নতুন লোহার দাগ কাগজি লেবুর রস দিয়ে অপসারণ করা যায়।
পোশাক ধৌতকরণের পরবর্তী পর্যায়ের কাজ হলো কাপড়ে কিছুটা কাঠিন্য ও চকচকে ভাব আনা। পোশাকে কাঠিন্য আনার জন্য যা কিছু ব্যবহার করা হয় তা স্টার্চ বা শ্বেতসার জাতীয় পদার্থ। যেমন- মাড়, এরারুট।
পোশাক-পরিচ্ছদে অবাঞ্ছিত চিহ্নকেই দাগ বলে। বস্ত্র ধোয়ার আগে দাগ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী অপসারণ করা প্রয়োজন। নতুবা উক্ত দাগ স্থায়ী হয়ে যায় এবং অন্য বস্ত্রে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রিমি সুতি কাপড় ব্যবহার করেন। তাতে রক্তের দাগ লেগে যায়। এক্ষেত্রে তিনি মৃদু অপসারক ব্যবহার করেন। সুতি বস্ত্রে রক্তের দাগ লাগলে দাগযুক্ত স্থানটি কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। রিমিও ঠাণ্ডা পানিতে কাপড়টি ভিজিয়ে রাখেন। তারপর মৃদু সাবান গোলা পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করেন। কিন্তু দাগ যদি পুরানো হয় তবে লঘু অ্যামোনিয়ার দ্রবণে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুতে হয়।
এভাবে রিমি রক্তের দাগ অপসারণ করলেন।
দাগ অপসারণে রিমি ও রিতার মধ্যে রিমির পদ্ধতিটি সঠিক বলে আমি মনে করি।
রিমির কাপড়ে দাগ পড়লে তা অপসারণের চেষ্টা করেন। কাপড়ের প্রকৃতিভেদে ও দাগের উৎস দেখে তিনি কাপড় থেকে দাগ অপসারণের বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালান। এক্ষেত্রে কালির দাগ অপসারণে রিমি সঠিক পদ্ধতিটি অবলম্বন করেন।
রিমির কালির দাগ অপসারণের জন্য রিতা হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ব্যবহার করতে বললেন, যা সঠিক নয়। কালির দাগ অপসারণে প্রয়োজন মেথিলেটেড স্পিরিট, তুলার গোল বল, লঘু অক্সালিক অ্যাসিড যা রিমা ব্যবহার করেছেন। দাগ বরাবর কাপড়ের নিচে ব্লটিং পেপার রেখে দাগযুক্ত স্থানে মেথিলেটেড স্পিরিট ও তুলার গোল বল দিয়ে স্পঞ্জ করে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে তিনি কালির দাগটি তুলে ফেলেন।
তাই বলা যায়, রিমির পদ্ধতিটি সঠিক।
Related Question
View Allরেশম তন্তুর তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে হালকা মাড় বেশি উপযোগী।
কাপড়ে কাঠিন্য ও চকচকে ভাব আনার জন্য এতে মাড় দেওয়া হয়। মাড় ব্যবহারের ফলে পোশাকের চাকচিক্য ও ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। পরিমাণমতো এবং সঠিক নিয়মে মাড় দিলে নরম পোশাকে কাঠিন্য ও নতুনত্ব ফিরে আসে। এছাড়া কাপড়ে মাড় থাকলে তা ময়লা লাগায় বাধার সৃষ্টি করে।
সায়মার জামার মেহেদীর দাগ অপসারণের জন্য হালকা গরম পানি ঐ দাগ বরাবর ধীরে ধীরে একটু উপর থেকে ঢালতে হবে। এরপর দাগের ওপর সাবান দিয়ে, সামান্য ঘষে নিতে হবে। দাগ হালকা না হওয়া-পর্যন্ত ঘষতে হবে। এক্ষেত্রে পুরানো টুথব্রাশ ব্যবহার করা যায়। এরপর গ্লিসারিন ও সাদা ভিনেগার দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
মেহেদীর দাগ তোলার ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কিংবা বোরাক্স পাউডারও ব্যবহার করা যায়। কৃত্রিম তন্তুর কাপড়ে মেহেদীর রং লাগলে তা উঠাতে ভিনেগার ভালো কাজ করে। এভাবে সায়মা তার পোশাকের মেহেদীর রং অপসারণ করবেন।
পোশাক পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সায়মা যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না।
দাগ তোলার আগে কাপড়ের তন্তুর প্রকৃতি ও দাগের উৎস জানতে হবে। সায়মা মাথায় মেহেদী দেওয়ার আগে পরিধেয় পোশাকটি যাতে নষ্ট না হয় এজন্য আলাদা কোনো অ্যাপ্রোন বা ওড়না ব্যবহার করেন নি। এমনকি দাগ লেগে যাওয়া কাপড়টি আলাদা না রেখে তার সাথে একটি সাদা সুতি শাড়ি ও অধিক ময়লাযুক্ত বিছানার চাদরটিও ভিজিয়ে রাখেন। এতে করে জামা থেকে মেহেদীর রং সাদা সুতি কাপড়ে লেগে যায়। তাছাড়া কম ময়লাযুক্ত ও অধিক ময়লাযুক্ত কাপড়ও তিনি আলাদা করে ধুয়ে দেননি।
কাপড়ে রং লাগলে যে উপায় অবলম্বন করা হয় তিনি তা না করে সব কাপড়ের জন্য একই ডিটারজেন্ট পাউডার ব্যবহার করেছেন। সাদা সুতির শাড়িতে সহজেই অন্য কাপড় থেকে ময়লা লেগে দাগ স্থায়ী হতে পারে তাও তিনি জানেন না।
এ সকল দিক বিবেচনা করে বলা যায় যে, পোশাকের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সায়মা যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না।
বল পয়েন্ট কলমের দাগ তুলতে মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়।
কাপড়ে যেকোনো ধরনের দাগ পড়লে তা দ্রুত অপসারণ করা না হলে স্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। তাছাড়া ধোয়ার আগে কাপড়ের দাগ অপসারণ করে না নিলে তা অন্য বস্ত্রে লেগে যেতে পারে। তাই কাপড় ধোয়ার পূর্বে পোশাকের দাগ অপসারণ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!