গৃহ ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি হলো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য।
গৃহ ব্যবস্থাপক পরিবারের সদস্যদের সামাজিক রীতিনীতি শিক্ষা দিয়ে সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে মেলামেশা ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নিতে পারেন। শিষ্টাচার, আদর্শ মূল্যবোধ শিক্ষাদানের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। পরমতসহিষ্ণুতা, বিপদে ধৈর্যধারণ, অন্যকে সাহায্য করা, সমাজপ্রীতি শিক্ষাদানের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের নৈতিক চরিত্রের অধিকারী করতে পারেন। এতে সামাজিক অবক্ষয় রোধের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ রোধ করা সম্ভব হবে।
জাসদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে রাহেলা বেগমের আত্মসংযম গুণটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে জীবন চলার মাঝে পরিবারে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। পারিবারিক সংকটকালে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই আত্মসংযম। একজন সুব্যবস্থাপকের আত্মসংযমী হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
রাহেলা বেগম তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। কারণ তার মধ্যে আত্মসংযম গুণটি বিদ্যমান। এই গুণের মাধ্যমে অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান করা যায়। আত্মসংযম ক্ষমতা থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সহজ হয়। পরিবারে অনেক সময় সদস্যদের মধ্যে নানা রকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ রকম পরিস্থিতিতে গৃহ ব্যবস্থাপক উত্তেজিত না হয়ে নিজেকে সংযত রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। ফলে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পরিবারে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
এভাবেই রাহেলা বেগম আত্মসংযমের মাধ্যমে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন।
রাহেলা বেগমের গুণগুলো হলো বুদ্ধিমত্তা, অধ্যবসায় ও আত্মসংযম। এ গুণগুলো একটি জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ব্যক্তির পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা, জ্ঞানস্পৃহা ইত্যাদি তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। কোনো সমস্যাকে অনুধাবন করে পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করা, বিগত দিনের কোনো অভিজ্ঞতাকে সময়মতো কাজে লাগানো এ সবই বুদ্ধির ওপর নির্ভরশীল। গৃহ ব্যবস্থাপক তার বুদ্ধির জোরে পরিবারের সীমিত সম্পদ ব্যবহার করেও সব চাহিদা পূরণ করতে পারেন, যা জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। অধ্যবসায় ছাড়া কোনো কাজে সফলতা আসে না। যেকোনো কাজ। সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শেষপর্যন্ত কাজটি করে যাওয়াটাই হচ্ছে অধ্যবসায়। গৃহ ব্যবস্থাপকের এই গুণের কারণেই যেকোনো কঠিন কাজ সহজেই সম্পন্ন হয়। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও একাগ্রতা ইত্যাদি গুণাবলি অধ্যবসায়ী হতে সাহায্য করে। ঘরে শিশুদের পরিচালনা এবং তাদের লেখাপড়া করার ক্ষেত্রে অধ্যবসায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ গুণটি জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক, সংকটকালে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই আত্মসংযম। এই গুণের মাধ্যমে অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান করা যায়। আত্মসংযম ক্ষমতা থাকলে পরিবারের সদস্যদর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সহজ হয়। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা যে কোন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে যা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। রাহেলা বেগমের মধ্যে উল্লিখিত গুণগুলো দেখা যায়। এ সকল গুণের কারণে তার ছেলেমেয়েরা বর্তমানে ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হয়ে সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তাই বলা যায়, রাহেলা বেগমের গুণগুলো একটি জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
Related Question
View Allগৃহে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গৃহ ব্যবস্থাপক।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে সানজিদা খাতুনের যে গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো পরিবারের সদস্যদের জন্য কাজের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
পরিবারের সকল সদস্য যেন তাদের করণীয় কাজগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য সানজিদা খাতুন কাজের উপযুক্ত, উন্নত ও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ফলে সদস্যদের কাজ তুলনামূলক সহজ হয়ে যায় এবং তারা উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে সফলতার দিকে অগ্রসর হয়।
সানজিদা খাতুন তার সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য আলো-বাতাসপূর্ণ ও কোলাহলমুক্ত স্থান নির্বাচন করেছেন। এছাড়া তিনি তাদের শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সঠিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখেন। ফলে তার সন্তানেরা নির্বিঘ্নে আরামদায়ক পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে। পরিবারের সদস্যদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রত্যেক গৃহ ব্যবস্থাপকের কর্তব্য। সানজিদা খাতুনও তাই করেছেন।
সানজিদা খাতুন বাসায় মেহমান এলে তাদের যত্ন ও আপ্যায়ন করতে প্রায়শ বিরক্ত হন। তার এ আচরণটি দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপকের গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মানুষ সামাজিক জীব। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী নিয়েই আমাদের জীবন। তাই সকলের সাথে ভালো ব্যবহার ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে মেহমান এলে আপ্যায়নের মাধ্যমে তাদের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এ সময় যদি তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা হয় তাহলে সম্পর্কের মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয় যা সামাজিক জীবনযাপনের অন্তরায়।
সানজিদা খাতুনের মধ্যে গৃহ ব্যবস্থাপকের যে গুণটি নেই তা হলো অভিযোজ্যতা। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হলো অভিযোজ্যতা। যিনি যত ভালোভাবে অভিযোজন করতে পারবেন, তিনি তত সহজেই যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপককে পরিবর্তিত অবস্থার সাথে অভিযোজন করে সকল কাজ করতে হয়। তাই সানজিদা খাতুনের মধ্যে অভিযোজ্যতা গুণটি থাকা প্রয়োজন।
গৃহে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গৃহ ব্যবস্থাপক।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!