জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয় ২০০৮ সালে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হলো একটি সংবিধিবদ্ধ ও স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এর দুটি কার্যক্রম বর্ণনা করা হলো-
১. সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ বা কোনো Client এর অভিযোগের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার উপর সরেজমিনে ও নিরপেক্ষভাবে তথ্যানুসন্ধান চালায়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও সত্য উদ্ঘাটন করা হয়, যা সরকার পরিচালিত সংস্থাগুলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে সহায়তা করে।
২. দেশের প্রচলিত আইন কাঠামোতে আইনগত সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন সমস্যায় আইনের ভূমিকা নিয়ে মানবাধিকার কমিশন দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা করে। এসব গবেষণার মাধ্যমে প্রচলিত আইনের সংশোধন, নতুন কোনো আইন প্রণয়ন বা সরকারি নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সাহায্য করে থাকে।
উদ্দীপকে রায়হান মাহমুদের দেখা মেসেজটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পূর্বপ্রস্তুতির অংশ।
পূর্বপ্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ-পূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাপনাকে বোঝায়। দুর্যোগ ঘটার আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও সেই এলাকার জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতারযন্ত্র ইত্যাদি প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। পাশাপাশি গৃহপালিত পশু-পাখি এবং সম্পদ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রায়হান মাহমুদের মোবাইলে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। তাতে ৫নং মহাবিপদ সংকেত এবং উপকূলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। এ মেসেজটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দুর্যোগ পূর্বপ্রস্ততির অংশ। এর ফলে দুর্যোগকালীন ক্ষয়-ক্ষতি হ্রাস পায় এবং দুর্যোগ পরবর্তী জরুরি সাড়া দানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করে এক্ষেত্রে আরো বেশি সফল হওয়া যাবে।
ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার সমাধান, প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নে পেশাগত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সমাজকর্মীগণ যেসব কৌশল বা পন্থা অবলম্বন করে থাকেন তাই সমাজকর্ম পদ্ধতি। আর মানুষের সমস্যার ধরন ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকেন। তাই দুর্যোগ মোকাবিলা বা ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার ক্ষেত্রে সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে অনেকটা সফল হওয়া যাবে। কারণ সমাজকর্মীরা তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
সমাজকর্ম মানুষের নিজস্ব সম্পদ ও আনুষঙ্গিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলা বা প্রতিরোধে কাজ করে থাকে। এ কাজে সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সমাজকর্মের সমষ্টি উন্নয়ন ও সমষ্টি সংগঠন পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। কেননা এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বিশেষের পক্ষে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সমষ্টি সমাজকর্মের বিভিন্ন কৌশল ও প্রক্রিয়া সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেশি কার্যকর হবে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, সমাজকর্ম পদ্ধতির মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা হলে দুর্যোগকালীন ক্ষয়-ক্ষতি হ্রাসে আরো বেশি সফল হওয়া যাবে।
Related Question
View Allমাঠকর্মী যে সকল নিয়ম-নীতির মাধ্যমে তার কার্য সম্পাদন করে তাকে মাঠকর্ম নীতি বলা হয়।
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হচ্ছে সমাজকর্মের তত্ত্ব ও পদ্ধতির পেশাগত অনুশীলন। এ শাখায় মনো-সামাজিক সামঞ্জস্যহীনতা, অক্ষমতা বা আংশিক অক্ষমতা অথবা আবেগীয় ও মানসিক সামঞ্জস্যহীনতার প্রতিকার ও প্রতিরোধে কাজ করে।
সাধারণত শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্যকলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকরি হারানো ইত্যাদির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম সাহায্যার্থীকে সাইকোথেরাপি এবং পরামর্শ সেবার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সব চাহিদা পূরণ করতে হয় সেগুলোই মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ না করলে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারে না। তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পায় না। এমনকি অসুস্থ হলেও তারা চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। আর তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষ এ সকল মৌলিক মানবিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তাই বলা যায়, তালবাড়িয়া গ্রামের মানুষরা মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে সরকারের গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি মূলত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ ও সরকারের সহায়তার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত করে তোলে। গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক, বেকার, দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উপার্জনক্ষম করে তোলা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
গ্রামীণ অর্থনীতির কাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য কুটির শিল্পের প্রসারে সহায়তা করা এবং গ্রামের সক্ষম দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাও গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর বাইরে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতা দূরীকরণে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা, স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি পরিচলিত হয়। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেও এ কর্মসূচি কাজ করে থাকে। গ্রামের জনগণের মধ্যে পুষ্টিজ্ঞান, খাবার স্যালাইন তৈরি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, শিশু যত্ন ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান, শিশু, যুবক, মহিলা, প্রতিবন্ধী প্রভৃতির জন্য বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং অক্ষমদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করে। একইসাথে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি কাজ করে থাকে।
প্রতিটি কাজের সফলতা-বিফলতা বিশ্লেষণ করাই হলো মূল্যায়ন।
পরিবার গঠনে বিবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিবাহ হচ্ছে এমন একটি কার্যপ্রণালি যার মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে। মূলত বিবাহ হচ্ছে পরিবার গঠনের উপায়। কেননা একজন নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে পারিবারিক জীবনের সূচনা ঘটিয়ে দেয় বিবাহ। বিবাহ ছাড়া পরিবার গঠন অসম্ভব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!