রুগ্ম ছেলের শিয়রে বসিয়া একেলা জাগিছে মাতা, 

করুণ চাহনি ঘুম ঘুম যেন ঢুলিছে চোখের পাতা। 

শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে, 

তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে। 

ভন ভন ভন জমাট বেঁধেছে বুনো মশকের গান 

এঁদো ডোবা হতে বহিছে কঠোর পচান পাতার ঘ্রাণ। 

ছোট কুঁড়েঘর, বেড়ার ফাঁকেতে আসিছে শীতের বায়ু, 

শিয়রে বসিয়া মনে মনে মাতা গণিছে ছেলের আয়ু।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

কবি জসীমউদ্দীনের গ্রামের নাম তাম্বুলখানা।

উত্তরঃ

উল্লিখিত চরণে আসমানির শারীরিক অসুস্থতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

হতদরিদ্র আসমানিরা থাকে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। তাদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুরে শেওলা-পানা ও ব্যাঙের ছানায় পরিপূর্ণ। অত্যন্ত নোংরা সে পুকুরের পানি। ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী মশা সেখানে বংশবিস্তার করে। সেই পুকুরের দূষিত পানি খাওয়া এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করার জন্য অসুখ তাদের লেগেই থাকে। পেটের পীড়া, ম্যালেরিয়া জ্বরে সে প্রতিদিনই।
ভোগে উদ্ধৃতি চরণে এটাই বোঝানো হয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সঙ্গে 'আসমানি' কবিতায় প্রকাশিত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

মানুষ অভাবে পড়লে তার অপছন্দের কাজ করতেও বাধ্য হয়। খাবার সংগ্রহের চিন্তায় থাকলে কোনো ব্যক্তিই পরিবেশের ওপর লক্ষ রাখতে পারে না। বনের পশুও যেখানে থাকতে চায় না, মানুষ সেখানে থাকতে বাধ্য হয়।

উদ্দীপকে এক দরিদ্র পল্লিজননীর দুর্দশার চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। ছেলের অসুখে তিনি ছোট কুঁড়েঘরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বাড়ির পাশে রয়েছে নোংরা ডোবা। সেখান থেকে পচা পাতার গন্ধ আসে, বুনো মশা জ্বালাতন করে। এই চিত্র 'আসমানি' কবিতায়ও দেখা যায়। আসমানিদের পাখির বাসার মতো ছোট ঘরটিও নোংরা পদ্ম-পুকুরের কাছে। সেখানে ব্যাঙের ছানা, ম্যালেরিয়ার মশা, শেওলায় ভরপুর। কবিতার এই বিষয়টির সঙ্গেই উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'আসমানি' কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। অভাবের তাড়নায় তারা মৌলিক চাহিদাগুলোও পূরণ করতে পারে না।

উদ্দীপকে এক দুঃখিনী পল্লিজননীর মর্মবেদনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে তিনি জেগে আছেন সারারাত। অভারের জন্য ছেলের ওষুধ-পথ্য দিতে পারেননি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সময়টি আরও অসহনীয় হয়ে পড়েছে। এ বিষয়টি 'আসমানি' কবিতায়ও উপস্থিত। কিন্তু এটুকুই কবিতার সমস্ত বিষয় নয়। এটা ছাড়াও কবিতায় নানাবিধ ভাব ও বিষয় উঠে এসেছে।

'আসমানি' কবিতায় দারিদ্র্যের চরম নিষ্ঠুর দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। অভাবের তাড়নায় আসমানিরা অনাহারে থাকে। পাখির বাসার মতো ছোট 'ঘরে ঝড়-বৃষ্টি হলে চরম দুর্দশায় পড়তে হয়। খেতে না পেয়ে মুখের হাসি অনেক আগেই মিলিয়ে গেছে তার। বাঁশির মতো গলার সুরটি কেঁদে কেঁদে ক্ষয় হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে তারা সারা বছরই নানা রোগে ভোগে। অথচ ওষুধ খাওয়ার পয়সা জোটে না। দারিদ্র্যের এসব চিত্রের অংশবিশেষ উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে, সম্পূর্ণটা নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

122

আসমানি

জসীমউদ্‌দীন

আসমানিরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা- ভেন্না পাতার ছানি
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানিরা থাকে বছর ভরে।

পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক'খান হাড়,
সাক্ষী দেছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি,
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি।
পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালি তার গার বরনের করছে উপহাস।
ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশির মতো সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয়নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।

আসমানিদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে,
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল-বিল-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে
সেই জলেতে রান্না খাওয়া আসমানিদের চলে।
পেটটি তাহার ফুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।

Related Question

View All
উত্তরঃ

প্রশ্নোক্ত চরণ দুটি দ্বারা দারিদ্র্যের কশাখাতে জর্জরিত আসমানির বিপর্যস্ত রূপটি প্রকাশিত হয়েছে।

আসমানি দরিদ্র পরিবারের একটি বালিকা। অভাবের তাড়নায় সে পেট ভরে কখনো খেতে পায় না। অনাহারে থাকতে থাকতে শীর্ণ শরীরের হাড় গুনে বের করা যায়। তার মুখের মিষ্টি হাসিটুকু নিভে গেছে অভাবের হিংস্র থাবায়। প্রশ্নোক্ত চরণ দুটিতে এ ভাবই বোঝানো হয়েছে।

444
উত্তরঃ

আসমানিদের ঘরের সাথে লালচাঁন মিয়ার ঘরটির সাদৃশ্য রয়েছে।

দারিদ্র্য মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় আভিশাপ। আমাদের বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যপীড়িত। অভাবের যন্ত্রণায় তারা দিশেহারা। অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে তারা হিমশিম খায়। বাসস্থান তাই তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে।

কবিতার আসমানি এবং উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়া অভাবের তাড়নায় দিশেহারা। আসমানিদের ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ। সেটা এত ছোট যে তাকে পাখির বাসা বলে মনে হয়। নড়বড়ে খুঁটির উপর ভেন্না পাতার ছাউনি দেওয়া। একটুখানি বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। সামান্য হাওয়ায় নড়বড় করে। উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়ার ঘরও আসমানিদের ঘরের মতো জীর্ণ-শীর্ণ। তাদের একটি মাত্র ঘরের ছাউনি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে। এখানেই আসমানিদের ঘরের সাথে লালচাঁন মিয়ার ঘরের সাদৃশ্য দেখা যায়।

246
উত্তরঃ

"লালচাঁন মিয়ার মতো মানুষগুলোর অভাব যেন পিছু ছাড়ে না"- উক্তিটি 'আসমানি' কবিতার আলোকে তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

অভাব মানুষের মনুষ্যত্ববোধ ধ্বংস করে। ।। দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনের স্বপ্ন, আশা, শুভবুদ্ধি অভাবের তাড়নায় শেষ হয়ে যায়। এই অভিশাপের বরুিদ্ধে যুদ্ধ করতে করতেই তাদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। পরের জমি বর্গা করে কোনোরকমে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু দুবছরের বন্যা ও খরায় জমিতে ফসল ফলাতে পারে না। পরিবারের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান সে করতে পারে না। লালচাঁন মিয়ার মতো অসংখ্য মানুষ এদেশে রাত-দিন অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে কিন্তু অভাব তাদের পিছু ছাড়ে 'না। এই দৃশ্য 'আসমানি' কবিতায় দারিদ্র্যপীড়িত আসমানিদের বর্ণনার মাধ্যমে কবি তুলে ধরেছেন।

'আসমানি' কবিতায় অসমানিরা দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত। অভাবের তাড়নায় তারা তাদের খাবার পর্যন্ত জোগাড় করতে পারে না। খেতে না পেয়ে বুকের হাড় জেগে উঠেছে। পাখির বাসার মতো ঘরটি ভেঙে পড়ার উপক্রম। অসুখের সময় ওষুধ-পথ্য জোটে না। শত চেষ্টা করেও অভাবের হাত থেকে তারা রেহাই পায় না। যেমন পায় না উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়ার মতো মানুষেরা। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি উদ্দীপক ও 'আসমানি' কবিতার আলোকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

176
উত্তরঃ

শক্ত ও মজবুত না হওয়ায় আসমানিদের বাড়িকে 'পাখির বাসা' বলা হয়েছে।

'আসমানি' কবিতায় আসমানিদের দরিদ্রতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি বলেছেন, তারা যে বাড়িতে থাকে সেটা আসলে বাড়ি নয়,। যেন পাখির বাসা। পাখির বাসা যেমন সামান্য ঝড়ে নড়বড় করে, পানিতে ভিজে যায়, আসমানিদের বাড়িটি তেমনই। আসমানিদের বাড়িটি ভেন্না পাতা দিয়ে ছাউনি দেওয়া। বৃষ্টি হলেই চাল দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, আর সামান্য ঝড় হলেই ঘর নড়বড় করে। এ কারণেই আসমানিদের বাড়িকে 'পাখির বাসা' বলা হয়েছে।

189
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews