EOC-এর পূর্ণরূপ হলো- Emergency Obstetric Complications.
নিরাপদ মাতৃত্ব বলতে বোঝায় গর্ভধারণ মুহূর্ত থেকে প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী কমপক্ষে দেড় মাস সময় পর্যন্ত মা ও শিশুর বিশেষ যত্ন ও সেবা নিশ্চিত করা।
প্রসবকালীন সময়ে নিরাপদ মাতৃত্বকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিষয়গুলো জেনে সে অনুযায়ী চললে নিরাপদ মাতৃত্বের সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়।
গারিতা ও মিতা দুই বোন। রিতাকে পরিণত বয়সে বিয়ে দেওয়া হলেও মিতার ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিয়ের কিছুদিন পর রিতা ও মিতা উভয়েই গর্ভবতী হলে মিতার গর্ভকালীন জটিলতা দেখা দেয়। একদিন হঠাৎ সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ও একটি মৃত সন্তান জন্ম দেয়। মিতার বয়সের অপরিপক্বতাই এর প্রধান কারণ।
কম বয়সী মায়েদের ঝুঁকিপূর্ণ মা বলা হয়। তাদের যেমন মানসিক পরিপক্কতা থাকে না, তেমনি শারীরিক পূর্ণতাও থাকে না। তাদের গর্ভে সন্তান বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। জরায়ু ও প্রসবপথ অপরিণত থাকায় তা ফেটে যায়। মায়ের শরীর অপরিপক্ক থাকায় ভ্রূণ পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। এতে গর্ভপাতের আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটে। অপরপক্ষে, পরিণত বয়সে সন্তান ধারণ করলে ভূপ মায়ের থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। জরায়ু ও প্রসবপথ পরিণত থাকে বলে ফেটে যাওয়া ও গর্ভপাতের আশংকা থাকে না। এছাড়া গর্ভে পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় শিশু সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তাই রিতা একটি সুস্থ শিশু জন্মদানে সক্ষম হলেও অপরিণত বয়সের কারণেই মিতা একটি সুস্থ ও জীবিত শিশু জন্ম দিতে ব্যর্থ হয়।
'সুস্থ শিশু জন্মদানে মায়ের পরিপকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ'- উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
একজন সুস্থ মা-ই পারেন একজন সুস্থ শিশু জন্ম দিতে। এজন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন পরিণত বয়সে গর্ভধারণ। অপরিণত্ব বয়স বা ২০ বছরের নিচে সন্তান ধারণ করলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন- অপরিণত মায়ের দেহ ভূগকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দিতে পারে না।
অপরিণত বয়সে গর্ভে সন্তান এলে সন্তানের বেড়ে ওঠার মতো গর্ভে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। এতে অপরিণত ও কম ওজনের শিশু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি শিশু প্রতিবন্ধী হয়েও জন্মাতে পারে। কম বয়সী মায়েদের সন্তান ধারণ করা, জন্ম দেওয়া, সন্তান পালন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে না। ফলে তারা শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি মানসিক জটিলতায় ভোগে। অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ মাকে যেমন ঝুঁকির সম্মুখীন করে তোলে, তেমনি শিশুটির জীবনও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অপরদিকে, পরিপক্ক মায়ের গর্ভে সন্তান বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। ফলে শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয় এবং ভুণ নির্ধারিত সময়ে জন্মগ্রহণ করে। এছাড়া শিশুর পুষ্টি তার মায়ের পুষ্টির ওপর নির্ভর করে। তাই মা যদি পরিপক্ক হয় অর্থাৎ শারীরিকভাবে সক্ষম এবং গর্ভাবস্থায় করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকেন তাহলে প্রসবকালীন জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ও সুস্থ শিশুই জন্ম' হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
তাই বলা যায়, সুস্থ শিশু জন্মদানের জন্য মায়ের পরিপক্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
Related Question
View Allফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন, বয়স, পজিশন এবং অ্যামনিউটিক ফ্লুইডের পরিমাণ পরীক্ষা করার পদ্ধতি হলো আলট্রাসনোগ্রাম।
২০ বছরের নিচে গর্ভধারণকারী মা-কে ঝুঁকিপূর্ণ মা বলার কারণ হলো এদের মা হওয়ার মতো মানসিক পরিপক্কতা ও শারীরিক পূর্ণতা থাকে না।
অপরিণত বয়সে যেসব মেয়ে মা হয়, তারা নানা রকম শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভোগে। এছাড়াও এ বয়সে একটি মেয়ের সন্তান ধারণ করা, জন্ম দেওয়া ও পালন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে না। ফলে সে নিজে ও তার গর্ভের সন্তান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
রহিমা ৩ মাসের গর্ভবর্তী। গর্ভবতীর ১ম তিন মাস হলো গর্ভসঞ্চারের পর থেকে ১২ সপ্তাহ।
গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বৃদ্ধি-সামান্য হয় বলে পুষ্টির চাহিদা খুব একটা বৃদ্ধি পায় না। তাই রহিমার দেহকে সুস্থ রাখার জন্য, দেহের প্রয়োজনীয় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সুষম খাদ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়গুলো প্রাধান্য দিতে হবে। এ সময় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলো হলো-
১. মূত্র পরীক্ষা: গর্ভসঞ্চার নির্ধারণের জন্য করা হয়।
২. রক্তের নিয়মিত পরীক্ষা: রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, হিমোগ্লোবিন, হেপাটাইটিস ভাইরাস, যৌনবাহিত রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা।
৩. আলট্রাসনোগ্রাম: ফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন ইত্যাদি নির্ণয় করা।
রহিমার মানসিক বিপর্যয় তার গর্ভের শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
রহিমার আশেপাশের পরিবেশে ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ ও অশান্তি লেগেই রয়েছে। ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
রহিমা গর্ভবতী, এই অবস্থায় শারীরিক যত্নের সাথে সাথে মানসিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। কারণ শরীর ও মন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জন্মের পূর্বে মায়ের অনুভূতি, আবেগ, ক্রোধের সাথে ভ্রূণ শিশুর কোনো রকম যোগাযোগ থাকে না। তবুও মায়ের মনের তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা, মায়ের দেহে রাসায়নিক পরিবর্তন সৃষ্টি করে, যার প্রভাবে ভ্রূণ শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মায়ের হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়াসহ দেহের বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। এতে ভ্রূণ শিশুর অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। রহিমার পারিবারিক ক্লেশ, ক্লান্তি ও অতিরিক্ত উদ্বেগ ভ্রূণের গঠনে অস্বাভাবিকতা আনতে পারে এবং গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এ ধরনের মানসিক ক্লান্তি ও ক্লেশ শিশুর মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। মায়ের মনের মানসিক অশান্তির কারণে সন্তানেরা পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না।
তাই রহিমার উচিত গর্ভাবস্থায় পরিবারের সকলের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক রাখা। সবসময় ইতিবাচক পরিবেশে অবস্থান করা। রহিমা যাতে আনন্দ ও প্রফুল্লচিত্তে থাকেন, সেদিকে সকলের সচেষ্ট থাকা উচিত।
গর্ভবতী মায়ের দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার।
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ দেখা যায়।
গর্ভাবস্থায় রুবেলা (German measels), সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং ধনুষ্টংকার প্রভৃতি রোগ হতে পারে। এ জাতীয় রোগ ভ্রূণের ক্ষতিসাধন করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!