পবিত্র কাবাঘরে রক্ষিত পাথরটির নাম হাজরে আসওয়াদ।
শুরা' একটি আরবি শব্দ যার অর্থ পরামর্শ। মজলিস-উস-শূরা একটি মন্ত্রণাপরিষদ। প্রাক-ইসলামি যুগের দারুল নাদওয়ায় বয়োজ্যেষ্ঠ পরিষদ এর অনুকরণে রাসুল (স) একটি পরামর্শব্যবস্থা চালু রাখেন। যা পরবর্তীতে হজরত আবু বকর (রা)ও এই ব্যবস্থা অনুসরণ করেন। হজরত উমর (রা) এ ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কারণ তিনি সব সময় বলতেন, পরামর্শ ব্যতীত খিলাফত চলতে পারে না। এ গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণা পরিষদ গঠন করেন যা মজলিস-উস-শুরা নামে। পরিচিত।
উদ্দীপকের মশিউর রহমান হুদায়বিয়ার সন্ধি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।
মহানবি (স) ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় হজ যাত্রায় কুরাইশদের সাথে হুদায়বিয়ার সন্ধি স্বাক্ষর করেন, যা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ সন্ধির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মুসলমান ও কুরাইশদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিসমাপ্তি ঘটে। উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তিতে অনুরূপ বিষয় লক্ষণীয়।
রায়েরবাজার ও হাজারিবাগ এলাকার লোকদের মধ্যে একে অপরের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বন্দ্ব নিরসনে রায়েরবাজার এলাকার সেবক মশিউর রহমান হাজারিবাগ এলাকার কিছুটা প্রভাব মেনে নিয়ে শর্তযুক্ত একটি চুক্তি সম্পাদন করেন, এতে দু এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি হয়। একইভাবে মহানবি (স) মুসলমান ও কুরাইশদের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার আহবান জানান। কুরাইশদের বিভিন্ন শর্ত মেনে নিয়েও তিনি হুদায়বিয়া সন্ধি স্বাক্ষর করেন। এ সন্ধির মাধ্যমে দশ বছর যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ হওয়ায় মুসলমানগণ নিশ্চিতভাবে বসবাসের সুযোগ লাভ করে। এই সন্ধির ফলে কুরাইশরা মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ হওয়ায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের চুক্তিটি হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রতিরূপ।
হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তাবলি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য বিরাট সাফল্য বয়ে আনে বলে এটিকে প্রকাশ্য বিজয় বলা যথার্থ।
হুদায়বিয়ার সন্ধির, দু বছর পরেই মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামের বিজয়ও পূর্ণতা লাভ করে। রাসুল (স)-এর সাথে মক্কার কাফিরদের সম্পাদিত এ চুক্তিটির ধারাগুলো পাঠ করলে মনে হবে এটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। কিন্তু চরম সত্য হলো এ সন্ধির মাধ্যমেই মক্কার কাফিররা মহানবি (স), ইসলাম ও মুসলমানদের এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
হুদায়বিয়ার এ সন্ধি চুক্তির মেয়াদ ছিল দশ বছর। তাই রাসুল (স) এ সময়ে নির্বিঘ্নে ইসলামের দাওয়াত সর্বত্র বলিষ্ঠভাবে প্রদানের সুযোগ পান। এতে করে অধিক হারে লোকজন ইসলামকে জানতে পারে এবং অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করে। এ চুক্তির ফলে মক্কাবাসীরা মদিনায় ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য নিঃসংকোচে ও নিরাপদে আসতে পারে। তারা মদিনার মুসলমানদের প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং ইসলামের সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারে। তারা মুসলমানদের এতটা উন্নতি ও উৎকর্ষের বার্তা মক্কায় পৌঁছে দেয়। ফলে ইসলামের প্রতি মক্কাবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এভাবে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ইসলাম সম্প্রসারিত হতে থাকে। ফলে মাত্র দু'বছরের ব্যবধানে ১৪০০ সাহাবির পরিবর্তে ১০,০০০ সাহাবি নিয়ে রাসুল (স) মক্কা বিজয় করেন। সে জন্যই হুদায়বিয়ার সন্ধিকে প্রকাশ্য বিজয় বলা যথার্থ।
Related Question
View Allমহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।
আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।
১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!