বাংলাদেশের কৃষির ক্ষেত্রসমূহ হলো- শস্য, প্রাণিসম্পদ (গবাদিপশু, পোল্ট্রি), মৎস্য এবং বন।
কৃষি বনায়ন হচ্ছে এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একই ভূমিতে বৃক্ষ, ফসল, পশু ও পশুখাদ্য উৎপাদন করা হয়। এ পদ্ধতিতে উপাদানসমূহ একে অন্যের উৎপাদনকে ব্যাহত করে না, পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। যশোর, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর জেলার আবাদি জমির মধ্যে খেজুর, তাল, বাবলা ইত্যাদি গাছ কৃষিবনের জ্বলন্ত উদাহরণ।
উদ্দীপকে রিয়াদ তার জমিতে ভুট্টা চাষ করে, যা মাঠ ফসলের অন্তর্ভুক্ত। ব্যবহারের ভিত্তিতে মাঠ ফসল বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যেমন-
i. দানা খাদ্য ফসল: গ্রামিনি পরিবারভুক্ত যেসব ফসলের দানা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে দানা খাদ্য ফসল বলে। যেমন- ধান, গম ইত্যাদি।
ii. তেলবীজ ফসল: এসব ফসলের বীজ হতে তেল পাওয়া যায়। যেমন-সরিষা, তিল ইত্যাদি।
iii. ডাল ফসল: শিম জাতীয় এসব মাঠ ফসলের বীজ ডাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেমন- মসুর, মুগ ইত্যাদি।
iv. চিনি উৎপাদক ফসল: এই ফসলগুলো হতে চিনি ও গুড় উৎপাদন করা হয়। যেমন- আখ, খেজুর ইত্যাদি।
v. আঁশ জাতীয় ফসল: যেসব ফসল হতে আঁশ পাওয়া যায় তাকে আঁশ জাতীয় ফসল বলে। যেমন- পাট, তুলা ইত্যাদি।
vi. পানীয় ফসল: পানীয় দ্রব্য উৎপাদন করতে এসব ফসল ব্যবহৃত হয়। যেমন- চা, কফি ইত্যাদি।
vii. নেশা জাতীয় ফসল: এসব ফসল নেশা জাতীয় পদার্থ উৎপন্ন করার জন্য আবাদ করা হয়। যেমন- তামাক, গাঁজা ইত্যাদি।
viii. পশুখাদ্য ফসল: যেসব ফল বা ফসলের কোনো অংশ পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে পশুখাদ্য ফসল বলে। যেমন- দূর্বা ঘাস, নেপিয়ার ঘাস ইত্যাদি।
ix. সবুজ সার ফসল: মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সবুজ সার উৎপাদনের জন্য এসব ফসল ব্যবহৃত হয়। যেমন- ধৈঞা, কাউন ইত্যাদি।
X. শিল্প বা বাণিজ্যিক ফসল: কারখানার কাঁচামাল যোগান দিতে যেসব ফসল উৎপাদন হয় সেগুলোকে শিল্প বা বাণিজ্যিক ফসল বলে। যেমন- আখ, রাবার ইত্যাদি।
অতএব, শস্যের ধরন অনুযায়ী মাঠ ফসলকে উপরিউক্ত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
উদ্দীপকের রিয়াদের উৎপাদিত ভুট্টা হলো মাঠ ফসল এবং রহিমের উৎপাদিত গ্লাডিওলাস হলো উদ্যান ফসল। মাঠ ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে, বিভিন্ন উচ্চতার জমিতে সমষ্টিগত পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করা হয়ে থাকে। অপরদিকে উদ্যান ফসল সাধারণত ছোট জমিতে বা বাগানে (বন্যামুক্ত উঁচু জমিতে) নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ করা হয়। নিচে মাঠ ফসল ও উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
i. মাঠ ফসল বড় আয়তনের জমিতে চাষ করা হয়। উদ্যান ফসল সাধারণত বাড়ির আশেপাশে বা ছোট জমিতে চাষ করা হয়।
ii. মাঠ ফসল চাষের প্রয়োজনীয় জমি নিচু, মাঝারি নিচু ও মাঝারি উঁচু হতে হয়। উদ্যান ফসলের জন্য জমি মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু হতে হয়।
iii. মাঠ ফসলগুলো সাধারণত একবর্ষজীবী হয় (ব্যতিক্রম- চা)। উদ্যান ফসল এক, দ্বি বা বহুবর্ষজীবী হতে পারে।
iv. মাঠ ফসলগুলোর যত্ন সমষ্টিগতভাবে নেওয়া হয়। উদ্যান ফসলের যত্ন এককভাবে নিতে হয় (ব্যতিক্রম-শাক, মশলা ফসল)।
V. মাঠ ফসলের জমিতে বেড়ার প্রয়োজন পড়ে না। উদ্যান ফসলের জমিতে বেড়া দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
vi. মাঠ ফসলের বীজ ছিটিয়ে বা লাইনে রোপণ করা হয়। উদ্যান ফসলের বীজ লাইন বা গর্ত করে রোপণ করতে হয়।
vii. মাঠ ফসলগুলো সব একত্রে পরিপক্ক হয় ও সংগ্রহ করা হয় (ব্যতিক্রম- তুলা)। উদ্যান ফসল একসাথে পরিপক্ক হয়না, তাই ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা হয় (ব্যতিক্রম-আলু, পিঁয়াজ, মশলা ফসল)।
viii. মাঠ ফসল সাধারণত প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয়। উদ্যান ফসল তাজা অবস্থায় খাওয়া হয়ে থাকে।
ix. মাঠ ফসলের উৎপাদন ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে উদ্যান ফসলের থেকে বেশি।
X. মাঠ ফসলের মূল্য মৌসুমের শুরুতে কম থাকে। উদ্যান ফসলের মূল্য মৌসুমের শুরুতেই বেশি থাকে।
অর্থাৎ, মাঠ ও উদ্যান ফসলে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
Related Question
View Allবঙ্গোপসাগরে ও উপকূলীয় এলাকায় অর্থাৎ লোনা পানিতে যেসব মাছ বাস করে সেগুলোকে লোনা পানির মাছ বলে।
মাটির গুণগতমান উন্নয়নের জন্য গাছে ফুল আসার পূর্বে লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদ চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে যে সার তৈরি করা হয় তাকে সবুজ সার বলে।
ধৈঞ্চা ও শনপাট জমিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ যোগ করে। ধৈঞ্চা গাছের শিকড়ে নডিউল সৃষ্টি হয় যা মিথোজীবী প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে ফসলের গ্রহণোপযোগী করে তোলে। তাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ধৈঞ্চা ও শনপাটকে জমিতে সবুজ সার হিসেবে উৎপাদন করা হয়।
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত ফসল হলো মাঠ ফসল। যে সকল ফসল সাধারণত উন্মুক্ত মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য হলো-
i. সাধারণত বড় জমিতে চাষ করা হয়।
ii. মাঠের সমস্ত ফসলকে একত্রে বা সমষ্টিগতভাবে যত্ন নেওয়া হয়।
iii. তুলনামূলকভাবে কম যত্নের প্রয়োজন হয়।
iv. মাঠের সমস্ত ফসল একত্রে পরিপক্ক হয় বলে একত্রে সংগ্রহ করতে হয় (ব্যতিক্রম- তুলা)।
v. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না (ব্যতিক্রম- রাস্তার পাশের জমি)।
vi. মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকে।
vii. সেচ না দিয়েও অনেক ফসল চাষ করা যায়।
viii. একবর্ষজীবী ফসল (ব্যতিক্রম- চা)।
ix. নিচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চাষ করা হয়।
Χ. ফসলের উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি বেশি।
xi. ফসল শুকিয়ে মাড়াই করে ব্যবহার করা হয় (ব্যতিক্রম- পাট, আখ ইত্যাদি)।
xii. আকারে খাটো ও ছোট হয় (ব্যতিক্রম- আখ, পাট, ভুট্টা ইত্যাদি)।
অর্থাৎ মাঠ ফসলের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে কৃষি শিক্ষকের বর্ণিত বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, গবাদিপশু, পোল্ট্রি, সামাজিক বনায়ন ও মৎস্য।
বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে সম্পর্কিত। কৃষি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার প্রসার ঘটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করে। নিচে বাংলাদেশের মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রায় উপরে বর্ণিত উপাদানসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
i. খাদ্যের সিংহভাগ আসে কৃষি হতে। যেমন- চাল, ডাল, গম, শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি।
ii. কৃষি হলো বস্ত্র তৈরির প্রধান কাঁচামালের উপাদান যেমন- পাট, তুলা, রেশম ইত্যাদির উৎস।
iii. গৃহ নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন- কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপাতা প্রভৃতির উৎস হলো কৃষি। আসবাব তৈরির মূল উপকরণ আসে বন হতে।
iv. বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, মরফিন, কোকেন এবং রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ভিদ হতে প্রস্তুত করা হয়।
V. শিক্ষার উপকরণ যেমন- কাগজ, পেন্সিল ইত্যাদি আসে কৃষির উপাদান হতে।
vi. জ্বালানি হিসেবে বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা ইত্যাদি গৃহস্থালির কাজে ও ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি হতে আসে।
vii. এ দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৪০.৬ ভাগ কৃষি হতে আসে।
viii. বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ১১% কৃষিজ পণ্য রপ্তানির ফলে আসে।
ix. মাছের চর্বি, কাঁটা, হাড় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবৃহত হয়।
x. মাছের কাঁটা, আঁইশ, বিষাক্ত মাছ ইত্যাদি শুকিয়ে গুঁড়া করে সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করলে ফসফরাসের অভাব দূর করা যায়।
অতএব, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় উদ্দীপকের উপাদানসমূহের গুরুত্ব অনেক।
ই-বুক হলো এক ধরনের ইন্টারএকটিভ ডিজিটাল বই যাতে কোনো বিষয়ে টেক্সট কনটেন্টের সাথে অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদিও সমন্বিত আকারে থাকে।
স্বল্প পরিসরে প্রতিটি উদ্ভিদের আলাদা যত্ন করার মাধ্যমে বাগানে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে উদ্যান ফসল বলে। ফুল, ফল, শাকসবজি ও মসলাজাতীয় ফসল উদ্যান ফসলের অন্তর্ভূক্ত। সাধারণত বসতবাড়ি সংলগ্ন উঁচু জমিতে উদ্যান ফসলের আবাদ করা হয়। আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উদ্যান ফসল থেকে। উদ্যান ফসল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!