যেসব দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে পরিশ্রম করতে হয় বা মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলা হয়।
যে সমস্ত অর্থনৈতিক কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জিত হয় না এবং তা জীবনধারণের জন্য ব্যয় করা যায় না তাকে অ-অর্থনৈতিক কাজ বলে। এ ধরনের কাজ মানুষের অভাব পূরণ করলেও অর্থ উপার্জনে ভূমিকা রাখতে পারে না। যেমন- পিতা-মাতার সন্তান লালন-পালন, খেলাধুলা করা, ধার্মিক লোকের ধর্মচর্চা ইত্যাদি অ-অর্থনৈতিক কাজের উদাহরণ। এছাড়া যে সমস্ত কাজ সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে বা সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সেসব কাজ অর্থনৈতিক কাজ নয়। যেমন- চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, দুর্নীতি ইত্যাদি।
রাহেলার নতুন সেলাই মেশিন ক্রয়কে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বলে।
বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব হয়। মানুষ তার উদ্বৃত্ত আয়টুকু সঞ্চয় করে। সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে বিনিয়োগ বলে। সাধারণ অর্থে বিনিয়োগ বলতে অর্থলগ্নি করাকে বোঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বলতে সমাজের প্রকৃত মূলধনের নিট বৃদ্ধিকে বোঝায়। একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে বিনিয়োগের ওপর। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়ে, উৎপাদন বাড়লে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয় আর অধিক মুনাফাই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে। উদ্দীপকের রাহেলা তার সঞ্চয়ের মাধ্যমে ২টি সেলাই মেশিন ক্রয় করেন যাকে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বলে। এরপর রাহেলা তার প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন শ্রমিক নিয়োগ করেন। এর মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অধিক উৎপাদন অধিক মুনাফা নিশ্চিত করে, যার ফলে রাহেলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ সুগম হয়। সুতরাং বলা যায়, রাহেলার নতুন সেলাই মেশিন ক্রয় করা হলো বিনিয়োগ এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব।
না, রাহেলার ব্যবসায়িক গুণাবলি অর্থনীতিতে সম্পদ নয়।
অর্থনীতিতে সম্পদ হলো সেই সমস্ত জিনিস বা দ্রব্য, যেগুলো পেতে চাইলে অর্থ ব্যয় করতে হয়। সংক্ষেপে আমরা এ দ্রব্যগুলোকে অর্থনৈতিক দ্রব্যও বলে থাকি। কোনো জিনিসকে যদি অর্থনীতিতে সম্পদ বলতে হয়, তবে তার চারটি বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। বৈশিষ্ট্যগুলো হলো উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা ও বাহ্যিকতা। এর যেকোনো একটির অনুপস্থিতিতে আমরা কোনো জিনিস বা দ্রব্যকে সম্পদ বলতে পারি না। উদ্দীপকে উল্লিখিত রাহেলার ব্যবসায়িক গুণাবলিকে উৎপত্তির দিক থেকে বিবেচনা করলে মানবিক সম্পদ বলা যায়। কিন্তু অর্থনীতির ভাষায় তার এ গুণাবলিকে সম্পদ বলা যায় না। কারণ অর্থনীতিতে কোনো জিনিসকে সম্পদ বলতে গেলে তার উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা থাকতে হবে। ব্যবসায়িক গুণাবলির উপযোগ ও অপ্রাচুর্যতা থাকলেও এর বাহ্যিকতা ও হস্তান্তরযোগ্যতা নেই। অর্থাৎ, রাহেলার ব্যবসায়িক গুণাবলি বাহ্যিকভাবে দেখা যায় না এবং সে ইচ্ছা করলে তার এ গুণাবলি হস্তান্তরও করতে পারে না। সুতরাং রাহেলার ব্যবসায়িক গুণাবলিকে সম্পদ না বলার প্রধান কারণ হলো এর বাহ্যিকতা এবং হস্তান্তরযোগ্যতার অভাব রয়েছে।
Related Question
View Allকোন ব্যক্তি তার মালিকানাধীন উৎপাদনের উপকরণকে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করে তার বিনিময়ে যা অর্জন করে তাই আয়।
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত যেসব সম্পদ ব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শক্তি (বিদ্যুৎ, তাপ) উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে শক্তি সম্পদ বলে।
যেমন- নদীর স্রোত ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি ব্যবহার করে তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় সোলার প্যানেল। আবার আণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র (পারমাণবিক বোমা, গ্রেনেড) ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নদীর স্রোত, সৌরশক্তি, আণবিক শক্তি এগুলো হচ্ছে শক্তি সম্পদের বিভিন্ন উৎস।
শফিকের মাছ-মাংস ক্রয়ের ধারণাটি সুযোগ ব্যয়ের (Opportunity Cost) মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প দ্রব্যটির যে পরিমাণ উৎপাদন ত্যাগ করতে হয় তাকে প্রথমোক্ত দ্রব্যটির সুযোগ ব্যয় বলে।

প্রদত্ত চিত্রে (OX) অক্ষে মাংসের পরিমাণ এবং (OY) অক্ষে মাছের পরিমাণ নির্দেশ করা হয়েছে। AB রেখাটি হলো সুযোগ ব্যয় রেখা যা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে দুটি বিকল্প দ্রব্য (মাছ ও মাংস) ক্রয়ের বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ করছে। এক্ষেত্রে শফিক ১০০০ টাকা ব্যয় করে শুধু মাংস কিনলে OB পরিমাণ অর্থাৎ ৪ কেজি মাংস কিনতে পারে অথবা সে মাছ কিনলে OA পরিমাণ অর্থাৎ ২ কেজি মাছ কিনতে পারে। কিন্তু শফিক ১০০০ টাকা দিয়ে ২ কেজি মাংস এবং ১ কেজি মাছ ক্রয় করলো; যা C বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। অতএব C বিন্দুতে ১ কেজি মাছের সুযোগ ব্যয় হলো ২ কেজি মাংস।
উদ্দীপকের শফিকের দুটি দ্রব্য নির্বাচনের বিষয়টি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
নির্বাচন বলতে বোঝায় মানুষের অসীম অভাবের মধ্যে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ অভাবগুলো বাছাই করা। কারণ মানবজীবনে অভাব অসীম হলেও তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। এ জন্য মানুষের পক্ষে সকল অভাব একত্রে পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে বেশি প্রয়োজনীয় অভাবগুলো আগে পূরণ করার প্রচেষ্টা করে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, শফিক বাজারে গিয়ে দেখল তার মায়ের দেওয়া ১০০০ টাকা দিয়ে ২ কেজি মাছ অথবা ৪ কেজি মাংস ক্রয় করতে পারে। তখন সে অনেক চিন্তার পর ১ কেজি মাছ এবং ২ কেজি মাংস ক্রয় করে যা মূলত গুরুত্ব অনুসারে অভাব নির্বাচনকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ, শফিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সম্পদ (১০০০ টাকা) দিয়ে অভাব নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ করে থাকে। কাজেই, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মানবজীবনে সম্পদের স্বল্পতা তথা দুষ্প্রাপ্যতার কারণে অভাব নির্বাচন করে তা পূরণ করতে হয়।
যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়ার জন্য মানুষকে মূল্য প্রদান করতে হয় তাকে অর্থনৈতিক দ্রব্য বলে।
প্রকৃতি থেকে পাওয়া যে জিনিসগুলো মানুষের প্রয়োজন মেটায় তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে।
মানুষ প্রকৃতি থেকেই সব সম্পদ আহরণ করতে পারে। কেননা প্রকৃতির মধ্যেই নানা মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। যেমন- ভূমি, বনভূমি, খনিজ সম্পদ, নদ-নদী, গাছপালা, জীবজন্তু ইত্যাদি প্রকৃতির উপাদান। বস্তুত, প্রকৃতির এসকল উপাদানকেই প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!