বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১১৭১ জন লোক বাস করে।
একটি দেশের যে সমস্ত জনগণ দক্ষ ও কর্মঠ তাদেরকে ঐ দেশের জনসম্পদ বলে। পক্ষান্তরে, যেসব জনগণ শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কাজের যোগ্যতার অভাবে প্রয়োজনীয় উপাদানসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম তাদেরকে অদক্ষ জনগণ বলা হয়। আর ওই সমস্ত অদক্ষ জনগণকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের মধ্যে দিয়ে জনসম্পদে রূপান্তর করা হয়। অতএব জনসংখ্যা ও জনসম্পদ পরস্পর সম্পর্কিত ধারণা।
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যাটি হলো জনসংখ্যার বৃদ্ধিজনিত সমস্যা। বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যাসমূহের মধ্যে জনসংখ্যা সমস্যা অন্যতম। আর এ সমস্যা সমাধানে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাস্বরূপ জনসংখ্যা নীতি গ্রহণ করেছে। সাধারণত একটি দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য যে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয় তাকে জনসংখ্যা নীতি বলে। এ নীতির লক্ষ্য হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনমানের উন্নতি এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সরকারের জনসংখ্যা নীতির আওতায় মানুষের কাছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবার-পরিকল্পনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, শিশু ও নারীর অপুষ্টির হার কমিয়ে আনা, সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও ওষুধের ব্যবস্থা ও প্রসূতিদের নিরাপদে সন্তান জন্মদানের সুযোগ সৃষ্টি করা, সর্বত্র ও সকলের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মৃত্যুহার কম হলে জন্মহারও কম হয় তাই সকলের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া জনসংখ্যা নীতির অন্যতম লক্ষ্য।
না, আমি মনে করি উক্ত সমস্যা তথা জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়।
জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে সরকার আর বেসরকারি উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যেমন কমিউনিটিভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পরিবার ছোট রাখার ব্যাপারে পরামর্শ ও শিক্ষা দেয়। পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, টিকা, ইনজেকশন ও পুষ্টি বিষয়েও সেবা প্রদান করে থাকে। বেসরকারি এসব সংস্থা আবার দেশে বাল্যবিবাহ রোধ করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবিলায় বেসরকারি সংস্থাগুলো জনগণকে সচেতন করার জন্য নানা উপকরণ তৈরি ও ব্যবহার করে।
যেমন: পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সাময়িকী, পোস্টার, ক্যালেন্ডার, চার্ট, নিউজলেটার, ডকুমেন্টারি ফিল্ম ইত্যাদি। সুতরাং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে একমাত্র সরকারি উদ্যোগকেই যথেষ্ট বলা যায় না। কারণ সরকারি উদ্যোগ ছাড়াও নানা ধরনের বেসরকারি সংস্থা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে কাজ করছে।
Related Question
View Allউন্নয়ন শব্দটি অগ্রগতি বা বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন এমন একটি প্রক্রিয়া যা বৃদ্ধি সৃষ্টি করে, অগ্রগতি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সাধারণত, উন্নয়ন শব্দটি ইতিবাচক পরিবর্তনকে বর্ণনা করে।
মানবিক ভূগোলের একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো জনসংখ্যা। কোনো দেশের নারী-পুরুষ মিলে যে মোট লোকসংখ্যা হয় তাকে ওই দেশের জনসংখ্যা বলে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডের একক জনগোষ্ঠীকে ওই ভূখণ্ডের জনসংখ্যা বলে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।
অর্থাৎ মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৭১ জন লোক বাস করে এবং মাথাপিছু আয় ২৭৮৪ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪)।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬ জন লোক বাস করে এবং তাদের মাথাপিছু আয় ৮১,৬৯৫ মার্কিন ডলার (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ২০২৩)।
একটি দেশ ভবিষ্যতে কতটা উন্নতি করবে তা দেশটির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও তার জনসংখ্যানীতির কার্যকর প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল এবং উন্নয়নশীল দেশের বেলায় কথাটা আরও বেশি সত্যি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!