ঔপনিরেশিক শাসনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো- দখলদার শক্তি যতদিন শাসক হিসেবে থাকবে ততদিন সেই দেশের ধনসম্পদ নিজ দেশে পাচার করবে।
বাংলার নবজাগরণের ক্ষেত্রে শ্রীরামপুরে প্রতিষ্ঠিত মুদ্রণযন্ত্রের প্রভাব ছিল অনন্য। ১৮২১ সালে শ্রীরামপুরে মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন বাংলার মানুষের মনকে মুক্ত করা ও জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আরেকটি পথ খুলে দেয়। এর ফলে বইপুস্তক ছেপে জ্ঞানচর্চাকে শিক্ষিত ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও স্থায়িত্ব দেওয়ার পথ সুগম হয়। এ সময় অনেকে বাংলা ভাষায় সংবাদপত্র প্রকাশ করে জনমত সৃষ্টিতে এগিয়ে আসেন।
উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনার সাথে ঐতিহাসিক ঘটনা পলাশীর যুদ্ধের মিল আছে।
নবাব আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দৌহিত্র নবাব সিরাজউদৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। এতে তার নিকটাত্মীয়রা মনঃক্ষুণ্ণ হন। এই কারণে নবাবের দরবারের একটি অংশ ও আত্মীয় নবাবকে মসনদ থেকে হটানোর জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে। তদ্রুপ উদ্দীপকে উল্লিখিত রায়পুরের জমিদার মৃত্যুর আগে তার ছোট মেয়ের ছেলেকে জমিদারি ক্ষমতা দেন। ফলে তাঁর বড় মেয়ে ও বড় মেয়ের ছেলে লোভী ও স্বার্থপর কর্মচারীদের নিয়ে কোন্দল সৃষ্টি করে। অবশেষে এক বিদেশি কোম্পানির হাতে তাদের জমিদারির ক্ষমতা চলে যায়। পুরো ঘটনাটি নবাব সিরাজউদ্দৌলোর ক্ষমতা গ্রহণ, তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া যড়যন্ত্র, ইংরেজদের হাতে নবাবের পরাজয় এবং ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রপাতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নবাবকে মসনদ থেকে সরানোর ষড়যন্ত্রের সুযোগ ক্ষমতালিলু ইংরেজরা হাত ছাড়া করেনি। তদুপ নবাবের বিরুদ্ধে তাঁর বড় খালা ঘসেটি বেগম, মীর জাফর, মার কাসিমসহ রাজপ্রাসাদের অভিজাতদের একটি অংশ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে ইংরেজ বণিকরা তাদের সাথে যোগ দেয়। ইংরেজদের দমন করার লক্ষ্যে ইংরেজদের বিরুদ্ধে নবাব যুদ্ধ পরিচালনা করেন। ১৭৫৭সালের ২৩শে জুন পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। এর মাধ্যমে বাংলার প্রত্যক্ষভাবে ঔপনিবেশিক শাসনের শুরু হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের ঘটনার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে নির্দেশিত কোম্পানি বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে গৃহীত বিভিন্ন কাজ উক্ত কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারে ভূমিকা রাখে।
১৭৫৭ সালে ২৩শে জুন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন। দেওয়ানি লাভের পর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু করেন। ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনকে স্থায়ী রূপ দিতে তারা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও গ্রহণ করেছিলেন। উদ্দীপকে এক বিদেশি কোম্পানির হাতে জমিদারি চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে নির্দেশ করছে। এ কোম্পানি তার শাসনামলে নানা কাজ করে যা তাদের আধিপত্য বিস্তারে ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্র ও প্রশাসন পচিালনায় ইংরেজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময়ে ইংরেজ গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ও লর্ড হার্ডিঞ্জ এদেশে শিক্ষা বিস্তারসহ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার সূচনা করেন। এছাড়া সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহ রোধ এবং বিধবা বিবাহ প্রবর্তনসহ সামাজিক কুপ্রথা নির্ধারণে রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো বাঙালিদের উদ্যোগকে তারা সহযোগিতা দেন। তাদের শাসনামলে দেশে একটি নতুন শিক্ষিত শ্রেণি ও নাগরিক সমাজ গড়ে উঠলেও বৃহত্তর বাঙালি সমাজ ইংরেজ কোম্পানির শাসনে প্রকৃতপক্ষে শোষিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। আর এ কারণেই আমি প্রশ্নোক্ত উক্তিটিকে সমর্থন করি।
Related Question
View Allউপনিবেশিকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশকে অর্থনৈতিক শোষণ এবং লাভের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলাও প্রায় দুইশ বছর ইংরেজদের অধীনে উপনিবেশ ছিল।
বাংলায় মানব বসতি প্রাচীনকাল থেকেই শুরু হয়। এই অঞ্চল ধনসম্পদে ভরপুর থাকায় বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে এসে বসতি গড়ে তোলে। বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই ছিল বহিরাগতদের আকর্ষণের প্রধান কারণ।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শক্তিশালী শাসক না থাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই সময়কে মাৎস্যন্যায় যুগ বলা হয়। এটি সংস্কৃত ভাষায় 'বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে' এমন অরাজকতার সময় নির্দেশ করে। এ সময়ে বাংলা বহু রাজ্য বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা হয় ১৩৩৮ সালে। সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি বাংলার বৃহদাংশ অধিকার করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে বাংলার ঐক্য, 'স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাংলার শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর শাসনকালে বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধি লাভ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!