মানুষের দেহের ৫৫-৭৫ ভাগ পানি দ্বারা গঠিত।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি অত্যাবশ্যকীয়।
মানুষ কয়েক সপ্তাহ খাবার না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু পানি না খেয়ে এক দিনের বেশি থাকতে পারে না। তাই পানির অপর নাম জীবন। শরীরের সব টিস্যুতেই পানি থাকে। একজন স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের দিনে ৬-৮ গ্লাস পানির প্রয়োজন হয়।
রিপনের সমস্যা সমাধানে আয়োডিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য।
মানুষের দেহে আয়োডিনের পরিমাণ ১২-১৫ মিলিগ্রাম। শরীরের পুষ্টির জন্য আয়োডিন একটি অত্যাবশ্যকীয় লেশমৌল। দুই-তৃতীয়াংশ আয়োডিন থাকে থাইরয়েড গ্রন্থিতে।
রিপন তার ফুলে থাকা গলা নিয়ে স্কুলে যেতে অস্বস্তিবোধ করে। এছাড়া তার মধ্যে তোতলামি, আলসেমি, ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারা ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে। আয়োডিনের অভাবে তার উল্লিখিত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এজন্য তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।
উৎস- সামুদ্রিক মাছ, সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকার শাকসবজি ও পশুর মাংসে পাওয়া যায়।
কার্যকারিতা- আয়োডিন দেহে থাইরয়েড গ্রন্থিতে থাইরক্সিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। আয়োডিন যুক্ত এই হরমোন মানবদেহে বিভিন্ন কাজ করে থাকে। যেমন-
i. শিশুর দেহের স্বাভাবিক বর্ধনের জন্য আয়োডিন প্রয়োজন।
ii. এটি দেহের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
iii. মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিকাশে এটি সাহায্য করে।
রিপন আয়োডিনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত।
মানুষের দেহে আয়োডিনের পরিমাণ ১২-১৫ মিলিগ্রাম। শরীরের পুষ্টির জন্য আয়োডিন একটি অত্যাবশ্যকীয় লেশমৌল। দুই-তৃতীয়াংশ আয়োডিন থাকে থাইরয়েড গ্রন্থিতে। আয়োডিন শিশুর দেহের স্বাভাবিক বর্ধনের জন্য প্রয়োজন। আয়োডিন দেহের বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিকাশে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে রিপন তার ফুলে থাকা গলা নিয়ে স্কুলে যেতে অস্বস্তিবোধ করে। এছাড়া তার তোতলামি, আলসেমি, ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারার সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা আয়োডিনের অভাবে হয়ে থাকে।
খাদ্যে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে যে সমস্যাগুলো হয় তা হলো-
(১) গলগণ্ড বা গয়টার: আয়োডিনের অভাব হলে গলগণ্ড হয়। এ রোগে আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন তৈরি হতে পারে না। ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি হরমোন তৈরির জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করে বলে গ্রন্থিটি বড় হয়ে যায়। ফলে বাইরে থেকে গলা ফোলা দেখা যায়। এছাড়া এই রোগে বুদ্ধি ও চলনশক্তি হ্রাস, মানসিক অক্ষমতা, তোতলামি মাংসপেশির সংকোচন, স্নায়বিক দুর্বলতা এসব লক্ষণ প্রকাশ পায়।
(২) হাইপোথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা হ্রাস): দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী থাইরক্সিন হরমোন তৈরি না হলে এই অবস্থাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে। এর লক্ষণ হলো- আলসেমি, শুকনা চামড়া, ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পারা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি। এর প্রভাবে ছোট শিশুরা মানসিক প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয়।
(৩) ক্রেটিনিজম (হাবাগোবা ও বামনত্ব) দেখা দিতে পারে।
তাই বলা যায়, খাদ্যে আয়োডিনের অভাব থাকলে উক্ত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।
Related Question
View Allপ্রোটিন ছাড়া প্রাণীর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
প্রোটিনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাঙলে প্রথমে অ্যামাইনো এসিড পরবর্তীতে কার্বন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়।
বড় আকারের এক একটি প্রোটিনকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এসিড অণু পাওয়া যায়। প্রত্যেকটা অণুতে কমপক্ষে ১টি অ্যামাইনো দল (-NH2) ও ১টি কার্বক্সিল দল (-COOH) বিদ্যমান থাকে। এদেরকে অ্যামাইনো এসিড বলে।
সানার দেহে প্রোটিনের অভাবে উল্লিখিত সমস্যাগুলো হচ্ছে।
সানা তার সমবয়সীদের তুলনায় আকৃতিতে ছোট অর্থাৎ তার দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে এবং ওজন কমে গেছে। সে অল্পতেই রেগে যায় অর্থাৎ তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে। আবার তার চুলের রং ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। এগুলো প্রোটিনের অভাবজনিত লক্ষণ।
প্রোটিনের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে দেহকোষের গঠন ও বৃদ্ধি সাধন করা। আমাদের দাঁত, চুল, নখ থেকে শুরু করে দেহের অস্থি, পেশি সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। দেহের কোষ সবসময় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। নতুন কোষ গঠন করে ক্ষয়পূরণের কাজ করে প্রোটিন। এই প্রোটিনের অভাবে মানবদেহে বিভিন্ন রকমের অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দেয়, যা সানার মধ্যেও দেখা দিয়েছে।
ঘসানার শারীরিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় তার দেহে প্রোটিনের অভাব দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তার তাকে প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য সানার প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ প্রোটিন জাতীয় খাবার দেহ গঠন, বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে। মানসিক বিকাশের সময় প্রোটিনের অভাব হলে বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়। আর এই উপাদানের ঘাটতি যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তাহলে তার দেহে আরো বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন- হাত পা ফুলে গিয়ে মুখে পানি এসে কোয়াশিয়রকর (kwashiorkor) দেখা দিতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন প্রোটিন ও ক্যালরি উভয়েরই অভাব হলে ম্যারাসমাস (marasmus) দেখা দিতে পারে। এ রোগে শিশুরা খুবই শুকিয়ে যায়। অর্থাৎ পরবর্তী জটিলতা এড়ানোর জন্য এবং বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে ডাক্তারের পরামর্শটি অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য উপাদান হলো স্নেহ পদার্থ।
খাদ্য দেহ গঠন, বৃদ্ধি সাধন, ক্ষয় পূরণ, তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান করে। এছাড়া খাদ্য দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শরীরে এ সকল কাজগুলো সম্পাদন হওয়া জরুরি যা খাদ্যের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। তাই বলা যায়, খাদ্যই বেঁচে থাকার নিয়ামক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!