়া শুঙ্গ আছে।
এসব বৈশিষ্ট্য আর্থ্রোপোডা পর্বের ইনসেক্টা শ্রেণির প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ। অতএব, রাহাতের পর্যবেক্ষণকৃত মশাটি আর্থ্রোপোডা পর্বের ইনসেক্টা শ্রেণির প্রাণী।
প্রাণীটির শ্রেণিগত অবস্থান জানা রাহাতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
পৃথিবীতে অসংখ্য ছোট, বড় ও বৈচিত্র্যময় প্রাণী রয়েছে। এগুলোর কোনোটি আমাদের জন্য উপকারী কোনোটি অপকারী। কোনোটি আবার আমাদের প্রাণঘাতী হতে পারে। এসব উপকারী ও অপকারী প্রাণীদের সহজে চিহ্নিত করার উপায় হলো এদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে জানা। রাহাত যদি মশার শ্রেণিগত অবস্থান জানে তবে সহজেই সে বুঝতে পারবে মশা একটি অপকারী প্রাণী। মশার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ, যেমন- ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, গোদ ইত্যাদি ছড়ায়। কোন প্রজাতির মশা কোন রোগ ছড়ায় সে সম্পর্কেও শ্রেণিবিন্যাস থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
তাছাড়া মশার শ্রেণিগত অবস্থান জানা থাকলে এর বিভিন্ন প্রজাতি, বাংলাদেশে কোন কোন প্রজাতি আছে, এদের আবাসস্থল কোথায়, কোন প্রজাতির আক্রমণ বেশি সে সম্পর্কেও সহজে জানা যায়।
উপরোক্ত কারণেই প্রাণীটির (মশা) শ্রেণিগত অবস্থান জানা রাহাতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
Related Question
View Allযেসব প্রাণীর দেহকে কেন্দ্রীয় লম্ব অক্ষ বরাবর কেটে সদৃশ দুইয়ের বেশি সংখ্যক অংশে ভাগ করা যায়, তাদেরকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে।
দোয়েল পাখি উড়তে পারে কারণ দোয়েল পাখি Aves তথা পক্ষীকুল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী। এ পাখির অস্থি হালকা, ফাঁপা ও বায়ুপূর্ণ। এছাড়াও ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি নামক বিশেষ ধরনের অঙ্গ উপস্থিত। যার কারণে দোয়েল পাখি সহজেই উড়তে পারে।
চিত্র: A এর প্রাণীটি হচ্ছে তেলাপোকা, যা আর্থ্রোপোডা পর্বভুক্ত। নিচে আর্থ্রোপোডা পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
১.দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
৩. নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
৪. দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
যচিত্র: B হচ্ছে টিকটিকি যা কর্ডাটা পর্বের এবং চিত্র: C হচ্ছে শামুক যা মলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। জীবজগতে শ্রেণিবিন্যাসের রীতি অনুযায়ী বৈশিষ্ট্যের বিচারে অনুন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম দিকে থাকে এবং উন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের শেষের দিকে থাকে। এ হিসেবে কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা অন্যান্য প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই টিকটিকি শামুক অপেক্ষা উন্নত। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
শামুকের দেহ নরম, নরম দেহ শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। এরা পেশিবহুল পা দিয়ে চলাচল করে। ফুসফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। আর টিকটিকির ক্ষেত্রে, এদের সারা জীবন অথবা ভূণ অবস্থায় পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর নটোকর্ড থাকে। নটোকর্ড হলো একটা নরম, নমনীয় দণ্ডাকার দৃঢ় ও অখণ্ডায়িত অঙ্গ। পৃষ্ঠদেশে একক বা ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে। এই নটোকর্ড এক সময় মেরুদণ্ড দ্বারা
প্রতিস্থাপিত হয়। এই মেরুদন্ড থাকার কারণেই কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা মলাস্কা পর্বের প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই আমরা বলতে পারি টিকটিকি ও শামুকের মধ্যে টিকটিকি উন্নত।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে।
যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী বুকে ভর করে চলে এবং যাদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত তাদেরকে সরীসৃপ প্রাণী বলে। সাপ বুকে ভর করে চলে, এদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত। তাই সাপকে সরীসৃপ প্রাণী বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!