উদ্দীপকে রিপন সাহেবের কর্মকাণ্ডে যুক্তিবিদ্যার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। যুক্তিবিদ্যা হলো চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞান, যার মাধ্যমে অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করা যায়। যুক্তির সত্যতা বা বৈধতা যাচাই করার জন্য যুক্তিবিদ্যা নিয়ম প্রণয়ন করে। সত্যের আদর্শকে সামনে রেখেই যুক্তিবিদ্যা কতকগুলো সাধারণ নিয়ম প্রণয়ন করে।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী এবং যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞা অনুযায়ী বলা যায় যে, রিপেরে কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্তিবিদ্যার মিল রয়েছে। যুক্তিবিদ্যা যেমন বৈধ-অবৈধ যুক্তি পৃথক করে; তেমনি রিপন কোন কাজ দরকারী, কোনটি পরিহার্য তা পৃথক করতে পারে। বৈধ-অবৈধ যুক্তির পার্থক্য করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। রিপন সাহেব জানে যে ভালো বক্তৃতা দিতে কীভাবে দোষ-ত্রুটি, পরিহার করতে হয় তার নিয়ম-কানুন। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে রিপনের কর্মকাণ্ডে ভালো বক্তব্য দেওয়ার কৌশলের কথা বলা হয়েছে এবং বক্তব্যের বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি শনাক্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত যা যুক্তিবিদ্যার সাথে মিলে যায়।
Related Question
View Allভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে 'যুক্তিবিদ্যা' বলে।
দর্শন হলো জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ বা ভালোবাসা। জগৎ, জীবন সম্পর্কে সার্বিক আলোচনাই হলো দর্শন। দর্শন শুধু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অতীন্দ্রিয় জগৎ, সত্তা, যেমন- প্রাণ, স্রষ্টা, আত্মা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে থাকে। বিশ্ব জগতে এমন কোনো বিষয় নেই যা দর্শনের আলোচ্য বিষয় নয়।
উদ্দীপকে রিপন, স্বপনের মধ্যে যে ধরনের পার্থক্য আছে তা হলো নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার মধ্যে পার্থক্যের মতো।
যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞান। চিন্তার নিয়মাবলি নির্ণয় করে। যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা বিচার করে। যুক্তির সত্যতা বা বৈধতা নির্দেশের নিয়মাবলি প্রণয়ন করে। শুধু প্রণয়ন করে না, এর দ্বারা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে জ্ঞান অর্জন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে।
নীতিবিদ্যা হলো আদর্শ নিষ্ঠ বিজ্ঞান। সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। এখন আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে রিপন সাহেবের কার্যকলাপের সাথে যুক্তিবিদ্যার বিষয়গত মিল রয়েছে; স্বপন সাহেবের সাথে নীতিবিদ্যার কার্যাদির মিল পাওয়া যায়।
রিপন সাহেব বুঝতে পারে কোন কাজ দরকারি, কোন কাজটি পরিহারি; স্বপন তার কর্মকাণ্ডে সব সময় সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন। রিপন ভালো বক্তব্য দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে অবগত এবং বক্তৃতা করার সময় দূষণীয় বিষয়গুলো কীভাবে পরিহার করতে হয় তার কৌশল সম্পর্কে জানেন। যেমনভাবে যুক্তিবিদ্যায় বৈধ-অবৈধ যুক্তির মধ্যে পার্থক্যের কৌশল বর্ণিত আছে। অপর দিকে স্বপন পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন ও সৎ জীবনযাপন করেন যা নীতিবিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত।. সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, রিপনের কর্মকান্ডে যুক্তিবিদ্যার ছাপ পরিলক্ষিত হয় আর স্বপনের কর্মকাণ্ডে নীতিবিদ্যার ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
শিক্ষা হলো এমন বিষয় যার দ্বারা অভ্যাস, মনোভাব, ও দক্ষতার বিকাশ হয় এবং যা মানুষকে সফল জীবনযাপনে সহায়তা করে।
জীবন ও জগৎ সম্পর্কে সার্বিক আলোচনা করে থাকে দর্শন। জগৎ ও জীবন সম্পর্কে একটি বাস্তব, সুসংবদ্ধ ও যৌক্তিক, প্রায়োগিক ও যুগোপযোগী জ্ঞান প্রদান করাই হলো দর্শনের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। এটি জগৎ ও জীবন সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করে থাকে। নন্দনতত্ত্ব, নীতিবিদ্যা, গণিত, শিক্ষা, জগতের উৎপত্তি-ক্রমবিকাশসহ এমন কোনো দিক নাই যা দর্শন আলোচনা করে না। আর এ কারণে দর্শন জীবন ও জগতের সাথে সম্পৃক্ত।
উদ্দীপকে মিতার ম্যাডামের নান্দনিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। নন্দনতত্ত্ব হলো কলা সম্পর্কীয় বিজ্ঞান। এটি এমন বিষয় যার মধ্যে রয়েছে নান্দনিক ও আকর্ষণীয় দিক। এটি মানুষের অনুভূতিকে জাগ্রত করে ও উদ্দীপ্ত করে। এজন্য সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ কলাকে | ভালোবাসে। পোশাকে, আচার-ব্যবহারে, রুচিতে, চেহারায় যারা আদর্শ তাদের মধ্যে আলাদা আর্ট বা নান্দনিক দিক রয়েছে তা মানুষের মনকে উদ্দীপ্ত করে এবং মানুষ ঐ মডেলের পোশাক, বেশ-ভূষা, চলন-কথন আচার-আচরণ সকল তথা অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এর সবই নন্দনতত্ত্বের বিষয়। নন্দনতত্ত্ব অনুশীলনের ফলে মানুষের মনে, বুচিতে, চিন্তা-চেতনায় হয় মার্জিত ও চারিত্রিক গুণ ও বৈশিষ্ট্য হয় সংযত। সর্বপ্রথম এ্যারিস্টটল নন্দনতত্ত্বের কথা বলেন।
উদ্দীপকে আমরা মিতার ম্যাডামের নান্দনিকতার দিকটি দেখতে পাই। ম্যাডামের চাল-চলন, কথা-বার্তায়, সাজ-সজ্জায় নান্দনিকতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। যা মিতাকে মুগ্ধ করে এবং সে তা অনুকরণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!