বায়ুর স্বাভাবিক গঠন পরিবর্তন ও বায়ুতে ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থের সংমিশ্রণ ঘটলে তাকে বায়ু দূষণ বলে।
বন ধ্বংস করলে বায়ু দূষিত হয়।.
ব্যাখ্যা: গাছপালা কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে এতে বায়ুতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য ঠিক থাকে। কিন্তু বন ধ্বংস করলে CO₂ গ্রহণের হার কমে যায়। ফলে বায়ুতে কার্বন ডাইাক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। এতে বায়ু দূষিত হয়।
রিয়াদ বায়ু দূষণের জন্য যত্রতত্র ফেলে রাখা আবর্জনা ও যেখানে সেখানে প্রস্রাব করাকে চিহ্নিত করেছিল। এছাড়াও অন্যান্য নানা কারণে বায়ু দূষিত হয়।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বায়ু দূষণের জন্য কতকগুলো কারণ উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. যানবাহন, শিল্পকারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া। যার মধ্যে রয়েছে কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস।
২. ইটের ভাটার কালো ধোঁয়া।
৩. ত্রুটিপূর্ণ মোটর গাড়ি, রেলগাড়ি, বাস, টেম্পো ইত্যাদির ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়ার সাথে নির্গত হওয়া কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন কণা এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড।
৪. সিগারেটের ধোঁয়া, এসবেস্টস, বিভিন্ন, ধরনের আবর্জনাসহ রান্নার গ্যাস ইত্যাদি।
৫. বায়ু দূষণের আরও একটি অন্যতম কারণ হলো নির্বিচারে বনজঙ্গল কেটে ফেলা।
উপরের কারণগুলো রিয়াদের চিহ্নিত কারণগুলো ব্যতীত বায়ু দূষণের অন্যান্য কারণ।
উদ্দীপকে আলোচিত দূষণ হলো বায়ু দূষণ। বিভিন্নভাবে বায়ু দূষিত হয়। বায়ু দূষিত হলে সে বায়ুতে বিভিন্ন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এসব ক্ষতিকর গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড ইত্যাদির নাম উল্লেখযোগ্য। বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে শুরু করে ক্যান্সার এর মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। এছাড়াও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে মিশে গিয়ে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি হতে পারে। এ এসিড বৃষ্টি শুধু মানুষের ক্ষতিই করে না, জলজ প্রাণীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে বনভূমিও ধ্বংস হয়।এসব ছাড়াও বায়ু দূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি অব্যাহত থাকে তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে পৃথিবীর সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু স্থলভূমি পানিতে ডুবে যাবে। আবার কোনো কোনো অঞ্চল খরার কবলে পড়বে। ফলে স্থানীয় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটবে। এতে শুধু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
Related Question
View Allনাইট্রোজেন ও সালফারের অক্সাইডসহ বিভিন্ন অক্সাইড বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পানিকে এসিডযুক্ত করে। এ এসিডযুক্ত পানি ভূপৃষ্ঠে বৃষ্টিরূপে পতিত হলে তাকে অম্ল বা এসিড বৃষ্টি বলে।
প্লাস্টিক দীর্ঘদিন যাবৎ মাটিতে পড়ে থাকলে তা পচে নাবা মাটিতে মিশে না। এতে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। এছাড়া মাটির পানি ধারণ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এসব কারণেই প্লাস্টিক মাটির জন্য ক্ষতিকর।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, নদীর তীরবর্তী কলকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। আবার নৌযান থেকে নদীতে তেল নির্গত হচ্ছে। এ দুটি ঘটনাই নদীর পানিকে দূষিত করছে। এ দূষণের ফলে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ দূষিত পানিতে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারছে না। একই সাথে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ হারাচ্ছে। পানি দূষিত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ পতঙ্গ মারা যায়।
উদ্দীপকের নদীটিতে কলকারখানার বর্জ্য এবং যানবাহন থেকে নির্গত তেল নদীর পানির সাথে মিশে নদীর পানিকে দূষিত করছে। এতে নদীর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। নদীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে-
১. আবর্জনা ও নর্দমার জঞ্জালসমূহ নদীতে গড়িয়ে পড়ার আগে শোধন করতে হবে।
২. জীবজন্তুর মৃতদেহ পানিতে পচে পানি যাতে দূষিত হতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
৩. শিল্প ও কল-কারখানার বর্জ্য পদার্থ পানিতে পড়ার আগেই তা দূষণমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার হতে তেল যাতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
৫. প্লাস্টিক, পলিথিন ও রাবার নদীতে ফেলা যাবে না।
৬.কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. নদীতে ফেলা ও জমা হওয়া আবর্জনা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নদীতে যেকোনো আবর্জনা ফেলা রোধ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. জনগণকে দূষণের ক্ষতিকারক দিক ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের, যেসব পরিবর্তন মানুষ ও উদ্ভিদসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর তাই দূষণ।
পানির সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার হচ্ছে পানি আমরা পান করি। কিন্তু দূষিত পানি পান করলে আমাশয়, ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ হয়। পানি দূষিত হলে সে পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বাঁচতে পারে না। ফলে পানির পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এজন্য পানি দূষণ ক্ষতিকর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!