কোনো অংশীদারি চুক্তিপত্রে অংশীদারগণ ব্যবসায়ের স্থায়িত্বকাল বা মেয়াদের সীমানা নির্ধারণ না করে যে ব্যবসায় পরিচালনা করে তাকে ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়বস্তু যে দলিলে লিপিবদ্ধ করা হয়, তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।
চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। এরূপ চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ধরনের হতে পারে। কিন্তু তা লিখিত হওয়াই উত্তম। কারণ লিখিত চুক্তি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। অংশীদারি চুক্তিপত্র বিশদ বর্ণিত হয় এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকালে উদ্ভূত হতে পারে এমন সকল সমস্যার প্রয়োজনীয় সমাধানের বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে।
উদ্দীপকে মি. রাসেল একজন নামমাত্র অংশীদার।
যে অংশীদার চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ অথবা নির্দিষ্ট বেতন বা অর্থের বিনিময়ে তার নামের সুনাম অংশীদারি ব্যবসায়কে ব্যবহারের অনুমতি দেয় তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে। এরূপ অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয় না কিন্তু সাধারণত নিজেকে ব্যবসায়ের অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেয় অথবা অন্যকে নিজের বিষয়ে এ ধরনের প্রচারের অনুমতি দিয়ে থাকে। তবে এরূপ অংশীদার অন্য অংশীদারের ন্যায় অসীম দায় বহন করে না।
উদ্দীপকের রায়হান, মাহামুদ ও রাসেল পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি পেট্রোল পাম্পের ব্যবসায় পরিচালনা করেন। কিন্তু রাসেল তাদের সাথে ব্যবসায়ে যুক্ত হলে কোনো মূলধন বিনিয়োগ - করেননি এবং পরিচালনায়ও অংশগ্রহণ করেননি। প্রতিষ্ঠানটি শুধু রাসেলের সুনাম ব্যবহার করে। এর ফলে রাসেল ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন অংশীদার। এ অংশীদারের ফলে রাসেল ব্যবসায়ে লাভের অংশ ভোগ বা গ্রহণ করেন। তবে এরূপ অংশীদার প্রতিষ্ঠানের অন্য অংশীদারের ন্যায় অসীম দায় বহন করে না। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে মি. রাসেল একজন নামমাত্র অংশীদার।
উদ্দীপকে জনাব রাসেল এ দায় বহনে বাধ্য নন।
নামমাত্র অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং পরিচালনায়ও অংশ নেয় না কিন্তু সাধারণত নিজেকে ব্যবসায়ের অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেয় অথবা অন্যকে নিজের বিষয়ে এ ধরনের প্রচারের অনুমতি দেয়। নামমাত্র অংশীদার ব্যবসায়ে তার নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয় এবং কোনো দায় বহন করে না।
উদ্দীপকের রায়হান, মাহামুদ ও রাসেল পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি পেট্রোল পাম্পের ব্যবসায় পরিচালনা করেন। কিন্তু রাসেল প্রতিষ্ঠানে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেননি তবে তার সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দেন। এর ফলে তিনি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা গ্রহণ করেন। হঠাৎ করে বিশ্ববাজারে পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়ে এবং অনেক পাওনাদার সৃষ্টি হয়। রাসেলের সমস্ত সম্পদ হিসাব করে দেখা যায় তিনি সব পাওনাদারের টাকা একাই পরিশোধ করতে পারবেন। কিন্তু তিনি পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করবেন না কারণ তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন নামমাত্র অংশীদার। এরূপ অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কোনো দায় বহন করেন না।
পরিশেষে বলা যায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানে রাসেল তার সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। যার ফলে সে প্রতিষ্ঠানে মূলধন বিনিয়োগ না করেও মুনাফা ভোগ করেন। এরূপ অংশীদার কোনো দায় বহন করে না।
Related Question
View Allসাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা ২ জন।
অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের দায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে অসীম।
অসীম দায় বলতে ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের দায় সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়; যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে দায়বদ্ধ করে এবং ব্যক্তি দেউলিয়া হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা বিস্তৃত থাকে। এরূপ অসীম দায়ের কারণেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা উৎসাহিত হয় না। যে কারণে সকল দেশেই এরূপ ব্যবসায়ের সংখ্যা কম। তাই বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না, শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মী অংশীদার অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনে বাধ্য থাকে। অবশ্য ব্যবসায় পরিচালনার জন্য এদেরকে নির্দিষ্ট হারে বেতন বা লাভের অংশ দেওয়া হয়। সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনায় যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের অংশীদার হিসেবে নেওয়া হয় যাতে ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন প্রকৌশলী। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে করিম, রহিম ও মিজান তাকে বিনা মূলধনে অংশীদার হিসাবে নেয়। যেহেতু জনাব সফিক ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করেও শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখার কারণে উক্ত ব্যবসায়ের অংশীদারিত্ব লাভ করেছে। তাই বলা যায়, জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি মি. মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার একই রকম হবে এমন নয়। বিভিন্ন ধরনের অংশীদারের মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমন্ত অংশীদার। যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
মি. মিজান একজন ঘুমন্ত অংশীদার। উদ্দীপকে করিম, রহিম ও মিজান অংশীদারির ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করেছে। এ ব্যবসায়ে করিম, রহিম ও সফিক পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু মিজান পরিচালনায় অংশ নেয়নি। তবে বছর শেষে মিজান অন্যদের মতো মুনাফা দাবি করে। মি. মিজানের কার্যক্রম অনুযায়ী তিনি একজন ঘুমন্ত অংশীদার। এ অংশীদারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
সুতরাং বলা যায়, জনাব মিজান সমান মুনাফা পাবেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!