রিনার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সবেমাত্র শেষ হয়েছে। আর  কিছুদিনের মধ্যে স্নাতক শ্রেণির ভর্তিযুদ্ধে অবর্তীর্ণ হতে হবে তাকে। তার জন্য যথাযথ প্রস্তুতিও চলছে। অবশেষে এমন একটি বিষয়ে তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হয় যেটির জন্ম হয়েছে আধুনিক জটিল শিল্প সমাজের বহুমুখী সমস্যাগুলো সার্থকভাবে মোকাবিলা করার জন্য। বাস্তবতা এবং যুগের সাথে তাল মেলানোর জন্য বিষয়টির কতগুলো সুনির্দিষ্ট নিজস্ব পদ্ধতি, নীতিমালা এবং মূল্যবোধও গড়ে উঠেছে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

সমাজকর্ম হলো সামাজিক বিজ্ঞান।

উত্তরঃ

ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সহায়তার মাধ্যমে তাদের সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে বলে সমাজকর্মকে সক্ষমকারী প্রক্রিয়া বলা হয়।
সমাজকর্ম বর্তমান বিশ্বে একটি মানবসেবামূলক সাহায্যকারী পেশা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। এটি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে এমনভাবে সহায়তা করে যেন তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। এজন্যই এটি সক্ষমকারী প্রক্রিয়া | হিসেবে পরিচিত।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে রিনা সমাজকর্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে

শিল্প বিপ্লবোত্তর আধুনিক সমাজের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানের সুসংগঠিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে। সমাজে বসবাসরত অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে সমাজকর্ম সহায়তা করে। যে কারণে একে একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
শিল্পবিপ্লব পরবর্তী জটিল সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা, পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান ও মানুষের সুপ্ত ক্ষমতা বিকাশ সাধনের উদ্দেশ্যে সক্ষমকারী প্রক্রিয়া হিসেবে সমাজকর্মের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একইসাথে সম্পদের অপচয় রোধ ও সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এছাড়া ব্যক্তিকে সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তোলার উদ্দেশ্যে সমাজকর্ম কাজ করে। উদ্দীপকে রিনা যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে সেটি সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি, নীতিমালা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে; যা সমাজকর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মূলত আধুনিক শিল্প সমাজের বহুমুখী সমস্যা সার্থকভাবে মোকাবিলা করার জন্য এ শাখার উদ্ভব হয়েছে। তাই বলা যায়, রিনা সমাজকর্মে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছে। আর উপরে আলোচিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নে সমাজকর্ম কাজ করে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় অর্থাৎ সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সেবাকর্ম হিসেবে সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, নীতিমালা, মূল্যবোধের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে। বিশেষত বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
বাংলাদেশের অস্থিতিশীল আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। যে কারণে দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, জনসংখ্যাস্ফীতি, বেকারত্ব, অপরাধ প্রবণতা, সন্ত্রাস ইত্যাদির মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিনিয়ত দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্মের প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিকল্প নেই। এছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, প্রয়োজন ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকর্মের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ করা যায়। একইসাথে সমাজকর্মে নিজস্ব সম্পদ ও সামর্থ্যের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক স্বনির্ভরতা অর্জনকে উৎসাহিত করা হয়। তাই বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে সমাজকর্মের নীতি, পদ্ধতি ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামগ্রিক আলোচনায় তাই বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সীমিত সম্পদের যথার্থ ব্যবহার এবং মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম।

123
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের এক জটিল রূপ, যেখানে মানুষ পরস্পর সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করার সুযোগ লাভকরে।

238
উত্তরঃ

সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা দেয়।
সমাজে বসবাসকারী সদস্যদের মধ্যে সর্বদা সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ওপর এর প্রভাব পড়ে। গতিশীল সমাজের সাথে সাথে সামাজিক সম্পর্কও দ্রুত পরিবর্তিত হয়। যার সাথে মানুষ সামঞ্জস্য বিধানে ব্যর্থ হয়।

206
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বর্ণনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।

সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা এবং অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। উদ্দীপকে বর্ণিত গবেষণাকর্মীদের কাজে এ উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ভোলা জেলার ঢালচর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একদল সমাজকর্মী কাজ করছে। তারা ঐ অঞ্চলের মানুষকে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। তাদের এ কাজে সমাজকর্মের চারটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এগুলো হলো- জনগণের সমস্যা সমাধানে উপযোজন ক্ষমতার উন্নয়ন; সম্পদ, সেবা, ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো; মানুষের হৃতক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও কার্যকর ভূমিকা পালনে তাদেরকে সক্ষম করে তোলা এবং ব্যক্তিগতও সামাজিক সম্পদের সর্বোচ্চ সমাবেশ ঘটানো। উদ্দীপকের গবেষণাকর্মীদের কাজে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলোই খুঁজে পাওয়া যায়।

179
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মাত্র চারটি প্রতিফলিত হওয়ায় বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। সমাজ থেকে যেকোনো ধরনের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি দূরীকরণে এটি পরিকল্পিত উপায়ে প্রচেষ্টা চালায় এবং গঠনমূলক পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধনের এ বৃহত্তর কাজটি করতে সমাজকর্ম সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন উপাদানের সহায়তা নেয়। উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের কিছু উপায়ের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

সমাজ পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে মানুষের প্রচেষ্টা সর্বাগ্রে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও নেহায়েত কম নয়। সমাজকর্ম অনেক সময় উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং সামাজিক নীতির বিকাশ সাধনের প্রচেষ্টা চালায়। ব্যক্তি, দল বা সমষ্টিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজকর্ম তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ তথা সচেতনতা সৃষ্টি করে। এই সচেতনতাবোধই তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে কার্যকর মানবীয় সেবা ত্বরান্বিত করতে সমাজকর্ম নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। দেশের প্রচলিত সমাজসেবামূলক কার্যক্রমগুলোর উন্নয়ন, সামাজিক কার্যক্রম জোরদার করা, সামাজিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য। মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব থেকে মুক্তি দেওয়াও সমাজকর্মের লক্ষ্য।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সামগ্রিক রূপ নয়।

228
উত্তরঃ

শিল্পবিপ্লব পরবর্তী আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সমাজে বসবাসরত মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই, সামাজিক সম্পর্কের এ গতিশীল পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে মানুষ ব্যর্থ হয়। ফলে সমাজে সৃষ্টি হয় নানা ধরনের অসংগতি ও সমস্যা। এসব অসংগতি দূরীকরণ এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে মানুষকে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম করে তোলার জন্যই সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।

196
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews