গর্ভধারণের পর গর্ভবতী মায়ের শারীরিক ও মানসিক যত্ন নেওয়াকেই গর্ভকালীন সময়ের যত্ন বলে।
প্রসবকালীন সময়ের সমস্যাকে প্রসব জটিলতা বলে। জন্মকালীন সময়ে প্রসব জটিলতা দেখা দিলে শিশুর মস্তিষ্কে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, শিশু দুর্বল হয়ে যায়, হৃদস্পন্দনের, গতি ১০০ এর নিচে নেমে যায়। অনেক সময় শিশুর নাভিরজ্জু, জরায়ুর মুখ ও তার দেহের মাঝখানে চাপা পড়লে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এতে শিশু মারাও যেতে পারে।
লাউদ্দীপক হতে দেখা যায়, রাহেলা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে বাড়িতে দীর্ঘসময় অতিবাহিত হয়। ফলে সে ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে রাহেলা বেগমকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করালে ডাক্তার দ্রুত অপারেশন করে। রাহেলা একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দেন। ডাক্তারের এ সিদ্ধান্তটি যথার্থ ছিল বলে আমি মনে করি।
প্রসবকালীন সময়ের বিভিন্ন ঘটনা শিশুর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। যেমন- এ সময়ে অক্সিজেনের স্বল্পতা হলে শিশুর মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় ও তা স্থায়ী হয়। আবার নির্ধারিত সময়ের পর শিশু জন্ম নিলেও শিশুর মৃগীরোগ, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা, মস্তিষ্কের ক্ষতি, পক্ষাঘাতজনিত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এছাড়া অনেক সময় মৃত্যুও হতে পারে। কখনো প্রসবকালীন সময়ে শিশুর পা নিচের দিকে অবস্থান করে। এ সময় তার মাথা নিচের দিকে টানলে বিপত্তি ঘটার সম্ভাবনা থাকে। শিশু স্বাভাবিক উপায়ে জন্মনালিতে প্রবেশ না করলে তখন সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ করানো হয়। এতে শিশু ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। তাই রাহেলার প্রসবে ডাক্তারের সিদ্ধান্তটি সঠিক।
গর্ভবতী হওয়া একজন মায়ের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একটি মেয়ের মা হওয়ার জন্য শারীরিক পূর্ণতা ও মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। অল্প বয়সে গর্ভবতী হলে গর্ভস্থ সন্তানের নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
রাহেলা বেগম ১৭ বছর বয়সে গর্ভধারণ করেছেন। অথচ ১৫-২০ বছর পর্যন্ত সময়ে মেয়েদের শারীরিক বিকাশ পূর্ণতা পায় না। এ কারণেই রাহেলার প্রসবকালীন সময়ে জটিলতা দেখা দেয়। অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ করলে যেসকল জটিলতা দেখা দিতে পারে তার মধ্যে গর্ভপাত, রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি জটিলতা দেখা দেয়। অল্পবয়সে গর্ভধারণ করলে জরায়ুর বিকাশ ঠিকমতো না হওয়ায় গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে। মায়েরা রক্তস্বল্পতা ও অপুষ্টিতে ভোগে, প্রথম ও শেষ দিকে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। গর্ভবতীর উচ্চ রক্তচাপ হওয়া বা তড়কা যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। মায়ের শ্রোনী ছোট হলে শিশুকে সিজারিয়ান করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সময়ের আগেই প্রসব হয়ে যায় ও দীর্ঘক্ষণ প্রসব যন্ত্রণা হয়।
উদ্দীপকের রাহেলার ক্ষেত্রেও উপরিউক্ত সমস্যাগুলোই দেখা দিয়েছিল।
Related Question
View Allফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন, বয়স, পজিশন এবং অ্যামনিউটিক ফ্লুইডের পরিমাণ পরীক্ষা করার পদ্ধতি হলো আলট্রাসনোগ্রাম।
২০ বছরের নিচে গর্ভধারণকারী মা-কে ঝুঁকিপূর্ণ মা বলার কারণ হলো এদের মা হওয়ার মতো মানসিক পরিপক্কতা ও শারীরিক পূর্ণতা থাকে না।
অপরিণত বয়সে যেসব মেয়ে মা হয়, তারা নানা রকম শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভোগে। এছাড়াও এ বয়সে একটি মেয়ের সন্তান ধারণ করা, জন্ম দেওয়া ও পালন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে না। ফলে সে নিজে ও তার গর্ভের সন্তান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
রহিমা ৩ মাসের গর্ভবর্তী। গর্ভবতীর ১ম তিন মাস হলো গর্ভসঞ্চারের পর থেকে ১২ সপ্তাহ।
গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বৃদ্ধি-সামান্য হয় বলে পুষ্টির চাহিদা খুব একটা বৃদ্ধি পায় না। তাই রহিমার দেহকে সুস্থ রাখার জন্য, দেহের প্রয়োজনীয় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সুষম খাদ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়গুলো প্রাধান্য দিতে হবে। এ সময় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলো হলো-
১. মূত্র পরীক্ষা: গর্ভসঞ্চার নির্ধারণের জন্য করা হয়।
২. রক্তের নিয়মিত পরীক্ষা: রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, হিমোগ্লোবিন, হেপাটাইটিস ভাইরাস, যৌনবাহিত রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা।
৩. আলট্রাসনোগ্রাম: ফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন ইত্যাদি নির্ণয় করা।
রহিমার মানসিক বিপর্যয় তার গর্ভের শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
রহিমার আশেপাশের পরিবেশে ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ ও অশান্তি লেগেই রয়েছে। ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
রহিমা গর্ভবতী, এই অবস্থায় শারীরিক যত্নের সাথে সাথে মানসিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। কারণ শরীর ও মন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জন্মের পূর্বে মায়ের অনুভূতি, আবেগ, ক্রোধের সাথে ভ্রূণ শিশুর কোনো রকম যোগাযোগ থাকে না। তবুও মায়ের মনের তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা, মায়ের দেহে রাসায়নিক পরিবর্তন সৃষ্টি করে, যার প্রভাবে ভ্রূণ শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মায়ের হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়াসহ দেহের বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। এতে ভ্রূণ শিশুর অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। রহিমার পারিবারিক ক্লেশ, ক্লান্তি ও অতিরিক্ত উদ্বেগ ভ্রূণের গঠনে অস্বাভাবিকতা আনতে পারে এবং গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এ ধরনের মানসিক ক্লান্তি ও ক্লেশ শিশুর মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। মায়ের মনের মানসিক অশান্তির কারণে সন্তানেরা পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না।
তাই রহিমার উচিত গর্ভাবস্থায় পরিবারের সকলের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক রাখা। সবসময় ইতিবাচক পরিবেশে অবস্থান করা। রহিমা যাতে আনন্দ ও প্রফুল্লচিত্তে থাকেন, সেদিকে সকলের সচেষ্ট থাকা উচিত।
গর্ভবতী মায়ের দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার।
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ দেখা যায়।
গর্ভাবস্থায় রুবেলা (German measels), সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং ধনুষ্টংকার প্রভৃতি রোগ হতে পারে। এ জাতীয় রোগ ভ্রূণের ক্ষতিসাধন করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!