অবাস্তব উদ্দীপকের প্রত্যক্ষণই হচ্ছে অলীক প্রত্যক্ষণ।
পারিপার্শ্বিক অবস্থাদি সম্পর্কে মানুষ বা প্রাণী যে অর্থপূর্ণ ধারণা বা অভিজ্ঞতা লাভ করে তাকে প্রত্যক্ষণ বলে।
আমরা যখন কোনো কিছু প্রত্যক্ষণ করি তা খণ্ড খণ্ডভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে প্রত্যক্ষণ করি। অর্থাৎ খণ্ড অংশকে গুছিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সামগ্রিক রূপ প্রদান করাই হলো প্রত্যক্ষণের বৈশিষ্ট্য। এভাবে সামগ্রিকভাবে প্রত্যক্ষণের কারণেই প্রত্যক্ষণকে সামগ্রিক প্রক্রিয়া বলা হয়।
উদ্দীপকে কলেজের ভেতরের আলোর সাথে বাইরের রাস্তার আলোর তারতম্যের ঘটনাটি আলো অভিযোজন।
আলো অভিযোজিত চক্ষুর একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, এর সংবেদনশীলতা হ্রাস পায়। তীব্র আলোতে সংবেদনশীলতার ক্রমাবনতিকে আলো অভিযোজন বলা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ অন্ধকার কক্ষে হঠাৎ তীব্র আলো জ্বলে উঠলে প্রথমে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে সব কিছুই গোচরীভূত হয়। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, রাহাত কলেজ থেকে রাস্তায় নামলে তার কাছে বাইরের আলো কলেজের ভিতরের আলোর চাইতে বেশি বেশি লাগছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে তা ঠিক হয়ে যায়।
আলো অভিযোজনের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার আলোর প্রতি চক্ষু কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। আলো অভিযোজন প্রক্রিয়া অন্ধকার অভিযোজনের চেয়ে বেশি দ্রুত সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকে রাহাতের বিল্ডিংয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের কারণ মনোযোগের আকার ও নতুনত্ব এবং ছাত্রাবাসের ক্ষেত্রে তার প্রত্যক্ষণগত ভুলের কারণ অধ্যাস।
মনোযোগ আকর্ষণ করার একক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো উদ্দীপকের আকার।
সাধারণ ক্ষুদ্রাকার বস্তুর তুলনায় বিরাট বস্তু সহজেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উদ্দীপকে রাহাত অনেকগুলো খাবার দোকানের মধ্যে বড়, লম্বা ধরনের বিল্ডিংয়ের একটি সাইনবোর্ড দেখে তার দৃষ্টি আকর্ষিত হলো।
এখানে রাহাতের দৃষ্টি আকর্ষণের মূল কারণ খাবার দোকানের আকার।
উদ্দীপকের নতুনত্ব বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য মনোযোগ আকর্ষণের এক উল্লেখযোগ্য শর্ত। উদ্দীপকে রাহাতের দৃষ্টি আকর্ষণের আরেকটি কারণ হোটেলের আলোক সজ্জিত নতুন ডিজাইনের সাইনবোর্ড।
উদ্দীপকের প্রতি প্রাণীর প্রাথমিক চেতনা হলো সংবেদন। আর সংবেদনের যথার্থ ব্যাখ্যাই হলো প্রত্যক্ষণ। কিন্তু সংবেদনের ব্যাখ্যা যখন যথার্থ না হয়ে ভ্রান্ত বা ত্রুটিপূর্ণ হয় তখন তাকে অধ্যাস বা ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ বলে। উদ্দীপকে রাহাত ভুলে Hostel কে Hotel মনে করে নতুন বিল্ডিংয়ে খাবারের জন্য ঢুকে পড়ে। কিন্তু সেখানে ঢুকে দেখে সেটি একটি ছাত্রাবাস। রাহাতের এ ভুলের জন্য ইন্দ্রিয়কে দায়ী করা যায় না। ইন্দ্রিয় সংবেদনের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা বা ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়নই ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণের জন্য দায়ী। সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কোনো বাস্তব উদ্দীপককে ভ্রান্তভাবে প্রত্যক্ষণ করার নামই হচ্ছে অধ্যাস বা ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ।
Related Question
View Allসংবেদন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার সাহায্যে ইন্দ্রিয় যন্ত্র, যেমন-চক্ষু ও কর্ণ পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে
এলোমেলো উদ্দীপনাকে সংঘবদ্ধরূপে বা সুশৃঙ্খলভাবে প্রত্যক্ষণ করাকে প্রত্যক্ষণের সংগঠন বলে।
সংগঠন হলো প্রত্যক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আমরা যা প্রত্যক্ষণ করি তা প্রকৃত বস্তু থেকে যে উদ্দীপকে লাভ করে তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন বস্তু থেকে যে উদ্দীপনা লাভ করি তা এলোমেলো উদ্দীপনাকে সমন্বয়সাধন ও একত্রীকরণ করার পর এর একটি প্যাটার্ন দাঁড় করানো হয়। ফলে বস্তুটিকে আমরা অর্থপূর্ণভাবে প্রত্যক্ষণ করি। এভাবে প্রত্যক্ষণের সংগঠন হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে রাহার মধ্যে মনোযোগের নির্বাচন ধর্মীতা, পরিবর্তনশীলতা এবং প্রান্ত ও কেন্দ্র বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটে উঠেছে।
আমাদের মনোযোগ সর্বদাই নির্বাচন ধর্মী। একই সময়ে একই, স্থানে একাধিক জিনিস থাকলেও যে জিনিসটি বেশি আকর্ষণীয় তাকেই আমরা নির্বাচন করে থাকি। যেমন- ঝলমলে সুসজ্জিত কোনো মঞ্চে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপবিষ্ট আছেন; কিন্তু যখন প্রধান নেতা আসেন এবং বক্তব্য রাখেন তখন সবকিছু বাদ দিয়ে আমরা তার বক্তব্য শুনে থাকি। একসাথে বহুসংখ্যক উদ্দীপক আমাদের গ্রাহক ইন্দ্রিয়ে আঘাত করে। তখন যে বস্তুটি আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে সেটি কেন্দ্রে থাকে আর বাকি সকল উদ্দীপকের অবস্থান থাকে আমাদের মনোযোগের প্রান্তে।
দৃশ্যমান উদ্দীপকের বর্ণনা থেকে দেখতে পাই, রাহা সমুদ্রতীরে বেড়াতে গিয়ে লক্ষ্য করে কিছু ছেলে বল খেলছে। রাহার দৃষ্টি বলের দিকে। সেক্ষেত্রে রাহার মনোযোগের পরিবর্তনশীলতা ফুটে উঠেছে তা বলা যায়, কেননা, খেলা চলাকালীন বল খুব দ্রুত একজনের পা থেকে অন্যজনের পায়ে চলে যায়। বল যখন যার পায়ে থাকে তার প্রতি আমরা মনোযোগ দেই। বলের অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের মনোযোগও পরিবর্তিত হয়। উদ্দীপকের রাহার ক্ষেত্রে দেখা যায়, সমুদ্রতীরে অনেক ঘটনার মধ্যে সে খেলা দেখাকে পছন্দ করে। এটা হলো তার নির্বাচনধর্মীতা। খেলা দেখার সময়ে শুধু বলের সাথে তার চোখ থাকে এবং অন্যান্য খেলোয়াড় ও দর্শক থাকে মনোযোগ থেকে দূরে। একে বলে মনোযোগের কেন্দ্র ও প্রান্ত। রাহার ক্ষেত্রে মনোযোগের নির্বাচনধর্মীতার কেন্দ্র ও প্রান্ত এবং পরিবর্তনশীলতার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। বল খেলা দেখার সময়ে সাইরেনের শব্দে সমুদ্রের জাহাজের দিকে লক্ষ্য করা রাহার মনোযোগ পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ।
রুমার মধ্যে আকার, নতুনত্ব, রঙিন বস্তু এবং বেলীর মধ্যে আগ্রহ ও প্রেষণার মতো মনোযোগের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্তাবলি বিদ্যমান রয়েছে।
নতুনত্ব তথা যে কোনো নতুন পরিবেশ আমাদের মনোযোগকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আবার কোনো বস্তু বা প্রাণীর আকারও আমাদের মনোযোগ আকর্ষণের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন-একদল গরুর মাঝে একটি বিশাল আকৃতির হাতি থাকলে তা সহজেই আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। এছাড়া রঙিন বস্তুর আমাদের মনোযোগ আকর্ষণের তীব্র ক্ষমতা রয়েছে। এজন্য রাস্তার ট্রাফিক সিগনালের লালবাতি অনেকদূর থেকে দেখা যায়। উদ্দীপকের রুমাকে সমুদ্র তীরের ঝাউগাছ, বিভিন্ন রঙের ফেস্টুন ও হাতি বিমোহিত করেছে এখানে ঝাউগাছ পরিবেশের নতুনত্ব সৃষ্টি করে। বিভিন্ন রঙের ফেস্টুন রঙিন বস্তু হিসেবে এবং বিশাল আকৃতির হাতি তার আকারের মাধ্যমে রুমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, বেলী সমুদ্র সৈকতের দোকানগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখছে। কারণ তার জামা ও পুঁতিরমালা কিনতে হবে। এক্ষেত্রে বেলীর আগ্রহ ও প্রেষণা তার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। কেননা, যার যে বিষয়ে আগ্রহ তার মনোযোগ সেই বিষয়েই বেশি। এজন্য দৈনিক সংবাদপত্রে ক্রীড়াপ্রেমী ব্যক্তি খেলার খবর দেখেন, আর ব্যবসায়ী দেখেন দ্রব্যের বাজার দর। আবার, যার তৃষ্ণা পায় সে তৃষ্ণা মেটাবার পানি খুঁজে, খাবার নয়। একইভাবে বেলীর ইচ্ছা ছিল সমুদ্র পাড়ে দোকান থেকে জামা এবং পুঁথি কেনার। এজন্য সে আগ্রহ সহকারে দোকানগুলো দেখছে। বেলীর ক্ষেত্রে মনোযোগের আগ্রহ ও প্রেষণা শর্ত কাজ করছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের রুমা ও বেলীর মনোযোগের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন শর্ত কাজ করেছে।
আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষণ যখন বস্তুটির সত্যিকার আকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে না তখন অধ্যাস ঘটে।
আবেগ ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ কারণে সৃষ্ট হয়ে বলে অর্থাৎ জৈবিক উপাদান হিসেবে প্রত্যক্ষণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
ব্যক্তির প্রত্যক্ষণ তার আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। আবেগের দ্বারা প্রভাবিত হলে ব্যক্তি পক্ষপাত দোষে দুষ্ট হতে পারে। ভাবাবেগের দ্বারা পরিচালিত হলে কালো কুৎসিত রমণীও আকর্ষণীয় বলে মনে হয়। আবার, আবেগের কারণেই সুন্দরী ও গুণবতী রমণীকেও অসুন্দর বলে মনে হতে পারে এবং ঐ রমণীর সাথে সম্পর্কযুক্ত সকলকেই খারাপ বলে মনে হবে। আবেগের সময় যা ভালো মনে হয়, আবেগ প্রশমিত হলে তা ভালো নাও লাগতে পারে। এভাবে আবেগ প্রত্যক্ষণকে প্রভাবিত করে থাকে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!