পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা।
ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়। কেননা এটা ছিল বাঙালির প্রাণের দাবিসংবলিত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘোষণা।
ছয় দফার মধ্যে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয় যেগুলো স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। যেমন- ফেডারেল রাষ্ট্রের গঠন, সার্বভৌম প্রাদেশিক আইনসভা, আঞ্চলিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, প্রদেশের জন্য মিলিশিয়া বাহিনী গঠন ইত্যাদি। ছয় দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় একে একে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও সবশেষে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
জারিমার বাবা ছয় দফার অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের কথা স্মরণ করেই এ আন্দোলনকে বঙ্গবন্ধুর অনেক বড় 'কাজ বলে উল্লেখ করেছেন।
১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। কেননা এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালিরা ক্রমে ক্রমে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার পথে ধাবিত হতে পেরেছিল। স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসন ও অপশাসনের কবল থেকে পূর্ব বাংলার আপামর জনসাধারণকে মুক্ত করে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। ব্যাপক পরিসরে বলতে গেলে ছয় দফার ভিতরেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল। যেমন- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রদেশ বা অঞ্চলের দাবিসমূহ স্বাধীনসত্তা প্রতিষ্ঠারই ইঙ্গিত প্রদান করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেটি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিল। যার ফলশ্রুতিতে তারা ছয় দফা আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ছয় দফার দাবিসমূহ ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ছয় দফার এরূপ সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কথা চিন্তা করেই উদ্দীপকের রিমার বাবা এটিকে বঙ্গবন্ধুর বড় কাজ বলে উল্লেখ করেছেন।
পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে ছয় দফা দাবি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। যেমনটা উদ্দীপকের রিমার বাবা মনে করেন।
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছিল। এ অন্যায়- বৈষম্যমূলক শাসনের নাগপাশ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে মুক্ত করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা আন্দোলনের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসাধারণকে এতে যোগদানের উদাত্ত আহ্বান জানান। জনগণ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ছয় দফাকে তাদের অপশাসনের জন্য হুমকি স্বরূপ মনে করে আন্দোলনকারীদের দমন করার জন্য দমন-নিপীড়নমূলক কর্মসূচি শুরু করে। এতে জনসাধারণ আরো বেশি আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে আন্দোলনে এগিয়ে আসে। কার্যত ছয় দফা আন্দোলন বাঙালি জনসাধারণের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার স্ফুরণ ঘটিয়েছিল। জনগণ ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল এবং ছয় দফা যে তাদের বাঁচার দাবি সেটিও অনুধাবন করতে পেরেছিল। যার ফলশ্রুতিতে ছয় দফা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। একই সাথে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন আপামর জনসাধারণের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর এ ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ মেলে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ছয় দফা আন্দোলনের জনপ্রিয়তাই ৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল জয়ের কারণ।
Related Question
View All১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমা জিন্নাহকে COP-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয়।
জেনারেল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
মৌলিক গণতন্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ, তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), জেলা পরিষদ, বিভাগীয় পরিষদ এ চারটি স্তরে বিভক্ত ছিল। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০০০০ করে মোট ৮০০০০ নির্বাচনি ইউনিট নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। বিডি মেম্বারগণ বা মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খানকে ১৯৬০ সালে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়।
উল্লিখিত ছকে পাকিস্তানি আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। আর ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ২৯০০ জন।
আর ১৯৪৭ সালে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপকহারে চাকরি লাভ করে। তাছাড়া ১৯৬৬ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ১৩৩৮ ও ৩৭০৮ জন এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ২৬৩১০ ও ৮২৯৪৪ জন।
এ বিষয়গুলোতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
ছকে বর্ণিত বৈষম্য তথা প্রশাসনিক বৈষম্য বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ নয় বলে আমি মনে করি।
প্রশাসনিক বৈষম্য ছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের আরো অনেকগুলো বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। লাহোর প্রস্তাবে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও পাকিস্তানি শাসকেরা প্রথম থেকেই এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে। তারা ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে এবং ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। এছাড়া সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য। ১৯৫৫ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীর মোট ২২১১ জন কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ৮২ জন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব পাকিস্তানের সকল আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। তাছাড়াও শিক্ষা, সামজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর বৈষম্যের স্টিম রোলার চালিয়েছিল।
এসব বৈষম্যের শিকার হয়েই বাঙালি স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৬৯ সালের আসাদ হত্যার প্রতিবাদ মিছিলে মতিউর নিহত হয়।
আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ২৪ জানুয়ারি তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। আবারও পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!